হাসান তারেক মুকিম
রামুর অতি প্রাচীনতম একটি সুনিদর্শন জাদী পাড়ায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবেষ্টিত পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত পুরানো জাদীটি শত বছরের অধিককাল ধরে রাখা রামুর ঐতিহ্য আজ ধীরে ধীরে ধ্বংশের অতল তলে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘুনে ধরা রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাথামোটা মানষগুলো শুধু বড় বড় সভা সমিতি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানই করে যাচ্ছেন। সভ্য সমাজের কতিপয় অসভ্য লোকের স্বার্থপরতার কারণে মিথ্যার যাতাকলে পড়ে সকলের চোখে ছানি পড়েছে আজ। কোন বিহার (ক্যাং) বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সকলে। কারোর মাঝে ঐক্যতা, ন্যায়পরায়নতা, বিনয় ও ভদ্রতার বালাই মাত্র নেই। বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদের প্রতিচ্ছবি দেখলে মনে হয় এ যেন পাগলের ছড়াছড়ি।
নিঃস্বার্থভাবে সত্যিকারে দেশ, জাতি ও ধর্মের উন্নতি চাইলে, পদবী পাওয়ার সাংগঠনিকভাবে নিজে প্রতিষ্টা পাওয়ার এই ধরণের নোংরা মনোবৃত্তি মন থেকে ধুয়ে মুছে ফেলতে হবে। ময়লা বা ক্ষত আয়নাতে নিজের মুখও ভালভাবে দেখা যায় না। স্বচ্ছ বা অক্ষত আয়নাতেই নিজের সরূপ স্পষ্ট প্রতিয়মান হয়। যতই দামী খাবার হউক না কেন নোরা বা অপরিষ্কার হাতের স্পর্শে নিশ্চয় তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। যদিও বা খায় পেটের রোগ অবশ্যম্ভাবী। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে আমাদের বৌদ্ধ গ্রামগুলো। মাত্রাতিরিক্ত চাওয়া পাওয়ার কারণে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি আমরা। কিছু প্রতিষ্টা করতে সরকারের অধিনস্থ বিশিষ্ট কোন নেতা-মন্ত্রীর কাছে সামান্য অনুদানের আশায় হাত বাড়িয়ে দিই। বক্তৃতায় টেবিলে উঠার সাথে সাথে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকি কখন প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। এই কিছু প্রতিশ্রুতির আশায় আমাদের এত বড় আয়োজন। তাই ধর্মীয় পুজা অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ্য করে এখন ধর্মীয় জ্ঞান আহরণ আসল নয়। নেতা মন্ত্রীর বা বিশেষ অতিথির নিকট থেকে অর্থ আহরণই হয়ে যায় মূখ্য। সমগ্র বিশ্ব জানে বৌদ্ধরা আতœনির্ভর শীল জাতি। কিন্তু যত্রতত্র হাত পাততে পাততে বুদ্ধের ধর্মের প্রকৃষ্ট সরূপ আর বিকশিত হচ্ছে না। ধর্মের নেতৃত্বকারীরা যারা তাদের মধ্যে যদি সত্যতা থাকে তবে নিঃস্বার্থ চিত্তে অন্যকে প্রকৃত ধর্মে উদ্ভূদ্ধ করে নিজেদের মধ্যে আতœনির্ভরশীল হতে পারেনা কেন ? অসাধু লোকদের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে সমাজের আজ এমন নাজেহাল অবস্থা। দৃষ্টিশক্তিহীন অন্ধ লোকই যদি কারো পথপ্রদর্শক হয় গন্তব্য খুজে পাওয়া কি সম্ভব ? ভুল ও মিথ্যা ধ্যান ধারণা এবং আচার অনুষ্ঠানের বেত্রাঘাতে ধীরে ধীরে আমাদের বৌদ্ধ সমাজের মেরুদন্ড ভাঙতে শুরু করেছে বহু আগে থেকে। ভ্রান্তদৃষ্টিসম্পন্ন সুবিধাভোগী স্বার্থসিদ্ধিকারী মানুষগুলোর সাথে পথ চলতে চলতে সমাজের অসহায় সরল সাদা-সীদে মানুষগুলোর মেরুদন্ড আজ ভেঙ্গে গেছে। তাদের জীবনে জন্মজন্মান্তরের পুণ্যের ফলে প্রাপ্ত সুপ্ত জ্ঞানালো ধীরে ধীরে মেরুদন্ডহীন ব্যক্তিদের ন্যায় ম্লান হয়ে গেছে। মেরুদন্ডহীন সমাজকে আঘাত করতে কেউ ভয় পায় না। সে সমাজে যতই জ্ঞানী থাকুক না কেন। তাই এখানে অগ্রনী ভূমিকা রাখে কিন্তু পথ প্রদর্শকই। একজন সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ হাজারো অন্ধ লোকের সহায় হতে পারে। একজন নিঃস্বার্থবাদী ত্যাগী পুরুষ নিজের গুণ মহিমা দ্বারা হাজারো অবোধজনকে জ্ঞানালোয় উদ্ভাসিত করতে পারেন। আমেরিকার একজন বিখ্যাত লেখক নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, ‘একশতটা সিংহের পরিচালনাকারী যদি একটি ভেড়া হয় তবে তাকে আমি ভয় পাইনা। আর একশতটা ভেড়ার পরিচালনাকারী যদি একটি সিংহ হয় তবে তাকেই আমি ভয় পাই।’ আমাদের সামগ্রীক মানসিক, বাচনিক, কায়িক ও আর্থিক সহযোগীতা পেলে জাদীটি হয়তো আরো দীর্ঘসময় জীবিত থাকবে। সমাজে নিঃস্বার্থবাদী ভাল একজন ধর্ম উন্নয়নমূলক সমাজ সংস্কারকের অভাব বোধ করছি বলেই অতক্ষণ এত প্রলাপ বলেছি। সমাজের মানুষের মাঝে এমন কিছু মিথ্যা সংস্কার বাসা বেধে আছে যাদের মাঝে সত্য প্রতিষ্ঠা করা অতীব কষ্টসাধ্য। সত্য প্রচার করতে চাইলে সুন্দর সঠিক মননশীলতার অভাবে তাও গ্রহণ করতে চায় না। বিশেষ এক শ্রেণীর মানুষ যা বুঝাচ্ছে তাহাই সত্য মনে করে দীর্ঘ সময় বুদ্ধিহীন হয়ে দীনানিপাত করে যাচ্ছে। ধর্মের যথার্থ ধারণা ও ব্যাখা না পেলে এভাবে অন্ধাকরেই নিমজ্জিত থাকবে তারা (সমাজের মানুষ)।
জাদী অতি পবিত্র। এর অর্থ বুদ্ধ। আমরা অজ্ঞানতার কারণে এই পবিত্র স্থানকে কবর স্থানে ও পরিণত করেছি। আবার লোভান্ধ হয়ে স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাদীর পবিত্রতা ও সৌন্দর্য্যকে ম্লান করে রেখেছি ব্যবসায়ীক চিন্তায় গাছ গাছালী লাগিয়ে। ছোট বেলায় যে জাদীটি ঘরের আঙ্গিনায় বসে দর্শন করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতাম। আজ কিছু স্বার্থপর অর্থলোভী মানুষের কারণে তা ঢেকে গেছে গাছ গাছালীতে। হারানো ঐতিহ্য উদ্ধারকারী যারা (বৌদ্ধরা) তাদের মূর্খতার কবলে পড়েই ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে শতবছরের ইতিহাস বহনকারী এই জাদীটি। তাই নিজেরাই যদি ইহা রক্ষার জন্য এগিয়ে না আসি। বড় বড় পত্রিকাগুলোতে বছরের পর পর ছবি ছাপিয়ে সরকারী দৃষ্টি নিক্ষেপের আবেদন জানিয়ে এত আকুতি মিনতি করে কিইবা লাভ হবে। সুদীর্ঘকাল ধরে এই জাদীটি যেহেতু আমাদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে আজ এমনই চরম মুহুর্তে এই জাদীর সংস্কার এবং এর হারানো সংস্কৃতি মর্যাদা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করা রামুর সচেতন প্রত্যেক ধর্মানুরাগী বৌদ্ধদের উচিত। এই জাদীই কিন্তু আমাদের আদী গুরু। এর ক্রান্তিকালে আমরা যদি সেবা যতœ ও পরিচর্যার মাধ্যমে রক্ষা না করি তবে মনে হয় রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায় সত্য ধর্ম নিয়ে কখনো মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।
কিভাবে বুদ্ধের প্রকৃত পুজা করতে হয়, হারিয়ে যাওয়া বুদ্ধ যুগের পুরানো ঐতিহ্য উদ্ধারের মাধ্যমে কিভাবে সদ্ধর্মের উন্নতি সাধিত হয় আমরা কেউ জানি না। শুধু ধর্মের নামে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কিছু লৌকিক সুখ প্রাপ্ত হওয়া যায়। কিন্তু পরমার্থ জ্ঞান লাভের জন্য কোন পুণ্যই সঞ্চিত হয় না। বিহার এবং জাদী এক নয়। বিহার হলো ভিক্ষু শ্রামনের থাকার স্থান। একটা উপাসনালয়। কিন্তু জাদী মানে স্বয়ং বুদ্ধ। তাই জাদী সংস্কার মানে স্বয়ং বুদ্ধেরই সেবা করা। সুতরাং অবহেলার জরাজীর্ণবস্থায় পড়ে থাকা এই জাদীটির সংস্কার কাজে এগিয়ে আসার জন্য রামুর ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি মৈত্রীময় আহবান জানাচ্ছি।
রামুর অতি প্রাচীনতম একটি সুনিদর্শন জাদী পাড়ায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবেষ্টিত পাহাড়ের চুড়ায় অবস্থিত পুরানো জাদীটি শত বছরের অধিককাল ধরে রাখা রামুর ঐতিহ্য আজ ধীরে ধীরে ধ্বংশের অতল তলে তলিয়ে যাচ্ছে। ঘুনে ধরা রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাথামোটা মানষগুলো শুধু বড় বড় সভা সমিতি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানই করে যাচ্ছেন। সভ্য সমাজের কতিপয় অসভ্য লোকের স্বার্থপরতার কারণে মিথ্যার যাতাকলে পড়ে সকলের চোখে ছানি পড়েছে আজ। কোন বিহার (ক্যাং) বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া জন্য উঠেপড়ে লেগেছে সকলে। কারোর মাঝে ঐক্যতা, ন্যায়পরায়নতা, বিনয় ও ভদ্রতার বালাই মাত্র নেই। বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকদের প্রতিচ্ছবি দেখলে মনে হয় এ যেন পাগলের ছড়াছড়ি।
নিঃস্বার্থভাবে সত্যিকারে দেশ, জাতি ও ধর্মের উন্নতি চাইলে, পদবী পাওয়ার সাংগঠনিকভাবে নিজে প্রতিষ্টা পাওয়ার এই ধরণের নোংরা মনোবৃত্তি মন থেকে ধুয়ে মুছে ফেলতে হবে। ময়লা বা ক্ষত আয়নাতে নিজের মুখও ভালভাবে দেখা যায় না। স্বচ্ছ বা অক্ষত আয়নাতেই নিজের সরূপ স্পষ্ট প্রতিয়মান হয়। যতই দামী খাবার হউক না কেন নোরা বা অপরিষ্কার হাতের স্পর্শে নিশ্চয় তার গ্রহণযোগ্যতা হারায়। যদিও বা খায় পেটের রোগ অবশ্যম্ভাবী। দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে আমাদের বৌদ্ধ গ্রামগুলো। মাত্রাতিরিক্ত চাওয়া পাওয়ার কারণে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছি আমরা। কিছু প্রতিষ্টা করতে সরকারের অধিনস্থ বিশিষ্ট কোন নেতা-মন্ত্রীর কাছে সামান্য অনুদানের আশায় হাত বাড়িয়ে দিই। বক্তৃতায় টেবিলে উঠার সাথে সাথে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকি কখন প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দেয়। এই কিছু প্রতিশ্রুতির আশায় আমাদের এত বড় আয়োজন। তাই ধর্মীয় পুজা অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ্য করে এখন ধর্মীয় জ্ঞান আহরণ আসল নয়। নেতা মন্ত্রীর বা বিশেষ অতিথির নিকট থেকে অর্থ আহরণই হয়ে যায় মূখ্য। সমগ্র বিশ্ব জানে বৌদ্ধরা আতœনির্ভর শীল জাতি। কিন্তু যত্রতত্র হাত পাততে পাততে বুদ্ধের ধর্মের প্রকৃষ্ট সরূপ আর বিকশিত হচ্ছে না। ধর্মের নেতৃত্বকারীরা যারা তাদের মধ্যে যদি সত্যতা থাকে তবে নিঃস্বার্থ চিত্তে অন্যকে প্রকৃত ধর্মে উদ্ভূদ্ধ করে নিজেদের মধ্যে আতœনির্ভরশীল হতে পারেনা কেন ? অসাধু লোকদের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে সমাজের আজ এমন নাজেহাল অবস্থা। দৃষ্টিশক্তিহীন অন্ধ লোকই যদি কারো পথপ্রদর্শক হয় গন্তব্য খুজে পাওয়া কি সম্ভব ? ভুল ও মিথ্যা ধ্যান ধারণা এবং আচার অনুষ্ঠানের বেত্রাঘাতে ধীরে ধীরে আমাদের বৌদ্ধ সমাজের মেরুদন্ড ভাঙতে শুরু করেছে বহু আগে থেকে। ভ্রান্তদৃষ্টিসম্পন্ন সুবিধাভোগী স্বার্থসিদ্ধিকারী মানুষগুলোর সাথে পথ চলতে চলতে সমাজের অসহায় সরল সাদা-সীদে মানুষগুলোর মেরুদন্ড আজ ভেঙ্গে গেছে। তাদের জীবনে জন্মজন্মান্তরের পুণ্যের ফলে প্রাপ্ত সুপ্ত জ্ঞানালো ধীরে ধীরে মেরুদন্ডহীন ব্যক্তিদের ন্যায় ম্লান হয়ে গেছে। মেরুদন্ডহীন সমাজকে আঘাত করতে কেউ ভয় পায় না। সে সমাজে যতই জ্ঞানী থাকুক না কেন। তাই এখানে অগ্রনী ভূমিকা রাখে কিন্তু পথ প্রদর্শকই। একজন সম্যক দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ হাজারো অন্ধ লোকের সহায় হতে পারে। একজন নিঃস্বার্থবাদী ত্যাগী পুরুষ নিজের গুণ মহিমা দ্বারা হাজারো অবোধজনকে জ্ঞানালোয় উদ্ভাসিত করতে পারেন। আমেরিকার একজন বিখ্যাত লেখক নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, ‘একশতটা সিংহের পরিচালনাকারী যদি একটি ভেড়া হয় তবে তাকে আমি ভয় পাইনা। আর একশতটা ভেড়ার পরিচালনাকারী যদি একটি সিংহ হয় তবে তাকেই আমি ভয় পাই।’ আমাদের সামগ্রীক মানসিক, বাচনিক, কায়িক ও আর্থিক সহযোগীতা পেলে জাদীটি হয়তো আরো দীর্ঘসময় জীবিত থাকবে। সমাজে নিঃস্বার্থবাদী ভাল একজন ধর্ম উন্নয়নমূলক সমাজ সংস্কারকের অভাব বোধ করছি বলেই অতক্ষণ এত প্রলাপ বলেছি। সমাজের মানুষের মাঝে এমন কিছু মিথ্যা সংস্কার বাসা বেধে আছে যাদের মাঝে সত্য প্রতিষ্ঠা করা অতীব কষ্টসাধ্য। সত্য প্রচার করতে চাইলে সুন্দর সঠিক মননশীলতার অভাবে তাও গ্রহণ করতে চায় না। বিশেষ এক শ্রেণীর মানুষ যা বুঝাচ্ছে তাহাই সত্য মনে করে দীর্ঘ সময় বুদ্ধিহীন হয়ে দীনানিপাত করে যাচ্ছে। ধর্মের যথার্থ ধারণা ও ব্যাখা না পেলে এভাবে অন্ধাকরেই নিমজ্জিত থাকবে তারা (সমাজের মানুষ)।
জাদী অতি পবিত্র। এর অর্থ বুদ্ধ। আমরা অজ্ঞানতার কারণে এই পবিত্র স্থানকে কবর স্থানে ও পরিণত করেছি। আবার লোভান্ধ হয়ে স্বার্থসিদ্ধির জন্য জাদীর পবিত্রতা ও সৌন্দর্য্যকে ম্লান করে রেখেছি ব্যবসায়ীক চিন্তায় গাছ গাছালী লাগিয়ে। ছোট বেলায় যে জাদীটি ঘরের আঙ্গিনায় বসে দর্শন করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতাম। আজ কিছু স্বার্থপর অর্থলোভী মানুষের কারণে তা ঢেকে গেছে গাছ গাছালীতে। হারানো ঐতিহ্য উদ্ধারকারী যারা (বৌদ্ধরা) তাদের মূর্খতার কবলে পড়েই ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে শতবছরের ইতিহাস বহনকারী এই জাদীটি। তাই নিজেরাই যদি ইহা রক্ষার জন্য এগিয়ে না আসি। বড় বড় পত্রিকাগুলোতে বছরের পর পর ছবি ছাপিয়ে সরকারী দৃষ্টি নিক্ষেপের আবেদন জানিয়ে এত আকুতি মিনতি করে কিইবা লাভ হবে। সুদীর্ঘকাল ধরে এই জাদীটি যেহেতু আমাদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে আজ এমনই চরম মুহুর্তে এই জাদীর সংস্কার এবং এর হারানো সংস্কৃতি মর্যাদা ও গৌরব পুনরুদ্ধার করা রামুর সচেতন প্রত্যেক ধর্মানুরাগী বৌদ্ধদের উচিত। এই জাদীই কিন্তু আমাদের আদী গুরু। এর ক্রান্তিকালে আমরা যদি সেবা যতœ ও পরিচর্যার মাধ্যমে রক্ষা না করি তবে মনে হয় রামুর বৌদ্ধ সম্প্রদায় সত্য ধর্ম নিয়ে কখনো মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না।
কিভাবে বুদ্ধের প্রকৃত পুজা করতে হয়, হারিয়ে যাওয়া বুদ্ধ যুগের পুরানো ঐতিহ্য উদ্ধারের মাধ্যমে কিভাবে সদ্ধর্মের উন্নতি সাধিত হয় আমরা কেউ জানি না। শুধু ধর্মের নামে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কিছু লৌকিক সুখ প্রাপ্ত হওয়া যায়। কিন্তু পরমার্থ জ্ঞান লাভের জন্য কোন পুণ্যই সঞ্চিত হয় না। বিহার এবং জাদী এক নয়। বিহার হলো ভিক্ষু শ্রামনের থাকার স্থান। একটা উপাসনালয়। কিন্তু জাদী মানে স্বয়ং বুদ্ধ। তাই জাদী সংস্কার মানে স্বয়ং বুদ্ধেরই সেবা করা। সুতরাং অবহেলার জরাজীর্ণবস্থায় পড়ে থাকা এই জাদীটির সংস্কার কাজে এগিয়ে আসার জন্য রামুর ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতি মৈত্রীময় আহবান জানাচ্ছি।


0 Comments