Advertisement

ঈদগাহ হাইস্কুলের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ ঃ তদন্ত কমিটি গঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
ভিকারুন্নিসার পরিমলের ঘটনার স্মৃতি না মুছতেই ককসবাজার সদরের নব্য পরিমল ঐতিবাহ্যবাহী ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক অলক ভট্টাচায্যের বিরুদ্ধে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। ঐ ঘটনায় ধর্ষিতার
অভিভাবক লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেলেও প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন খোদ নির্যাতিতের পরিবার। লম্পট শিক্ষক ইতোমধ্যেই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। উদ্ভুত ঘটনা নিয়ে অভিভাবক মহলসহ পুরো ঈদগাঁওতে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক অলক ভট্টাচায্য স্কুলে চাকরীর পাশাপাশি ঈদগাঁও বাস স্টেশনস্থ হাজী শফিক আহমদের ভাড়া কলোনীতে ছাত্রীদের প্রাইভেট পড়িয়ে আসছিল। এরই সূত্র ধরে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা ও উক্ত স্কুলের ৮ম শ্রেণির  জনৈক ছাত্রীও তার কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতেন। বিভিন্ন সময় ঐ ছাত্রীকে কু প্রস্তাব, উত্যক্ত ও যৌন হয়রানির পাশাপাশি ধর্ষনের ঘটনাও ঘটায়। ভয়ে ঘটনাটি প্রাথমিক অবস্থায় প্রকাশ না পেলেও অনুরূপভাবে আরও অন্তত ৮/১০ জন প্রাইভেট পড়–য়া ছাত্রী উক্ত শিক্ষক অলকের হাতে যৌন হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি আস্তে আস্তে প্রকাশ পায়। বিভিন্ন সময় ধর্ষিতারাই কানাঘুষা করতে করতে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমোক্ত ধর্ষিতার মাতা (সঙ্গত কারণে নাম, পরিচয় গোপন রাখা হল) লিখিতভাবে গত ১ সেপ্টেম্বর ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খুরশেদুল জন্নাতের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে ধর্ষন, যৌন হয়রানি এমনকি কয়েক মাসের অন্তস্বত্তাসহ দিন দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং সুষ্ঠু বিচার না পেলে মা-মেয়ে আত্মহত্যার হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়।
নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা আরো জানান, তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন যাপন করছে বলেও তারা জানান।
ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খুরশেদুল জন্নাত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে স্কুল শিক্ষকদের সমন্বয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট তাঁর বরাবর দাখিলের পর পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার তদন্ত কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, তাঁরা ইতোমধ্যে তদন্ত করে ভিকটিমসহ অভিভাবক ও অন্যান্যদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা নারী হয়ে একজন নির্যাতিত কিশোরীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা, ধর্ষককে রক্ষা এমনকি স্পর্শকাতর ঘটনাটি আপোষ-মীমাংসার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ভিকারুন্নিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষও নারী হয়ে আলোচিত ধর্ষক সেই পরিমলকে রক্ষার সর্বশেষ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা খুরশেদুল।

Post a Comment

0 Comments