জুয়েল চৌধুরী
অপূর্ব পাহাড় আর নীলাভ জলরাশিতে ঘেরা এই নান্দনিক কক্সবাজারের প্রাকৃতিক রূপময়তা অনেকটা ম্লান হয়ে পড়ে যখন দেখি প্রকৃতি সৃষ্ট দূর্যোগে নয়, মানুষ সৃষ্ট দূর্যোগে
মানুষের সলিল সমাধি ঘটে।
বিগত পাঁচ বছরে দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও থেমে নেই পাহাড় কাট। মাইকিং আর নোটিশে সীমাবদ্ধ প্রশাসন। ওজর আপত্তি আর অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে মানব সৃষ্ট দূর্যোগের বাস্তবিক পরিস্থিতি। বলাবাহুল্য যে কক্সবাজার জেলার লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। মৃত্যুও যেন ঠেকাতে পারছেনা পাহাড় কাটা। ফলশ্রুতিতে পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির তালিকা ক্রমাগত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্চে। অথচ, এই নির্মম মৃত্যু ভয়কে পিছু ঠেলে মানুষ বিনা বাধায় কৌশল বদলিয়ে পাহাড় কাটছে প্রতিনিয়ত। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিসংখ্যান সুত্রে জানা যায়, বিগত ৫ বছরে দুই শতাধিক মানুষের করুন মৃত্যু হয়েছে পাহাড় ধ্বসে। এর মধ্যে ২০০৮ সালের ৪ ও ৬ জুলাই টেকনাফে (পৃষ্ঠা >২, কলাম >৪)
পাঁচ বছরে দুই
(১ম পৃষ্ঠার পর)
ফকিরা মুরা ও টুইন্যার পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ ১৩ জনের করুন মৃত্যু হয়েছিল। এ বছরের ২৬শে জুন দিবাগত রাতে পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় মারা যান ২৯ জন। এ সময় অন্যান্য ভাবে মোট ৪৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
কিন্তু এরপরও কক্সবাজার জেলার ৭ উপজেলায় লক্ষাধিক পরিবার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে নিরূপায় অসংখ্য মানুষ। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে আজ শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে অবলোকন করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই সাধারণ মানুষের। কিন্তু যাদের উপর রয়েছে প্রশাসনিক দায়িত্ব তাদের লোক দেখানো কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পাহাড়া কাটা আর করুন মৃত্যুর হিসাব নিকাশ। অনুসন্ধানে জানা যায়, এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল তাদের পাহাড় খেকো মনোভাব আর অতি মাত্রায় টাকা অর্জনের বাসনাকে পূঁজি করে দরিদ্র, উদ্বাস্তু মানুষ এবং অবৈধ রোহিঙ্গাদের দিয়ে নানা কৌশলে পাহাড় দখল করে তা কাটছে। এই পাহাড় দখলের তালিকায় রয়েছেন বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সাংবাদিক, কলেজের শিক্ষক, প্রচুর কালো টাকার মালিকসহ প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা।
কক্সবাজার বনবিভাগ সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার প্রায় ১০ হাজার একর বনভূমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। এই পাহাড় অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করা হয়েছে জনবসতি।
শুধুমাত্র কক্সবাজার শহর ঘুরে পাহাড় ব্যষ্টিত অঞ্চল পরিদর্শনে উঠে এসেছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। শহরের বৈদ্যরঘোনা, ঘোনার পাড়া, এবিসি ঘোনা, পাহাড়তলী, বার্মাইয়া পাহাড়, কলাতলি, ঝরঝিরি কুয়া, গৈয়ামতলী, হিমছড়ি, মোহাজের পাড়া, লাইট হাউসসহ অনেক পাহাড় ব্যষ্টিত অঞ্চলে এখন দেদারছে চলছে এই অবৈধ পাহাড় কাটা। ভরা বর্ষাকে পূঁজি করে জীবন ঝুঁকি নিযে কি রাত, কি দিন চলছে বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিয়ে পাহাড় কাটা। ভিআইপি এলাকা খ্যাত সার্কিট হাউজের চারপাশে চলছে পাহাড় দখল ও কাটা। যেকোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানী। অথচ পত্র-পত্রিকাতে পাহাড় কাটার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তৎপর হয়। শুধু করে নোটিশ ও মাইকিং যার কোন সুপ্রভাব পড়ছেনা পাহাড় কাটাতে। সাধারণ মানুষ আর কক্সবাজার সচেতন সুধী সমাজ আর মৃত্যুর মিছিল দেখতে চায়না, চায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের কক্সবাজার হোক বসবাসের নির্মল স্থান।

0 Comments