Advertisement

পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এগিয়ে


কায়সার হামিদ মানিক
 রুমানা ইসলাম রুমু (২৭) থাকেন উখিয়ার মালভিটা পাড়ার ভাড়া বাসায়। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। স্বামী শফিকুল ইসলাম পেশায় ড্রাইভার। ব্যক্তিগত
জীবনে রুমানা ইসলাম রুমু দুই সন্তানের জননী। ১৪ বছর আগে ১৯৯৯ সালে তার বিয়ে হয় মধুপুর কাকরাইল টাঙ্গাইলের ছেলে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। শ্বশুরের সংসারে কোনো অভাব অনটন না থাকলেও স্বামীর স্বল্প আয়ে তাদের ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ করা কষ্টকর হয়ে পড়ত তখন। ১৪ বছরের সংসার জীবনে কোল আলো করে জন্ম নেয় তার বড় ছেলে রবিউস সানি প্রান্ত ছোট মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহা দিশা।
সন্তানদের মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে তিনি সব সময় সংসারের কল্যাণ চিন্তায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন। কী করে সংসারের জন্য আরও অধিক আয়ের ব্যবস্থা করা যায়- এই চিন্তা তার মাথায় সব সময় ঘুরপাক খেতে থাকে। লেখাপড়ার ঘন্ডি বি.এ’র পর আর এগোতে না পারলেও আত্ম নির্ভরশীল হওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা তার মনে বিয়ের আগে থেকেই ক্রিয়াশীল ছিল। কিন্তু তখন পরিবারের সমর্থন না পাওয়ায় স্বপ্ন বাস্তবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। এই চিন্তার কথা তার স্বামীকে জানালে স্বামী তাকে খুশি মনে সম্মতি দেন। প্রথম অবস্থায় তিনি পুঁজির বন্দোবস্ত করতে কাজল ভাবী থেকে ২ হাজার টাকা ধার নিয়ে শুরু করেন এবং ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ২০ হাজার টাকা ও গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার টাকা এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে ‘বধুয়া শপিং কর্ণার’ কে বড় করে তোলেন তিনি।
তার ভাষ্যমতে, প্রথম ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হলেও মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আজ তার ব্যবসার পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার বধুয়া শপিং কর্ণারে শ্রমিক রয়েছে ৩ জন। দূর দৃষ্টি সম্পন্ন রুমানা ইসরাম রুমু আজ নিজেই শুধু আত্মনির্ভরশীল নন, পাশাপাশি নারীদের বেকার সমস্যা সমাধানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। বর্তমানে তার মাসিক নীট আয় কমপক্ষে পনের হাজার টাকা। তার বধুয়া শপিং কর্ণারে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য সব ধরনের রুচিশীল পোশাক সামগ্রী পাওয়া যায়। পাওয়া যায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদিত ব্লক বুটিকের পোশাক সামগ্রী। স্বামীর পাশাপাশি নিজেও আয় করায় তার সংসারে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়।
তিনি জানান, তার আয় হতে তিনি প্রতি মাসে ইসলামী ব্যাংকে ২ হাজার, গ্রামীণ ব্যাংকে ৫ শ ও ব্র্যাংক ব্যাংকে ৫ শ টাকা করে মোট ৩ হাজার টাকা ডিপিএস জমা করেন। ব্যক্তি জীবনে শতভাগ সফল এই নারী আজ একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কাজের সুযোগ পেলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আমাদের নারী সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণীয় ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা। বাংলাদেশের তার মতো যত বেশী উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে তত দ্রুত দারিদ্র্যের দুষ্ট চক্র থেকে মুক্ত হতে পারবে।

Post a Comment

0 Comments