Advertisement

নাফনদীতে গুলিবিদ্ধ নিখোঁজ জেলের পরিত্যক্ত লাশ ঃ মাটিতে পূঁেত গুম করেছে নাসাকা


 জাহাঙ্গীর আলম,টেকনাফ।
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের আর্ন্তজাতিক সীমারেখা নাফনদীতে কাঁকড়া শিকাররত অবস্থায় বাংলাদেশী জেলেকে গুলিবর্ষণ করে নদীতে নিখোঁজ থাকার ৩দিন পর নাসাকা বাহিনী
নিজেদের দোষ গোপন রাখতে চরে পাওয়া পরিত্যক্ত বাংলাদেশী জেলের লাশ গুম করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে নিহত জেলে ফারুকের পরিবার লাশ ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের উর্ধ্বতনমহলের সহায়তা কামনা করেছেন।
নিহতের পরিবার ও গোপনীয় সূত্রে জানাযায়-১৩ জানুয়ারী ভোররাত দেড়টার দিকে বুমের নির্দেশে ৪/৫জন নাসাকা সদস্যের উপস্থিতিতে ৮/১০জন রাখাইনদের সহায়তায় রাইম্যাঘোনার রাখাইন পল্লীর গোলপাতা বনের চিতার পাশে একটি প্রজেক্টের মাঝখানে  চড়াভূমিতে গর্ত করে বাংলাদেশী জেলে ফারুকের লাশ পূঁেত ফেলা হয়। এই স্থানে লোকজনের আনা-গোনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দূরবর্তী স্থানে নাসাকার বিশেষ টহল বলবত রয়েছে। সামরিক জান্তা সরকারের নাসাকার এই হুকুমে এই র্ববরতার বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারো সাহস নেই। তাই সহজে এত বড় ন্যাক্কার জনক ঘটনা ধামা-চাপা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য গত ৯ জানুয়ারী বিকাল ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের গুদাম পাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ মাইন্যার ছেলে মোঃ ফারুক-(১৮) ও ছৈয়দ আলমের পুত্র ইসমাইল ক্যাংব্রাং এলাকায় নাসাকার পাস (সাপ্তাহিক চুক্তি) নিয়ে কাকঁড়া শিকারে যায় নদীতে। কাঁকড়া শিকাররত অবস্থায় হ্নীলা চৌধূরী পাড়ার জনৈক রাখাইনের বিয়ে বাড়িতে মিয়ানমারের ৪/৫জন মহিলা আসার সময় নাফনদীতে অবস্থিত দ্বীপ হতে কতিপয় জলদস্যু আগত মেহমানদের ধাওয়া করার চেষ্টা চালায়। চৌধূরী পাড়া এলাকার রাখাইনেরা খবর পেয়ে ওপারের ক্যাংব্রাং ক্যাম্পের নাসাকা বাহিনীকে খবর দিয়ে টহলে বের করে। এর অন্যতম কারন হলো- সম্প্রতি নাফনদী হতে ইয়াবার চালানসহ বিজিবি কতিপয় রাখাইন যুবককে আটক এবং অপর ১জনকে পলাতক আসামী করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে কাঁকড়া শিকারীরা বিজিবির সোর্স হিসেবে কাজ করার সন্দেহে বিয়ে বাড়িতে আসা মেহমানকে জলদস্যু ধাওয়া করার ঘটনা কাজে লাগিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে। এরপর নাসাকা বাহিনী কাউকে না পেয়ে কাঁদায় নেমে কাঁকড়া শিকাররত জেলেদের খুব কাছ থেকে গুলিবর্ষণ করে। জেলে ফারুক ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নৌকা হতে নদীতে ডুবে গেলেও অপর সঙ্গী ইসমাইল পাশ্ববর্তী নৌকার সহায়তায় কিনারায় ফিরে আসে স্থানীয় বিজিবিকে বিষয়টি জানায়। এরই সূত্রধরে গত ১০জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০টারদিকে টেকনাফ ৪২বিজিবির অপারেশন অফিসার-রাকিবুল,কোম্পানী কমান্ডার সিরাজুল ইসলামসহ বিজিবির একটি দল নাগাপুরা ক্যাম্পে পতাকা বৈঠক করে গুলিবর্ষনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু নাসাকা বাহিনী তা অস্বীকার করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দেন। গত ১১ জানুয়ারী শুক্রবার রাতে মিয়ামারের নাফপুরাস্থ ক্যাংব্রাং এলাকার জনৈক লিয়াকত আলীর প্যারাবনের গোলপাতা বনে বাংলাদেশী জেলে ফারুকের পরিত্যক্ত লাশ পাওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নাসাকা বাহিনী সীমান্তে নিজেদের অপকর্ম ঢাকা দেওয়ার জন্য লোকজনকে ভীতি প্রদর্শন করায় কেউ মুখ কুলেনি। এই লাশকে রাতের আধাঁরে লিয়াকতের খাল,-লুদাইংয়েরখালে-রাইম্যাঘোনাসহ ৩জায়গায় স্থানান্তরের পর নিরুপায় হয়ে রাইম্যাঘোনার রাখাইন পল্লীর চিতার পাশের গোলপাতা বনস্থ প্রজেক্টের চড়ায় পূঁেত ফেলা হয়। নিহতের পরিবার দাবী করছেন- নাসাকার বর্বরতার সুবিচার না পেলেও আমার ছেলের লাশটি ফেরত পাওয়ার জন্য সরকারের উর্ধ্বতন মহলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments