Advertisement

মন্ত্রীদের অতিকথন বন্ধ করুন: হেফাজত


প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হেফাজতের নেতারা বলেন, “আপনার সরকারের কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্ত্রীদের অতিকথন বন্ধ করুন। নইলে আপনাদের আম ও ছালা দুটোই হারানোর
আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে চার সিটি নির্বাচনে জনগণ আপনাদের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে রায় দিয়েছে।” হেফাজতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও নেতাদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি বন্ধ না হলে আগামি দিনে আরো করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তারা।
সংসদে সোমবার অর্থমন্ত্রীর দেয়া ‘হেফাজতের তাণ্ডবে সাড়ে ২৪ কোটি টাকার ক্ষতি’ বক্তব্যের প্রতিবাদে এই সতর্কবার্তা দেন হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের নেতারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা এই বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে ৫ মে ‘মধ্যরাতে সাঁড়াশি অভিযানের নামে ঘুমন্ত ও জিকিররত জনতাকে গণহত্যা চালানো হয়েছে’ অভিযোগ করে হেফাজতের নেতারা বলেছেন “এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এখন অর্থমন্ত্রী ‘তাণ্ডবের’ কথা বলে  মিথ্যাচার করছেন।” তারা বলেন, “কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না, তেমনি আওয়ামী লীগ শতবার ইসলামের কথা বললেও তাদের অন্তর থেকে ইসলামবিদ্বেষ দূর হয় না। সব সময় এই দলটি ইসলাম ও মুসলমানদের শিকড় কাটতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।”
গত ৫ মে ঢাকায় সমাবেশের দিন হেফাজতে ইসলাম কোনো রকম তাণ্ডব চালায়নি দাবি করে হেফাজতের নেতারা বলেন, “সেদিন হেফাজতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে। বরং বেলা দুইটা থেকে পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় পল্টন, বিজয়নগর, দৈনিক বাংলার মোড় ও বায়তুল মোকাররমের আশপাশ এলাকা দখল করে সরকারি দলের ক্যাডাররা সেদিন ব্যাংক ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লুটপাটের মহড়া
চালিয়েছে। নিজেরা পবিত্র কুরআন শরিফে আগুন দিয়ে এর দায়ভার হেফাজতের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার  অশুভ চেষ্টা চালিয়েছে।” নেতারা বলেন, “কারা সেদিন তাণ্ডব চালিয়েছিল, পরদিন বিভিন্ন সংবাদপত্রে অস্ত্র হাতে তাদের ছবিসহ সংবাদ ছাপা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর স্মরণ না থাকলে তা যাচাই করে দেখতে পারেন।”
বিবৃতিদাতারা হলেন ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা মুফতি তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা শফিক উদ্দিন, মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা শওকত আমীন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা আনছারুল হক ইমরান প্রমুখ।

Post a Comment

0 Comments