Advertisement

মিয়ানমারের আরকান প্রদেশে কারফিউ ॥ টেকনাফ সীমান্তে সতর্কতা


মুহাম্মদ ছলাহ্ উদ্দিন, টেকনাফ ॥
বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্ত বরাবর মিয়ানমারের আরকান প্রদেশের মংডুসহ কয়েকটি শহরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রাখাইন ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমূখী সংঘর্ষ, ব্যাপক
অগ্নিসংযোগ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামর পর শুক্রবার রাত থেকে ওইসব এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। সে দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ খবর দেয়। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত সোমবার জুন রাখাইন প্রদেশের টাংগোপ শহরে গণপিটুনিতে তাবলিগ জামাতের ১০ মুসল্লি নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে মংডু শহরের অদূরে কাহারী পাড়ায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের লোকজন বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় রাখাইনরা রোহিঙ্গাদের উপর হামলা চালালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের পর মংডুসহ বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও বাড়ীঘরে ব্যাপক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে এ ঘটনার সূত্র ধরে রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে এবং কোন দুস্কৃতিকারী গোষ্ঠী কর্তৃক রাখাইনপল্লী গুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মত ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে বিজিবি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়ান অপারেশন অফিসার এইচ কামরুল হাসান জানান, মিয়ানমারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোন পক্ষ যাতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে এবং অধিকহারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটাতে না পারে সেদিকে কাঠোর নজরদারী রাখা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার ব্যাপারে সীমান্তের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে টেকনাফে এসেছেন জেলা পুলিশের এএসপি (সার্কেল) তোফায়েল আহমদ। শনিবার দুপুরে উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এইচএম ইউনুচ বাঙ্গালীর নিয়ে তিনি উপজেলার সমীন্তবর্তী খারাংখালী ও চৌধুরী পাড়াস্থ রাখাইনপল্লী পরিদর্শন করে তাদের খোঁজ-খবর নেন।

Post a Comment

0 Comments