বার্তা পরিবেশক
আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন
পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে রেল লাইন, গভীর সমুদ্র বন্দর সহ প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
‘কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন’ এর উদ্যোগে গতকাল শনিবার সকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়নে অতিরিক্ত বরাদ্দ এবং কক্সবাজারবাসির প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্প, চিংড়ি, লবণ, মৎস, বনসম্পদ, কৃষি ও টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা সরকারী রাজস্ব তাহবিলে জমা হচ্ছে। অথচ এ অনুপাতে এই জেলার উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না। কক্সবাজার দেশের পর্যটন রাজধানী। পর্যটন খাতের উন্নয়ন হলে এই খাতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন এর সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা ও দিদারুল আলম রাশেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আয়াছুর রহমান। বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মোশতাক আহমদ, পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনসারুল করিম, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছলিমুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস রানা, সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ, উন্নয়নকর্মী কে পাল, হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার, দোকান সমিতির নেতা মোস্তাক আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক, ঠিকাদার আতিকুর রহমান সিআইপি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, চিংড়ি হ্যাচারী মালিক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম, লবণ ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন, মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন, হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম, হোটেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসহাক, নারী নেত্রী শামীম আকতার, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি হাফেজ জাফর আহমদ, যুব প্রতিনিধি মহিউদ্দিন প্রমুখ।
সভায় প্রফেসর মোশতাক আহমদ বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের কারণে কক্সবাজার একটি অন্যন্য জেলা। পান, সুপারী, লবণ, মাছ, চিংড়ি, পর্যটন জেলাকে করেছে অনেক বেশি শানিত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কক্সবাজারের উপকুলের বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। এর উন্নয়নের কোন বরাদ্দ না থাকায় ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার উপকুলের মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতার কারণে শিক্ষার হার থেকে পিছিয়ে রয়েছে জেলাবাসি। জেলার স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত করুণ। এ সমষ্টিগত উন্নয়নের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ জেলাবাসির ন্যায্য দাবি।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনসারুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার সফরে এসে জনসভায় দোহাজারী থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, গভীর সমুদ্র বন্দর, বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প, বাঁকখালী নদী খনন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ, বিমান বন্দর সম্প্রসারণ সহ বিভিন্ন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছিলেন। এবারের বাজেটে এ প্রতিশ্রুত প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।
কক্সবাজার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ছলিমুর রহমান বলেন, জাতীয় বাজেটে কক্সবাজারের জন্য সুষম বরাদ্দ প্রদান করলে দেশের উন্নয়ন হবে। তিনি কক্সবাজারে লবণ বোর্ডের অফিস স্থাপন করে লবণ শিল্পের উন্নয়ন, শিশু পার্ক স্থাপন, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, উপকুলের বেড়িবাধ নিমার্ণের দাবি জানান।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন এবারের বাজেটে আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ ও জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দের দাবি জানান।
চিংড়ি হ্যাচারী মালিক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রপ্তানী পন্য। প্রতিবছর চিংড়ি রপ্তানী করে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে। অথচ কক্সবাজারের চিংড়ি হ্যাচারী সমুহ এখন করুণ পরিস্থিতিতে। তিনি হ্যাচারী মালিকদের জন্য সহজ শর্তে ১ শত কোটি টাকা ঋণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লবণ ব্যবসায়ী রইচ উদ্দিন বলেন, দেশের মোট চাহিদার লবণ উৎপাদন হয় কক্সবাজারে। লবণ চাষীদের বিনামূল্যে পলিথিন সরবরাহ এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে এ শিল্পকে রক্ষা করতে হবে।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, কক্সবাজারের উন্নয়ন পুরোজাতির উন্নয়ন। তাই কক্সবাজারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া জরুরী।
কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দস রানা বলেন, টেকনাফ স্থল বন্দর থেকে প্রতিবছর ১২০ কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। অথচ টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের করুণ দশা বিরাজ করছে। উন্নয়ন হয়নি স্থল বন্দরেরও। তিনি এর জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।


0 Comments