Advertisement

এলজিসহ নতুন বাহারছড়ার কিশোর আটক এখনো অক্ষত শহরের অন্যান্য অস্ত্রভান্ডার

ডেস্ক রিপোর্ট
দেশে তৈরি ২ এলজিসহ শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকার এক কিশোর অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। গতকাল রাত ৯টার দিকে থানার এসআই মিজান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ উক্ত কিশোর অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত কিশোরের নাম মো. রুবেল, বয়স ২০, পিতা মনির হোসেন। সে নতুন বাহারছড়া কানা ভুট্টোর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।
ধারণা করা হচ্ছে, ধৃত রুবেল ১জন পেশাদার অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার সাথে শহরের আন্ডারওয়ার্ল্ড গডফাদার ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের সাথে যোগসাজশ রয়েছে। এদিকে শহরের কিশোর অপরাধীদের হাতে ভারি সব আগ্নেয়াস্ত্র শীর্ষক একটি তথ্যবহুল সংবাদ ইতোমধ্যে দৈনিক কক্সবাজারবাণীতে প্রকাশিত হয়েছিল। এটির শিরোনাম ছিল, শহরে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া, বাড়ছে অস্ত্রশস্ত্রের ঝনঝনানি। কিছুদিন পর হলেও মডেল থানা পুলিশ গতকাল ১জন অপরাধী আটক হওয়ার সংবাদ চাউর হয়ে গেলে স্থানীয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, এখনো কক্সবাজার শহরে কিশোর অপরাধীদের হাতে হাতে আরো অগণিত অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে।
জানা গেছে শহরের পেশকারপাড়া, নতুন বাহারছড়া, নুর পাড়া, টেকপাড়া ও আলির জাহাল কেন্দ্রিক কিশোর সন্ত্রাসীরা এখন আগের চেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভারী সব আগ্নেয়াস্ত্র সজ্জিত এসব অপরাধীদের অপকর্ম ছড়িয়ে পড়ছে পুরো কক্সবাজার শহরে। দরিদ্র পরিবারের বখে যাওয়া কিশোর অপরাধের সংখ্যা এতে কম নেই। জানা গেছে, তারা অল্প টাকায় চুক্তি ভিত্তিক জমি দখল, খুন খারাবিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি এলাকার লোক মুখে ব্যাপক ভাবে প্রতিফলিত হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ নির্বিকার রয়েছে।
জানা গেছে, সদর মডেল থানার আশপাশে দালালিতে নিয়োজিত এরকম কিছু কিশোর অপরাধীর সাথেও রয়েছে ওই সমস্ত সন্ত্রাসীদের কানেকশন। ফলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক জরুরী ভিত্তিতে পেশকার, নতুন বাহারছড়া, নুর পাড়া,টেকনাপাড়া ও আলির জাহাল কেন্দ্রিক সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি এখন সর্বমহলের।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, টেকপাড়া আব্দুল্লাহ খানের বরফ মিলের সামনের এলাকা, ফুলবাগ সড়ক, রাখাইন পাড়া, মাছ বাজার, গোলদীঘির পাড়, লালদীঘির অলিগলি, পাহাড়তলী, আলী জাঁহাল, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, মোহাজের পাড়া, আদালত ব্যস্টিত এলাকায় রাতে এদের বিচরণ পরিলক্ষিত হয়। দল বেঁধে কয়েকজন ও পৃথক পৃথক ভাবে এদের মহড়া শহর জুড়ে চলে রাতভর। পরিস্থিতি বুঝে ওই সব কিশোর সন্ত্রাসীরা রাতের শহর নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ পথচারি এবং ছোট খাট বাসাবাড়িতে হামলে পড়ে। বর্তমানে পৌরসভার সামনে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ ও আশপাশের এলাকাও  এদের নিয়ন্ত্রণে। রক্ষিত মার্কেটের মধুবন সংলগ্ন গলি হয়ে কোর্ট বিল্ডিং কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় রাতভর থাকে এসব কিশোর অপরাধী, মাদক, পতিতা ও ছিনতাইকারীর দখলে।
সুত্র মতে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জরুরী ভিত্তিতে এ ব্যাপারে ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়ে ঝটিকা অভিযান পরিচালিত করলে বিপুল অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ধরা পড়বে অপকর্মে জড়িত কিশোর অপরাধীরা। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থা, র‌্যাবসহ অন্যান্য বাহিনীরাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।

Post a Comment

0 Comments