বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য পাওনা কোনদিনই পাননি এবং পাচ্ছেনও না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো
বারবার এমন অভিযোগ করে আসলেও পোশাক কারখানার মালিকরা কখনোই এসব কানে তুলেননি, তুলতে চানও না। বরাবরই শ্রমিকদের ঘাম ঝরিয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন তারা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সঠিক কোনো পদক্ষেপ না নিলে কখনোই এ বৃত্ত ভাঙতে পারবেন না বিদেশি মুদ্রা অর্জনকারী শ্রমিকরা। বরং তাজরীন ফ্যাশনের মতো অগ্নিকাণ্ডে কিংবা সাভারের রানা প্লাজার মতো ভবন ধসে চাপা পড়ে মরতে হবে তাদের।
বাংলাদেশের শ্রমিকরা যে কতো বেশি অধিকার বঞ্চিত হন সেটা কেউ কখনো হিসেব করেনি। তবে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন’র একদল বিশেষজ্ঞ একটি জিন্স শার্ট তৈরির পেছনে খরচ কত হয় এবং শ্রমিকদের কত বেশি বঞ্চিত করা হয় তা গ্রাফিকসের ছবি আকারে উপস্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রাফিকসের ছবি আকারে উপস্থাপিত একটি জিন্স শার্ট প্রস্তুতের খরচ তুলে ধরে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি শার্ট তৈরিতে মোট খরচ হয় ১৩ দশমিক ২২ মার্কিন ডলার (১ হাজার ৩০ টাকার মতো), অন্যদিকে বাংলাদেশে একটি জিন্সের শার্ট প্রস্তুতে মোট খরচ হয় ৩ দশমিক ৭২ মার্কিন ডলার (২৯০ টাকা)। খরচের বর্ণনা দিয়ে ছবিটিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে একটি জিন্সের শার্ট প্রস্তুতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লন্ড্রি খরচ হয় দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার, অন্য দিকে বাংলাদেশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল খরচ হয় দশমিক ২০ মার্কিন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি জিন্সের শার্ট তৈরিতে উপকরণ যোগাড়ে খরচ হয় ৫ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশে এ খাতে খরচ হয় ৩ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলার। আর একটি জিন্সের শার্ট তৈরিতে যারা সকাল-সন্ধ্যা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করেন সেই শ্রমিকদের পাওনা যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া হয় ৭ দশমিক ৪৭ মার্কিন ডলার (৫৮৩ টাকা), অন্য দিকে বাংলাদেশের ভাগ্যাহত শ্রমিকদের রক্তচুষে পুঁজিপতি শোষকরা দশমিক ২২ মার্কিন ডলার (১৭ টাকা) নামে মাত্র মজুরি দেন। অর্থাৎ একটি এক হাজার টাকা দামের একটি শার্ট তৈরির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের যেখানে মজুরি দেওয়া হয় অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৮৩ টাকা, সেখানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০০ টাকা দামের একটি শার্ট তৈরিতে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয় মোট খরচের মাত্র ৫ শতাংশ! আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুকে সবসময় সঙ্গি করে এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাজ করেও যারা ন্যূনতম মজুরি পান না, তারা যদি বাংলাদেশের পোশাক শিল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন তবে বিশ্ব বাজারে অসহায় হয়ে পড়বে বাংলাদেশ।

0 Comments