নুরুল আমিন হেলালী
জেলার অন্যান্য স্থানের মত প্রাচীন জনপদ ঈদগাঁও পাল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন আধুনা বিলুপ্তির পথে প্রহর গুনছে। দেশের কারখানায় উৎপাদিত
এই শিল্পের বিকল্প পণ্য সামগ্রি বাজারভুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এই শিল্প এখন হুমকির সম্মুখীন। এছাড়া চান্দেরঘোনার বাঁশ, বেত দিয়ে তৈরি লাই, ডুলা, কোলা, ডোল, জুঁইরসহ বিভিন্ন কুটির শিল্পের কারিগররা আজ আধুনিকতার অভিশাপে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদগাঁও পালপাড়া এলাকায় কয়েকটি মৃৎশিল্পে রয়েছে যা কুমার পাড়া হিসেবে সমধিক পরিচিত। কিন্তু তারা বর্তমানে ক্রমাগত বাজার হারিয়ে দরিদ্র অবস্থায় মানবেতর জীবন যান করতে বাধ্য হচ্ছে। কোন মতেই আর পূর্ব পেশার উপর ভরসা রাখতে পারছেনা। কুমার পাড়ার বাসিন্দা সুনীল পাল জানান, শত কষ্টেও পূর্ব পুরুষ হতে চলমান পেশাটি কিছুটা দায়ে পড়েও কিছুটা ঐতিহ্যের মায়ায় কামড়ে ধরে আছে মাত্র। তিনি আরও জানান, বর্তমানে অনেক কষ্টে পাহাড়ের খাদ ও কৃষি জমি থেকে এঁটেল মাটি এনে প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এরপর তৈরিকৃত পণ্য সামগ্রি রোদে শুকিয়ে পরে নঁকশা করে চড়ামূল্যে রং করতে হয়। যার কারণে উৎপাদিত পণ্যগুলোর খরচ পড়ে অনেক বেশি। কিন্তু বাজারের চটকদার প্লাস্টিক দ্রব্য সামগ্রির প্রতিযোগিতায় হার মানতে বাধ্য হয় স্বাস্থ্যবান্ধব এসব পণ্যগুলিকে। কুমার পাড়াটিতে পূর্বে অনেক অনেক পরিবারে এর কারিগর ছিল। ঠিকমত টিকতে না পেরে অনেকেই এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যারা আছে তাদেরও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্রপুঁজিতে পল্লী এলাকায় এসব মৃৎশিল্পের মত বর্তমানে মৃত প্রায় এসব শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতায় সরকারি-বেসরকারি কেউ উৎসাহ দেখায় না। যার কারণে তারা বিভিন্ন এনজিও মহাজনী ঋণে আটকা পড়ে সুদচক্রে সর্বশান্ত হতে বাধ্য হচ্ছে। বাঙ্গালী সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সৌন্দর্য্য ও প্রয়োজনের স্বার্থে এসব বিলুপ্ত প্রায় লোক শিল্পগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা একান্ত জরুরী। তাই পেশাগত হুমকিতে আতংকগ্রস্থ এসব সংখ্যালুঘু পেশাজীবিদের সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ দিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

0 Comments