Advertisement

মহেশখালী কুতুবদিয়ায় আলমগীর ফরিদকে ঠেকাতে জামায়াত ও বিএনপির নেতারা একাট্টা


সৈয়দুল কাদের:
মহেশখালী কুতুবদিয়ার এক সময়ের দাপুটে সাংসদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জেলা বিএনপির কোন্দলের প্রভাবে মহেশখালীর রাজনীতির মাঠে ক্রমশঃ একা হয়ে পড়েছেন। এতে মনোনয়ন হাতিয়ে নেওয়া
জামায়াত এমপি বিএনপি নেতাদের আলমগীর ফরিদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহেশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবক্কর ছিদ্দিক জানান, বিএনপি কারো ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নয়। যারা শুধু ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে তারাই এখন কোনঠাসা হয়ে আছে। যারা ক্ষমতাসীন হয়ে মহেশখালীতে সন্ত্রাস উস্কে দিয়েছেন। কালারমারছড়ার সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা মোহম্মদ হোছাইন ইব্রাহিমের চিংড়ি প্রজেক্ট তিনি দখল করতে বলেছিলেন। এতে আমি রাজি না হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। ত্যাগী নেতা কর্মীরা এখন ওই সব নেতাদের চিহ্নিত করেছে। যাদের ক্ষমতার দাপুটে দলের কর্মীরা ছিল অসহায় ওই কর্মীরা এখন অনেক স্বস্থিতে আছে। সাবেক এমপি আলমগীর ফরিদের ডাকে তারা এখন আর সাড়া দেয়না। মহেশখালীর বিএনপি অনেকটা স্বাধীন। কারো কথায় উঠা বসা করতে হয়না। ত্যাগী নেতা কর্মীরাই এখন দলে নেতৃত্ব দিচ্ছে। দলের মুলস্রোতের বাইরে যারা আছেন তাদের ডাকে কর্মীদের সাড়া দেওয়ার কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা। তারপরও মহেশখালীতে আমরা সবাই মিলে দলের জন্য কাজ করতে চাই। উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপিও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির মুলস্রোতেই রয়েছে। নেতা পুজাঁর রাজনীতি মহেশখালী থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা যুবদলের সাবেক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাবেক সাংসদ আলমগীর ফরিদ মহেশখালী কুতুবদিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। তিনি এখন ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সরদার। উপজেলা বিএনপি সহযোগী সংগঠনের কোন নেতাকর্মী আর তার সাথে নেই। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ের সুবিধা ভোগী কয়েকজন বিএনপি নামধারী লোক তার পিছনে রয়েছে। উপজেলা যুবদলের কমিটি নিয়েও তিনি অনেক তালবাহানা করেছেন।
কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোহম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, আলমগীর ফরিদের বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের ক্ষেপিয়ে তুলতে জামায়াত এমপি তার লোকজন ব্যাপক ৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ টাকা পথে ব্যয় করছেন। জামায়াত এমপি জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে বিএনপিকে হাতে রাখার কৌশল হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে জামায়াতের ৎপরতায় বিএনপির সহযোগিতার কারণে কে বিএনপি নেতা কে জামায়াত নেতা তা চিহ্নিত করা দুরহ হয়ে পড়েছে। অবস্থা অব্যাহত থাকলে মহেশখালীতে বিএনপির অস্তিত্ব হুমকি সম্মুখিন পড়বে। এখন সাবেক এমপির সাথে কিছু আবেগী কর্মী ছাড়া কেউ নেই। তিনি যাদের নেতা বানিয়েছিলেন এখন তারা সবাই বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা আলমগীর ফরিদের সাথে থাকার কথা বললেও তারা গোপনে জেলা বিএনপির নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখে। তিনি মহেশখালী বিএনপির রাজনীতিতে এখন একা। পৌর বিএনপির একটি বিদ্রোহী কমিটি ঘোষনা করলেও তা পরে আর টিকেনি। জামায়াতের কারণে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যপারে জামায়াত এমপি হামিদুর রহমান আজাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা করা হলে তার পিএস ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি ব্যস্থ আছেন পরে কথা বলবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক সাংসদ আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জানান, মহেশখালীতে বিএনপিও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। বড় দলে ভুল বুঝাবুঝি থাকাটা স্বাভাবিক। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুবক্কর ছিদ্দিক যা বলেছেন সব বাজে কথা। সে লোক ভাল নয়

Post a Comment

0 Comments