Advertisement

নুর আয়েশার প্রেমের সমাধি

রামু প্রতিনিধি
রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা ঘোনারপাড়া এলাকায় কিটনাশক পানে আতœহত্যা করে নিজের প্রেমের মুল্য দিয়েছে এক যুবতি। গত সোমবার ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানাগেছে। নিহত এ তরুণীর নাম নুর আয়েশা বেগম (২২)। তিনি রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি চেইন্দা এলাকার জনৈক মোহাম্মদ ইউছুপ প্রকাশ কালুর মেয়ে। প্রেমিককে ছিনিয়ে নেয়ার অপমান সইতে না পেরে তিনি এ পথ ধরলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে কি কারণে কিটনাশক পান করা হয়েছে এ ব্যাপারে কিছুই বলতে চাইছে না তার পরিবার। এব্যাপারে মোহাম্মদ ইউছুপ প্রকাশ কালু বাদী হয়ে রামু থানায় ৪জনকে আসামী করে একটি এজাহার দায়ের করেন গতকাল। আসামীরা হলেন, ওবাইদুল হক (২৪), পিতা-নবী হোছন, জহুল আলম (৪০), পিতা- আজিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম (২৫), পিতা-মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ পুতা, মনজুর আলম (২৮) পিতা-মৃত আবুল হোছন সর্বসাং রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির ইউনিয়নের উমখালীর ৩নং ওয়ার্ডের জনু মাতব্বর পাড়া এলাকা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের উমখালী ৩নং ওয়ার্ডের জনুমাতব্বর পাড়ার পাড়ার নবী হোছনের ছেলে ওবাইদুল হকের সাথে বেশ কিছুদিন আগে থেকে নুর আয়েশার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওবাইদুল হক প্রবাসে গেলেও নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। সম্প্রতি সে দেশে এসে প্রেমিকাকে নিয়ে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরাফেরা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান- ১১ নভেম্বর ওবাইদুল হক ও নুর আয়েশা এ্যামিউজমেন্ট ক্লাব অবস্থান কালে তাদের চলাফেরা সন্দেহ হলে স্থানীয় এলাকাবাসী তাদের ধরে চেইন্দা ঘোনার পাড়ার সøুইচ গেইট ষ্টেশনে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নিয়ে গেলে ওবাইদুল হক এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বিবাহ করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং তারা একই সাথে চলাফেরা ও মেলামেশা করার কথা স্বীকার করে। ইতিমধ্যে ওবাইদুল হকের আতœীয় স্বজন ঘটনার খবর পেয়ে নুর আয়েশার পরিবারকে মারমুখী ও সন্ত্রাসী কায়দায় অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে নুর আয়েশা বেগমকে  বিবাহ করবে না বলে উচ্চ স্বরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে শাসিয়ে দেয়। গত ১২ নভেম্বর নুর আয়েশা বেগম প্রেমিকের আতœীয় স্বজনের কারণে মনের মানুষকে হারানোর ব্যাথা সইতে না পেরে আতœহত্যার পথ বেছে নেয় আয়েশা বেগম। বাড়ির সবার অজান্তে বেলা দেড়টার দিকে সে কিটনাশক পান করে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে লিংরোড়স্থ শিল্পী মেডিকোতে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৬ টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহতের ভাই বশিরুল আলম বোনের বিশপানের কথাটি স্বীকার করে। গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয় ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম জানান সত্য ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল মোটা অংকের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

Post a Comment

0 Comments