বার্তা পরিবেশক
কক্সবাজার শহরতলির কলাতলি আর্দশ গ্রামে ১৯৮৮ সালে পুর্নবাসিত পরিবার গুলোর ৩ হাজার মানুষ সরকারী কর্মচারীদের অত্যাচারে অতিষ্টি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ
পাওয়া গেছে। সরকারী পুর্নবাসিত আর্দশ গ্রাম। যেটি ১৯৮৮ সালে পুর্নবাসিত করা হয় । এই আর্দশ গ্রামবাসির চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে সরকারী কর্মচারীদের অত্যাচারে। এদের হাত থেকে বাঁচতে চায় গ্রামবাসি।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে , কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস কাটা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২ যুগেরও বেশী সময় ধরে বসবাস করে আসছিল বিভিন্ন শ্রেণীর ১৩০টি পরিবার। ৮৮ সালে ওই এলাকায় নৌ বাহিনীর ঘাটি স্থাপনের জন্য সরকারী ভাবে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরই পরিপেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব শাখা থেকে ওই সব পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়া হয়। উচ্ছেদের নোটিশ নিয়ে সে সময় জেলা প্রশাসকের সাথে এলাকাবাসির দফায় দফায় বৈঠক বসে। এলাকাবাসিরা দাবী ও দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে কক্সবাজার সহকারী কমিশনার ভুমি ( সদর) কে খাস জমি নির্বাচন করে পূর্নবাসনের নির্দেশ দেন তৎকালিন জেলা প্রশাসক।
এলাকাবাসি আরো জানান, তৎকালিন জেলা প্রশাসক ও বনবিভাগের যৌথ সার্ভের মাধ্যমে কলাতলি এলাকার ১৩ একর জমিতে ওইসব পরবারকে পূর্নবাসিত করা হয়। এর পর থেকেই উক্ত এলাকার নামকরণ করা হয় আর্দশ গ্রাম হিসেবে। সেখানে গড়ে তোলা হয় মসজিদ, মাদ্রাসা । পাশাপাশি এলাকার শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিষ্টা করা হয় আর্দশ সার্বক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি। এই সমিতির লোকজন ও সমাজের গণ্যমান্য মুরব্বীদের সমন্বয়ে এলাকাবাসির বিভিন্ন কলহ বিবাদ সমাধান হয়ে আসছে। শহরতলির যেমন আর্দশ গ্রাম তেমনি ভাবে এলাকাবাসিও আর্দশ নীতি ও নৈতিকতা দিয়ে বসবাস করে আসছে সেই ৮৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত ওই আর্দশ গ্রামের অধিবাসির সংখ্যা দাড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বসবাস করে আসছে তারা।
এলাকাবাসি আক্ষেপের সাথে জানান, ওই পূর্ণবাসিত আর্দশ গ্রাম এলাকায় ২৪ বছর ধরে বসবাসকারী লোকজনের ভিটে মাটির উপর লোলুপদৃষ্টি পড়ে কক্সবাজারের সরকারী ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর পদমর্যাদাকারী কিছু কর্মচারী। এসব কর্মচারীরা লোভেরবশিভুত হয়ে আর্দশ গ্রামের গরীব আসহায় হতদরিদ্র লোকজনকে কৌশলে উচ্ছেদের জন্য বিভিন্ন ভাবে পায়তারা করে আসছে।
এলাকাবাসি আরো জানান, ওই সব তথা কথিত সরকারী কর্মচারীগণ আবাসন প্রকল্পের নামে ৫১ একর জমি বন্দোবস্তির আবেদন স্মারক নং-২০০৬/৫১৪ করেন। তৎসময়ে ব্যাপক হারে পাহাড় ও গাছ সাবাড় করা হয়। এ ঘটনায় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদ আলী। আটক করা হয়ে ছিল বেশ কয়েকটি বুলডোজার ও মাঠি কাটার সরঞ্জামাদি। পাহাড় কাটা সহ বন নিধনের অভিযোগে কয়েকটি মামলাও হয়। কিন্তু পরববর্তীতে ভুমি মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-ভুঃমঃ/শা-৮/খাজব/৮৫/২০০৬ /১৫৬,তাং-১৬/৪/২০০৭ ইং এবং ভুমি মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং-ভুঃমঃ/শা-৮/খাজব/৮৫/২০০৬ /১৫৭,তাং-১৮/৪/২০০৭ ইং স্মারক মুলে কক্সবাজার সদর উপজেলাধীন ঝিলংজা মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের বিএস ২০১৬৩ দাগের ৫১ একর জমির বন্দোবস্তি বাতিল ঘোষণা করা হয়। পাহাড় কেটে আবাসন প্রকল্প তৈরী ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতির পক্ষ থেকেও হাইকোর্টে রীট পিটিশন দায়ের করা হলে হাইকোট বিভাগ উক্ত রীশ পিটিশনের আলোকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু বাতিলকৃত উক্ত ৫১ একর জমির উপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্থাপন করা হয় কয়েকজন আনসার সদস্য নিয়ে আনসার ক্যাম্প। এই আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা সরকারী কর্মচারীদের আষ্কারায় শুরু করে জমিদখল,চাঁদাবাজি, চারা গাছ নিধন ও বন ভুমি দখল বিক্রির সহ অনৈতিক কার্যকলাপের মতো ঘটনা। কথিত আনসার সদস্যের দাবীকৃত চাঁদা না দিলে আর্দশ গ্রামবাসির উপর হামলা ও মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার হুমকি দেয়। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-৪ এ পিআর মামলা নং-২৪০/২০১২ দায়ের করা হয়। কিছু সরকারী কর্মচারী এবং আনসার সদস্যদের হাতে বর্তমানে আর্দশ গ্রামবাসী অসহায় দিনাতিপাত করছেন বলে জানা যায়। এ সমস্যা গুলো থেকে পরিত্রাণ পেতে আর্দশ গ্রামের অসহায় মানুষ

0 Comments