Advertisement

উখিয়ার আমির হামজা হত্যা মামলা আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে: নিরাপত্তাহীনতায় নিহতের স্ত্রী কলি


কায়সার হামিদ মানিক, কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ার চাঞ্চল্যকর আমির হামজা হত্যা মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে আদালত জামিন বাতিল করে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করলেও পুলিশ
আসামী গ্রেফতারে রহস্য জনক ভূমিকা পালন  করছে। পুলিশের নাকের ডগায় প্রকাশ্য দিবালোকে বীরদর্পে আসামীরা ঘুরে বেড়ালেও গ্রেফতার না হওয়ায় উপরন্ত নিহত আমির হামজার দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা খানম কলিকে উল্টো প্রাণ নাশের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। এতে স্বামীহারা কলি ৬ মাসের একমাত্র কন্যা সন্তাানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, ২০১১ইং সালে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আসামী উখিয়ার পূর্ব ডিগলিয়া পালংয়ের গোরা মিয়ার পুত্র আব্দুল গফুর, শামশুল আলম, ফজল করিম, ফরিদ আলম গংরা একই এলাকার  হাজী নজু মিয়ার পুত্র হাজী আমির হামজাকে উখিয়া ষ্টেশন থেকে সিএনজি গাড়ী যোগে অপহরণ করে মারধর পূর্বক মৃত ভেবে থানা সংলগ্ন ব্রীজের নীচে ফেলে দেয়। স্থানীয় প্রত্যেক্ষদর্শী লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় চমেকে আমির হামজার মৃত ঘটে। অপহরনের দিন আমির হামজার ভাই জসিম উদ্দিন উখিয়া থানায় এ ব্যাপারে জিডি করলে, আমির হামজার মৃত্যু ঘটায় মামলা রেকর্ড করতে গেলে থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। এতে বিক্ষুদ্ধ হাজার-হাজার জনতা বিক্ষোভ মিছিলের মধ্য দিয়ে থানা ঘেরাও করলে মামলা রেকর্ড করতে বাধ্য হয়। যার নং- জিআর ২০৪/১১। মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিজান, আসামীদের পক্ষাবলম্বন করে মোটা টাকার বিনিময়ে আসামী গ্রেফতারে শুরু থেকেই ছাঁড় দেয়। আসামীগণ পলাতক অবস্থায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এসে এলাকায় বীর দর্পে ঘুরতে থাকে। তদন্ত কর্মকর্তার সহযোগীতায় বাদীকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোষ রফার চেষ্টা চালায় আসামীরা এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী কলি। এরই ফাঁকে বাদী জসিম ও বাদীর ভগ্নিপতি জালাল মামলা আপোষের সিন্ধান্তে পৌঁছে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন করে আসামীদের সাথে। মামলার মিডিয়াকারী জালাল আসামীদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে অগোচরে দুবাই চলে যায়।  মামলা সর্ম্পর্কে আর কোন অভিযোগ নেই মর্মে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা খানম কলির নিকট কাছ থেকে মামলার বাদী জসিম একটি নন জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়ের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।   এবং তার কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায়ে ব্যার্থ হয়ে  কলিকে ৬ মাস বয়সী শিশু সন্তান সহ  এক কাপড়ে শাশুর বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দৌযা হয়। এতে কলি এক দিকে স্বামী হারানোর শোকাহত, অপর দিকে একমাত্র ৬ মাসের কন্যা সন্তানকে নিয়ে বিধবা মাতার ঘরে মানবেতর দিন যাপন করছে অর্ধহারে-অনাহারে। কলি নিহত স্বামীর বিচার চেয়ে গত ২৫/০৪/২০১২ইং কক্সবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আসামীগণের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারে নারাজী ও জামিন বাতিলের আবেদন করেন। এতে মাননীয় জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আবু ওবায়েদা ৭ আসামীদের মধ্যে ৬ জনের নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে। ঐ দিন গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উখিয়া থানায় পৌছানো হয়। আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানার আসামীগণ যথাক্রমে শামশুল আলম স্মারক নং- ৯৯৩, ফজল করিম স্মারক নং- ৯৯৪, ফরিদ আলম স্মারক নং- ৯৯৫, আব্দুল গফুর স্মারক নং- ৯৯৬, আব্দুল করিম স্মারক নং- ৯৯৭ ও নুরুল আলম স্মারক নং- ৯৯৮। অপর আসামী আব্দুর রহিম জামিনে রয়েছে। এদিকে আদালত কর্তৃক গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় নিহতের স্ত্রী কলিকে দায়ী করে মোবাইল মারফত আসামীরা  প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে বলেছে, আমির হামজাকে মেরে একদিনেও জেল খাটি নাই। তোকে (কলিকে) মারলে কয় টাকা যাবে, আমাদের (আসামীগণ) জানা আছে। এদিকে আসামী গ্রেফতারে যে পুলিশের সদিচ্ছা নেই তা তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মিজান বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার কাগজপত্র এখনো পাইনি। তাই আসামী কি ভাবে গ্রেফতার করবো, তাছাড়া পুলিশের একা পক্ষে আসামী গ্রেফতার করা সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে বাদী পক্ষের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এ । অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন- মামলা তদন্তাধীন রয়েছে কারা দোষী, কারা দোষী না সেটা তদন্ত শেষ হলে বুঝা যাবে। তবে আসামীরা পুলিশের নাকের ডগায় ঘুরলে ধরা হবে। আসামী ধরার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। এদিকে আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় অজ্ঞাত নাম্বার দ্বারা কলিকে প্রাণ নাশের হুমকি, মেরে লাশ গুম করবে মর্মে অব্যাহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে কলি চরম নিরাপত্তাহীনতায় স্বামীর বিচার চেয়ে আদালতে, উকিলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কলি স্বামী হত্যার বিচার চান। কিন্ত সে কি ন্যায় বিচার পাবে ?

Post a Comment

0 Comments