Advertisement

উখিয়ায় হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার পায়ঁতারা মেতে উঠেছে খুনীরা


কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া, কক্সবাজার।
উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পূর্ব মরিচ্যা কাঠালিয়া গ্রামের আবুল কালাম (২০) প্রকাশ উলা মিয়াকে পৈষাশিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর বাড়ীর পিছনে কাঠাল গাছে লাশ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটনে ধ্র“মজাল সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকারীরা খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের টাকা নিয়ে হত্যার
ঘটনাটিকে আতœহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার নেপথ্যে কাজ করছে থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) নীলু কান্তি বড়–য়া। এদিকে নির্যাতনের পর হত্যা করে লাশ কাঠাল গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ফাঁস হয়ে পড়লে হত্যাকারীরা গা ঢাকা দেয়। এ ছাড়া নিহত আবুল কালামের লাশের সুরুতহাল রিপোর্ট মরিচ্যা বাজারের মনজুর আলম সওদাগরের হোটেলে বসে থানার উপ-পরিদর্শক শ্যামল শত শত লোকজনে সামনে মাত্র ১০হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার ঘটনাটিকে আতœহত্যা বলে অপমৃত্যু মামলা রুজু করার পায়ঁতারা করছে বলে নিহতের পিতা নুর হোছন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এছাড়া পানচুরির মিথ্যা অভিযোগকারী আবু বক্করের ছেলে ইয়াবা সম্রাট মোঃ ইউসুফ এ ঘটনার পর থেকে তার আতœীয়ের বাসায় আতœগোপনে চলে গেছে। মরিচ্যা বাজারের শতাধিক লোকজন অভিযোগ করেছেন কথিত ইউপি সদস্য মোঃ ইসলাম ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধ সম্রাজ্য গড়ে তুলে। তাদের ৩০-৩৫জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। যেই বাহিনী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অগোচরে খুন, অপহরণ, হাইজ্যাক, ছিনতাই, ধর্ষন থেকে শুরু করে কোন অপরাধই এ বাহিনীর নিকট থেকে বাদ যায় না। সম্প্রতি ঢাকার বাসিন্দা শামীমুল হক নামের এক ব্যক্তির ১০লক্ষ টাকা দামের একটি প্রাইভেট কার ইসলাম বাহিনীর প্রধান সেতুনী পাড়ার বার্মাইয়া আবদুল লতিফের মাধ্যমে হাইজ্যাক করে আবার ওই গাড়ীর ভূয়াঁ ও জাল কাগজ পত্র তৈরী করে গাড়ীর  প্রকৃত মালিককে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ীর মালিক শামীম বাদী হয়ে হাইজ্যাকারের হুতা ইসলাম মেম্বারকে প্রধান আসামী করে ৫জনের বিরুদ্ধে একটি গাড়ী হাইজ্যাক মামলার এজাহার দায়ের করা হয়। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালানোর দায়িত্বে ছিলেন থানার সেই বির্তকিত ওসি (তদন্ত) নীলু কান্তি। এর পর থেকে আবুল কালাম হত্যাকারী ইসলাম মেম্বারের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। এ ঘটনায়ও খুনের নায়কদের রক্ষা করতে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেছে বলেও নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন। নিহত আবুল কালামের নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাটিকে আতœহত্যা হিসেবে চালিয়ে চেষ্টার ঘটনায় খোদ পুলিশের অভ্যান্তরে তোলপাড়া শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার হত্যার ঘটনাটি ব্যক্তিগত ভাবে তদন্ত করবেন বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেছেন।  
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, হলদিয়া পালং ইউপি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা প্রকাশ্যে মিথ্যা পান চুরির ঘটনায় বিচারের নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর রাতের আধাঁরে কাঠাল গাছে তার লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
নিহতের বাবা নুর হোছন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে আবুল কালামকে পূর্ব মরিচ্যা কাঠালিয়া গ্রামের মৃত মোনাফ সওদাগরের ছেলে রবিউল ইসলামের পানের বরজ থেকে চুরি  করে পান বিক্রি করার অভিযোগ এনে স্থানীয় হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ ইসলামের নিকট সালিশ দায়ের করে। এ ঘটনায় বাবার নির্দেশে ইউপি সদস্যের ছেলে গিয়াস উদ্দীন সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ী থেকে নিহত আবুল কালামকে ধরে এনে শনিবার দুপুরে মরিচ্যা ষ্টেশনে প্রকাশ্যে বর্বোরোচিত নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। পরে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে রাতের আধাঁরে কাঠাল গাছে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে নিহতের বাবা নুর  হোছন জানিয়েছেন।  
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, হলদিয়াপালং ইউনিয়নের কথিত ওই প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা এলাকার বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত রয়েছে। ইতিপূর্বে ঢাকার শামীম নামের এক ব্যক্তির একটি প্রাইভেট কার হাইজ্যাক করে সু-কৌশলে ওই গাড়িটি তার জিম্মায় নিয়ে পরে তা আতœসাৎ করে। এছাড়াও হলদিয়ার অপরাধ জগতের ডন হিসেবে তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। এলাকার চুরি, ডাকাতি, ধর্ষন, ছিনতাই ও অপহরণ সহ নানা অপকর্মে সে জড়িয়ে পড়লেও ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার সুবাদে পুলিশ তার গায়ে আচড় লাগাতে পারছে না। এদিকে নিহতের বাবা নুর হোছন এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments