Advertisement

টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে বাংলা পাস বই নিয়ে মিয়ানমার নাগরিকের পারাপার ! সচেতন মহল অসোন্ত


কাইসার পারভেজ চৌধুরী
টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে বাংলা পাস বই নিয়ে মিয়ানমার নাগরিকের আসা যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব বাংলা পাস বইয়ের মালিক বাংলাদেশী
কিনা ও তাদের কাছে বাংলাদেশী কোন আইডি কার্ড আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখার দাবী উঠেছে। অনুসন্ধানে জানাযায়,টেকনাফ ট্রানজিট ঘাট হয়ে প্রতিদিন বাংলা পাস বই নিয়ে অসখ্য মিয়ানমার নাগরিক আসা-যাওয়া ও ব্যাবসা পরিচালনা করছে । এসব মিয়ানমারের নাগরিক দীর্ঘদিন আগে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে টেকনাফে অনুপ্রবেশ করে। প্রবেশের পর তারা টেকনাফ উপজেলার গ্রামে,পাড়ামহল্লাই,পুরোনো মিয়ানমারের নাগরিকদের ঘরে,নতুন মিয়ানমার নাগরিকদের আত্বীয় স্বজনদের ঘরে;ভাড়া ঘরে,ব্যবসা প্রতিস্টানে ও রোহিঙ্গা কলোনি গুলোতে অবস্থান করে। কয়েক বছর পার হয়ে গেলে এরা এদেশের স্থানীয়দের সাথে বিবাহিক সম্পর্ক তৈরী করে। এদেশের নাগরিকরা মিয়ানমার যুবতীদের বিবাহ করে ও রোহিঙ্গা যুবকদের মেয়ে বিয়ে দিয়ে আত্বীয় সম্পর্ক সৃষ্টি করে তুলে। এর পর এদেশের বিভিন্ন ঠিকানা,বোন জামাই,স্ত্রী,চাচাতো ভাই,খালাতো ভাই,মামাতো ভাই সহ বিভিন্ন পরিচয় ব্যাবহার করে জন প্রতিনিধির মাধ্যমে এবং তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পাসপোর্ট,পাস বই,জন্মনিবন্ধন,জাতীয় সনদ পত্র,ভোটার আইডি কার্ড,জমি ক্রয় বিক্রয় সহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র তৈরী করে নিয়ে টেকনাফের স্থায়ী বাসিন্দা ও এদেশের নাগরিক হওয়ার জোর প্রচেস্টা চালিয়ে যাচেছ। শুধু তাই নয়,মিথ্যা তথ্য দিয়েও অনেক মিয়ানমার নাগরিক কাগজ পত্র তৈরী করে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে কৌসুলে একদিনের বাংলা পাস বই তৈরী করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলা পাস বইতে মিয়ানমার নাগরিক থাকার অভিযোগে গত ২২ মার্চেও ট্রানজিট ঘাটে অসংখ্য পাস বই রেখে দেওয়া হয়েছিল,রেখে দেওয়া এসব বইগুলো ও হচেছ,ফয়সাল ৪২৭৭,জোবেদা আকতার ২৮০১,হারুন ৩৯৩৪, সাব্বির আহাম্মদ ১৬৯০, রাবেয়া বেগম ১৮৯৭, মোহাম্মদ হাছান ৩৯১৭, ছৈয়দ আকবর ৩০৫৭, মোঃ সোলাইমান ২১৪১, সালামত উল্লাহ ৪২১৭, নুর হোসেন ৪০৮৮, রাফিজা খাতুন ৪০৮৬, জাকির হোসেন ৪৬৮০, রহিমা খাতুন ৪৪৮৬, জিয়াবুর রহমান ৩২৩৪, খাইর আহাম্মদ ৪৮৭৬, আবু তাহের ৪২০২, রহিম উল্লাহ ৪৪১১ ও মনোয়ার হোসেন ৪৮২৬। নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরো জানা গেছে, বর্তমানে টেকনাফ ট্রানজিট ঘাটে এমনও কিছু পাস বই রয়েছে, যাদের বই ও ছবির সাথে কোন প্রকার মিল নেই। এ ব্যাপারে ট্রানজিট ঘাটের বাংলা পাস বই বিতরনকারী আমির আহাম্মদ জানায়, বর্তমানে ট্রানজিট ঘাটে ৫ হাজারেরও বেশি বাংলা পাস বই রয়েছে। তার মধ্যে কম পক্ষে অর্ধেক মিয়ানমার নাগরিকের বই হবে। তবে দৈনিক বাংলাদেশ মিয়ানমার যাতায়ত করে দেড়শ থেকে দুইশ জন। এই দেড়শ দুইশ জনের মধ্যেও অর্ধেক মিয়ানমার নাগরিকের বই হবে। তিনি আরো জানায়, বাংলা পাস বইতে মিয়ানমার নাগরিক না থাকলে ট্রানজিটেই অচল অবস্থা হতে পারে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন,ট্রানজিট ঘাটে মিয়ানমার পাস বইতে যেমনি কোন বাংলাদেশী নেই,তেমনি বাংলা পাস বইতে যদি মিয়ানমার নাগরিক না থাকে তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা করা হউক। সদর বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানায়,মিয়ানমার নাগরিকের পাস বই সন্দেহে কিছু বই যাচাই বাচাই চলছে।

Post a Comment

0 Comments