Advertisement

আরাকানে থামেনি সামরিক জান্তার মুসলিম নির্যাতন সীমান্ত বাণিজ্যে ধস ঃ রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবন


ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার
মিয়ানমারের আরাকানের ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার আরাকান প্রদেশের মংডু উপশহর এবং আকিয়াব সে দেশের সামরিক জান্তা সীমান্ত
রক্ষী নাসাকা বাহিনী এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থিদের কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রন চলছে। নির্ভরযোগ্য সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়- আরাকান ও আকিয়াবে সাম্প্রদায়িকতা সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর রোহিঙ্গাদের উপর দমন ও নীপিড়ন চলছে। রোহিঙ্গা মুসলমান ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল করার লক্ষে সে দেশের সামরিক জান্তা ও নাসাকা বাহিনীর সহযোগিতায় লুটরাজ চলছে অব্যাহত ভাবে। এ অবস্থার মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা গত ৫ দিন পর্যন্ত অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছে। তাদের আর্তনাদে আকিয়াবের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। নির্যাতিত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানেরা ফরিয়াদ করছে, হে মাবুদ! এ জালিম সরকারের কালোহাত থেকে আমাদের বাঁচান এবং বিশ্বের মুসলিম দেশের প্রতি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন- আপনারা আমাদের ঈমানী ভাই সে হিসাবে আপনারা এগিয়ে আসুন। এদিকে মিয়ানমার সামরিক জান্তা নাসাকা বাহিনী এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের হাতে অসংখ্য বনি আদম গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েক শতাধিক। এমতাবস্থায় তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই সেখানে। চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আকিয়াব থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়- আকিয়াব শহরে সামপ্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সামরিক জান্তার হাতে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা খুন হবার পর তাদের মাথা ন্যাড়া করে সে দেশের ভান্তে বা টাকুরের মত করে বহির্বিশ্বে প্রচার এবং অনেক লাশ গুম করে রাখে। অনেকেই জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পাহাড়ে আশ্রয় এবং সাগর পথে ট্রলার যোগে ফাড়ি জমাচ্ছে। টেকনাফের সাবরাং এলাকার হারিয়াখালীর জেলে আব্দুস শুক্কুর জানায়- সেন্টমার্টিন এর পশ্চিমে সাগরে ফিসিং বোট মাছ ধরার জন্য গেলে সেখানে ৩টি ক্ষত-বিক্ষত লাশ দেখেতে পায়। অপরদিকে সাবরাং নয়াপাড়া এলাকা দিয়ে শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে বলে একাদিক সূত্রে জানা যায়। বুচিডং থেকে প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়- বুচিডং টংবাজার নাসাকা ক্যাম্পে শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশা জিবী প্রভাশালীদের ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং তাদেরকে নজর বন্দী করে রাখে। নাসাকা বাহিনী তাদরেকে বলেছেন- মংডু উপশহরে সহিংসতা প্রশমিত করার লক্ষ্যে তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে। নচেৎ তাদেরকে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত করা হুমকি দিয়ে আসছে। এদিকে আকিয়াবের সহিংসতা ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি ফেলেও রাখাইন সম্প্রদায় অগ্নি অস্ত্রের মুখে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা এক প্রকার জিম্মির মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায় তারা বাড়ি-ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। টেকনাফ বর্ডারগার্ড(বিজিবি) ও কোস্টগার্ড বাহিনী টেকনাফ পুরো সিমান্ত এলাকায় রেড এলার্ট জারি করেছে।
অপরদিকে আরাকানে সহিসংতার পর টেকনাফ স্থল বন্দরে ব্যবসা বাণিজ্যের ধস নেমেছে। গত কয়েকদিন ধরে সেখান থেকে কোন পণ্য আমদানি রপ্তানি হচ্ছে না।

Post a Comment

0 Comments