জাহাঙ্গীর আলম
দেশের প্রায় সব জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেশাজাতীয় এবং যৌন উত্তেজক ড্রিংকস-এ সয়লাব হয়ে গেছে। এতে করে মানহীন এসব এনার্জি ড্রিংক খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য
ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। এ ধরনের এনার্জি ড্রিংকস সেবনের পর শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সাময়িক উত্তেজনার জন্যই যুবসমাজ এই মরণ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বাজারে প্রচলিত বেশ কয়েকটি এনার্জি ড্রিংকে নেশার ভয়ঙ্কর উপকরণ পাওয়া গেছে। যা তরুণ প্রজš§কে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কথিত এইসব এনার্জি ড্রিংকে অপিয়েটস এবং সিলডেনাফিল সাইট্রেট রয়েছে যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় ভয়ঙ্কর মাদকের উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। ওই ধরনের এনার্জি ড্রিংকে এম ফিটামিন কেমিকেল থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে শরীরে সাময়িক উত্তেজনাসহ যৌনশক্তি বাড়ালেও এর পরিণতি হয় ভয়াবহ! এসব এনার্জি ড্রিংকস নিয়মিত সেবনে হার্ট, লিভার, কিডনি অকেজো হয়ে পড়তে পারে। মাঝে মাঝে লোক দেখানো প্রশাসনিক অভিযান হলেও প্রশাসনের একেবারে নাকের ডগায় সুযোগসন্ধানী একশ্রেনির ব্যবসায়ীরা এই সব প্রাণঘাতি ড্রিংকসের ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বাহারি নামে বোতলে ফ্রি স্টাইলে বিক্রি হচ্ছে এই সকল ড্রিংকস। বর্তমানে সারাদেশ ছেয়ে গেছে মাদকের উপাদান মিশ্রিত এসব ড্রিংকস। এইসব ড্রিংকস-এর নিয়মিত সেবনের ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সেবনকারীরা।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজার গুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকান, কনফেকশনারী, ফার্মেসীসহ বিভিন্ন দোকানে নেশাজাতীয় এবং উত্তেজনাকর প্রাণঘাতি এই সব ড্রিংকসে ভরপুর। এসব এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে রয়েছে হর্স পাওয়ার, হর্স ফিলিংস, এনার্জি ড্রিংকস, ডাবল হর্স, এনার্জি পাওয়ার, জিনসিন পাওয়ার, ফাস্ট হর্স , রুচিতাসহ নানা নামে বেনামে যৌন উত্তেজনাকর ও নেশাজাতীয় পানীয় বোতল। এ সমস্ত বোতলের গায়ে লেখা আছে শুধু প্রাপ্ত বয়ষ্কদের জন্য, যৌন শক্তি বৃদ্ধিকারক। আবার কোনটিতে কিছুই লেখা নেই। এগুলোর কোন প্রচার প্রচারণা না থাকলেও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।
কয়েকজন দোকানীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এগুলোর প্রধান ক্রেতা উঠতি বয়সের তরুণরা। সম্প্রতি স্কুল-কলেজগামী তরুণ ছাড়াও যোগ দিয়েছেন তরুণীরাও। দোকানীরা জানান, দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা হলেও অনেক সময় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়ও বিক্রি করা যায়। খুব দ্রুত এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে সেবনকারীরা।

0 Comments