ঢাকা: গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির কারাবন্দি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ ১৮ দলীয় জোটের ৩০ নেতার জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট ।
এ সংক্রান্ত রুল চুড়ান্ত করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, জয়নুল আবেদিন, আমিনুল হক, নিতাই রায় চৌধুরী, বদরুদ্দোজা বাদল ও রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ অনেকে।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশারফ হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য কামরুজ্জামান রতন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ইয়াছিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. মেতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আবুল বাশার, বিএনপি নেতা ও ঢাকার সাবেক ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপির নেতা লুৎফর রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান এবং খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুছ মৃধা।
রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, শাহবাগ থানার মামলায় জামিননামা দেওয়া হয়েছে, তাই তারা মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা নেই। শুনানিতে এম কে রহমান বলেন, আসামীদের কথা বার্তার সিডি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং সিডিও সংগ্রহে রয়েছে।
এ মামলায় জামিন দেওয়ার বিষয়টি আইনে আছে। তবে তা সকল নথি পর্যালোচনা করে। কিন্তু এখানে (আদালতে) কোনো নথিপত্র নেই। আদালত বলেন, মামলার চার্জশীট ও এফআইআর আদালতে আছে। এগুলো মামলার নথি। এ সময় রফিক-উল হক বলেন, এফআইআর ও চার্জশীটই মামলার নথি। এগুলো পর্যালোচনা করে জামিন দেওয়া যায়। জয়নুল আবেদিন বলেন, বলা হয়েছে ৬-৭ টি মাইক্রোবাসে করে এসে গাড়ীতে আগুন দেওয়া হয়েছিলো। কই সেইসব মাইক্রোবাস? গাড়ির নাম্বার কই? সেগুলোর বর্ণনা নেই কেন? সিডি কোথায়? কিছুইতো রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করেনি। এতে বুঝা যায় এ মামলা একটি খাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুলক মামলা। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে এ মামলায় পাঁচ সাংসদকে জামিন দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোট নেতাদের কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
গত ৬ মে রুল শুনানির কথা থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি একদিন পেছানো হয়। এর আগে ২৩ মে জামিন আবেদন নাকচ করে বিচারিক আদালতের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রোববার সকালে হাইকোর্টে আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা।
গত ১৬ মে তারা ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে মহানগর হাকিম এরফান উল্লাহ জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওইদিন জামিন নাকচের পর আসামিদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া ও অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) বিকাশ কুমার সাহার কাছে জামিন আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে বিচারক তাও নাকচ করে দেন।
গত ২৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ইসমাইল মজুমদার বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৮ দলীয় জোটের ৪৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
গত ১০ মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জোটের ৪৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর নুরুল আমিন। গত ২১ মে সব আসামির বিরুদ্ধেই চার্জশিট আমলে নেন সিএমএম আদালত। ওই দিন জামিনে থাকা একমাত্র আসামি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের জামিন আবেদনও নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে, মামলার অপর চার্জশিটভুক্ত আসামি জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল হোসেন, ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা বুলবুল ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী পলাতক আছেন। তাদের পক্ষে এ পর্যন্ত আদালতে কোনো আবেদন করা হয়নি।

0 Comments