Advertisement

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, ঢাকার ‘গভীর পর্যবেক্ষণ’

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার থেকে, ১২ জুন
বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে (রাখাইন) সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার একথা বলা হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত সরকার আরাকান প্রদেশে রোববার রাত থেকে সামরিক আইন জারির পর সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রদেশটি থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা নৌকায় ও ট্রলারে করে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। সোমবার সকাল থেকে তিনশ’র বেশি নারী ও শিশু শরণার্থীকে তাদের নৌযানসহ মিয়ানমারের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি। তাছাড়া কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেশ কিছু শরণার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি রফতানি বন্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে দেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের রাজ্য রাখাইনে অনাকাক্সিক্ষত সন্ত্রাসের ফলে বেশকিছু প্রাণহানি ও স¤পদের ক্ষতি হয়েছে। মিয়ানমার এই ঘটনাটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে যে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাকে বাংলাদেশ সমর্থন করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, “বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের খুব ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় স¤পর্ক তৈরি হয়েছে তা দুই দেশের স্বার্থেই অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার দুই দেশের সীমান্তে এটা (সংঘাত) যেন ছড়িয়ে না পড়ে এর জন্য দু’দেশের উচ্চ পর্যায়ের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সন্ত্রাস যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার আশা করে মিয়ানমার সরকার এই বিষয়ে সর্বাত্মক সহনশীল মনোভাব নিয়ে পদক্ষেপ নেবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে ওই এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে। প্রসঙ্গত, বহু জাতি ও সম্প্রদায়ের দেশ মিয়ানমারের বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী আরাকান প্রদেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানদের নাগরিক স্বীকৃতি নেই দেশটার সংবিধানে। প্রদেশটিতে জাতিসংঘের ভাষায় বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের চলাফেরার ওপর সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রাখে। দেশটির প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যম প্রায়ই এদের ‘বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী’ বলে প্রচারণা চালায়।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্যমতে, ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠাপোষকতায় দমন-পীড়নসহ নানা নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে শুরু করে। সেই থেকে কয়েক দফা’য় বাংলাদেশ ও থ্যাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশ্রয় নেয়। এখনো দুই লাখের মতো শরণার্থী চট্টগ্রাম বিভাগে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সংখ্যাগুরু বার্মিজ সামরিক জান্তার অধীনে মিয়ানমারের অন্যান্য অবার্মিজ জনগোষ্ঠী-শান, কাচিন, কারেনরাও নির্যাতিত হলেও বৌদ্ধ ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ও পরিধি অনেক বেশি বলে দাবি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের।

Post a Comment

0 Comments