Advertisement

গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে ৬ মেম্বারের অভিযোগ

রামু প্রতিনিধি
রামু গর্জনিয়া ইউ,পি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন একই পরিষদের ৬ ইউপি মেম্বার। গত ৪ নভেম্বর গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ মেম্বার জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত ভাবে উক্ত অভিযোগটি দায়ের করেন।
 অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবী চন্দ বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উক্ত ইউনিয়নের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসারকে ।
অভিযোগকারী আবুল কাশেম মেম্বার জানান, কয়েক মাস ধরে তাদের সাথে পরিষদের কোন কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় করছেন না উক্ত চেয়ারম্যান। তিনি আরো জানান, সরকারী বেসরকারী যে কোন প্রকল্পের কাজে তাদের সমন্বয় না রেখে ও তাদের অনুপস্থিতিতে মন গড়া ভাবে ভূয়া রেজুলেশন তৈরী করে চেয়ারম্যান প্রকল্পের মাষ্টাররোল জমা দেন।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব সিকদার অভিযোগ করে বলেন, গর্জনিয়া ইউ,পি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তার কাছে স্থানীয় জনসাধারণ অবহিত করেছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবী চন্দ’র কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি অফিসিয়াল নিয়মে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজ কুমার শীল জানান, সহকারী কমিশনার ভূমি ও ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারসহ তিনি আগামী রোববার এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। অন্যদিকে রামু গর্জনিয়া ইউ,পি চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরীর কাছে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উক্ত অভিযোগ কে ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন। তিনি আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।  
ইউ,পি সদস্য ফেরদৌস আলী, আবুল কাশেম, আবু তাহের, মোহাম্মদ জুবাইর ও আবছার কামাল ও ইউ,পি সদস্যা রওশন আক্তার স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী কোন প্রকল্পের কাজে মেম্বারদের সমন্বয় রাখেন না, গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ প্রাপ্ত ২২০০ ভিজিএফ হতে চেয়ারম্যান ৭০০ ভিজিএফ তাঁর নিজস্ব কোটা বলে নিজ দায়িত্বে রেখে দেন। অবশিষ্ট ১৫০০ ভিজিএফ ৯জন মেম্বার ও ৩জন মহিলা মেম্বারকে বরাদ্দ দেয়া হয়। ১২ জন ইউ,পি সদস্য/সদস্যাদেরকে মাত্র ১৫০০ ভিজিএফ প্রদান করে, ৭০০ ভিজিএফ চেয়ারম্যান মাত্র কয়েক জনকে দিয়ে অবশিষ্ট সম্পূর্ণ ভিজিএফ আত্মসাৎ করেন। জনপ্রতি ১০ কেজি হিসাবে ভিজিএফ বরাদ্দ থাকায় চেয়ারম্যান দূর্লোভের বশীভূত হয়ে সম্পুর্ণ অন্যায় ভাবে গরীব ভিজিএফ সুবিধাভোগী লোকজনকে না দিয়ে দস্তখত জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া মাষ্টাররুল তৈরীর করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।
তারা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে চেয়ারম্যান একই ভাবে ভূয়া মাষ্টারুলের মাধ্যমে টি,আর বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছে।
তাঁরা আরো উল্লেখ করেন, সম্প্রতি গর্জনিয়া ইউনিয়নের এলাকা সমূহ বন্যায় দারুন ভাবে প্লাবিত হওয়ায়, বাড়ী ঘর ভেসে যাওয়ায় আপদকালীন আশ্রয়ের নিমিত্তে বন্যা দূর্গতের জন্য ৯৭টি তাঁবু বরাদ্দ দেওয়া হয়। যা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই সম্পূর্ণ তাঁবু আত্মসাৎ করেন।  সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে হতদরিদ্র কর্মসূচী শুরু হয়েছে। বিধি মোতাবেক সকল ইউ,পি সদস্য/সদস্যদের নিকট হতে হতদরিদ্রের তালিকা প্রদানের বিধান থাকলেও চেয়ারম্যান তা না করে সম্পূর্ণ গোপনে ভূয়া লোকজনের নাম সম্বলিত যোগসাজসী তালিকা তৈরী করে হতদরিদ্র প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে। গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য কেন্দ্রকে যথাযথ ভাবে ব্যবহার না করে তাঁর আত্মীয় ও পরিবারের সদস্যকে কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেন এবং তথ্য কেন্দ্রের প্রজেক্টর বড় পর্দায় ব্যবহার করে সেখানে বিভিন্ন নীল ছবি ও আপত্তিকর উশৃঙ্খল ছবি প্রদর্শন করে সিনেমা হল হিসাবে ব্যবহার করছেন। ইতিপূর্বে বিভিন্ন বেসরকারী দপ্তর হতে গর্জনিয়া পরিষদের সদস্য/সদস্যাদের জন্য সম্মানি ভাতা বরাদ্দ আসলেও এযাবৎ মেম্বারদেরকে কোন ধরনের সম্মানি ভাতা না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন।সম্মানিত পাঠক/পাঠিকা ও লেখক/লেখিকা আস্সালামা আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ আমার পেইজটি যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকে আমাকে পোষট করতে পারেন। আমি আপনাদের সু-দৃষটিতে দেখব -সম্পাদক। আর যে কোন লেখা পাঠাতে চাইলে যোগাযোগ করম্নন ই-মেইল ঠিকানায়। সম্পাদক নয়ন কক্স নিউজ ডট কম কক্সবাজার। ফোন: +৮৮ ০১৮১২০২৪০৮০ কিলিক>>

Post a Comment

0 Comments