Advertisement

প্রচন্ড খরতাপ আর আইশৃংখলা অবনতিতে কক্সবাজারে পর্যটক শূন্য

ফরিদুল মোস্তফা খান
প্রচন্ড খরতাপ আর আইনশৃংখলার ক্রমাগত অবনতিতে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। একই সাথে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশোডিং অতিষ্ট করে তুলেছে
সাধারণ জন জীবন। শহরের হোটেল, মোটেল, গেষ্ট হাউজ, কটেজসহ বিশাল সৈকতের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে বিরাজ করছে জনমানবহীন শূন্যতা। আবাসিক হোটেল মোটেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছর এই সময় কক্সবাজারে যেরকম লো
কজন ছিল এ বছর সেরকম নেই। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, অসহনীয় গরম, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও আইনশৃংখলার নাজুক অবস্থা এজন্য দায়ী। সদর থানা পুলিশ কোন কারণ ছাড়াই ইদানীং হোটেল মোটেল ও কটেজে এসে বাড়া বাড়ি করছে। তাদের হাতে নিগৃহীত হচ্ছে স্বামী স্ত্রীসহ পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসা লোকজন।
সূত্র জানায়, সদ্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যোগদানকৃত ওসি কামরুল হাসানের আগে যারা ছিলেন, তারা যাই করতেন না, ওসি কামরুল হাসান একাই তা করে যাচ্ছেন। খোড়া অজুহাতে নিজের পকেট ভারী করার জন্য উক্ত ওসি যোগদানের পর থেকেই সমুদ্র সৈকত এলাকার হোটেল মোটেল ও কটেজগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করেন। বিষয়টি যেন এরকম হয়ে দাড়িয়েছে, এখন পর্যটন শহরে কাবিননামা না দেখে কাউকে রুম দেওয়া যাবেনা।
সূত্র মতে, শুধু পুলিশের এই বাড়াবাড়ি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার শহরে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানী, গণধর্ষণ, অপহরণসহ নানা অপরাধ অতিতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এখন পর্যটন শহরে দিনের বেলায় পর্যন্ত কেউ নিরাপদ নন। থানার পাশেই সন্ত্রাসীরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরাফেরা করছেন। যেদিকেই দৃষ্টি যায় সেদিকেই চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীসহ নানান প্রকার অপরাধীদের  রামরাজত্ব চলছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, স্থানীয়ভাবে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশ বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। কোন ঘটনায় জড়িত কাউকে আটকতো দুরের কথা উল্টো নিরাপরাধ লোকজনের উপর সওয়ার হচ্ছেন। এছাড়া থানা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলে নবনিযুক্ত ওসি নিজের থানার অপরাধ কম দেখাতে সংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলা না নিয়ে, ডাকাতি হলে নেন চুরি মামলা। আর ছিনতাই হলে নেন মারামারি এবং ধর্ষণের মামলা নেন প্রেমঘটিত অজুহাত সৃষ্টি করে। এঅবস্থায় একদিকে পর্যটক শূন্যতা অপরদিকে তপ্ত রোদে ফেটে চৌচির জেলার ৮ উপজেলা। গাছের পাতা পর্যন্ত নড়ে না। পিচের রাস্তায় পা ফেলার উপায় নেই। পুকুর-খাল শুকিয়ে খটখটা। তাপমাত্রা বাড়ছে পাগলের মতো। সেই সঙ্গে অসহ্য লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ এবং প্রাণীকুল। গরমের কারণে বিভিন্ন স্থানে জনজীবন অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে দুস্থ, দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহ তাপমাত্রা কমার কোনো আশঙ্কা নেই। বরং তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন। আর গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বেশি বেশি পানি পান এবং লেবুর শরবত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments