‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন চললে কোনো নির্বাচন দেওয়া হবে না’, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তবের তীব্র নিন্দা করে বিকল্পধারা বাংলাদেশ অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার দলটির প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উক্তির সারমর্ম হলো, “তাঁর সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন চললে কোনো নির্বাচন দেওয়া হবে না।”
বি. চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তিটি গণতন্ত্র বিগর্হিত এবং গণতন্ত্র বিরোধী। যে কোনো নির্বাচিত সরকার এবং সংসদ সংবিধান অনুযায়ী শুধুমাত্র ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন, এর একদিনও বেশি নয়। নির্বাচিত হওয়ার ৫ বছর পর সংসদ সদস্য আর সংসদ সদস্য বলে পরিগণিত হবেন না। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে সংসদ না থাকলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকতে চান এবং তাঁর সরকারের অধীনে ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আন্দোলন চললে তিনি কিছুতেই নির্বাচন দিবেন না।
বি. চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই তাঁর এই উক্তিতে অটল থাকেন তা হলে এটা দেশে গণতন্ত্র এবং বিরোধীদলীয় আন্দোলনের ন্যায্য অধিকারের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ বলে গণ্য হবে। এর ফলাফল বর্তমান সরকার, বিরোধী দল এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।
বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বলেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছে। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে যাবে এবং সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনমুখী হবে। আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর উচিত হবে সরকার ও বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকারকে সম্মান করা এবং অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ঘোষণা করে সমস্ত বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির দ্রুত অবসান করবেন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আশা করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নেহায়েত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য না দিয়ে রাষ্ট্র নায়কোচিত বক্তব্য দিবেন এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

0 Comments