বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম:
কথিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ইউনিপে টু ইউর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ব্যবস্থাপক, এজেণ্টসহ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।
দশ মাসে দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দুজন নারী গ্রাহকের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান বুধবার তাদের বিরুদ্ধে এ পরোয়ানা জারি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ কর্মকর্তাদের সূত্রে বাংলানিউজ এ পরোয়ানা জারির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তারা হলেন, ইউনিপে টু ইউর চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান শাহীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনতাসির হোসেন ইমন, স্পন্সর এজেন্ট এম সাজেদউল্লাহ সাজ্জাদ, চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক হামিদুল হক মানিক এবং তিন এজেন্ট মনসুর আহম্মদ প্রকাশ মনসুর, শ্রীপতি বিশ্বাস ও শতরুদ্র চৌধুরী বাপ্পা।
দুটি মামলার মধ্যে সাজেদা আনছারী নামে এক নারী গ্রাহকের মামলায় আসামি করা হয়েছে চেয়ারম্যান ও এমডিসহ পাঁচজনকে। স্বপ্না সিকদার নামের অপর এক গ্রাহকের মামলায় আসামি করা হয়েছে এজেন্ট শ্রীপতি বিশ্বাস ও শতরুদ্র চৌধুরী বাপ্পাকে।
বাদিনী সাজেদা আনসারী অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ব্যবসা এবং দশ মাসে দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার লোভনীয় অফার দিয়ে আসামিরা তার কাছ থেকে ২ লাখ ১২ হাজার একশ টাকা গ্রহণ করেন।
নগরীর মুরাদপুরে রমনা ট্রেড সেন্টারের সপ্তম তলায় ইউনিপের স্থানীয় কার্যালয়ে ২০১১ সালের ১ এপ্রিল ও ৪ এপ্রিল দুদফায় তিনি এ টাকা আসামিদের হাতে দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তারা কোনো টাকা বাদিনীকে ফেরত না দেওয়ায় তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ১০৯ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।
বাদিনী স্বপ্না সিকদার অভিযোগ করেছেন, ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি এজেন্ট শ্রীপতি বিশ্বাস ও শতরুদ্র চৌধুরী বাপ্পা তার কাছ থেকে ৬৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু দশ মাসে দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার কথা বললেও কোনো টাকা ফেরত দেননি।
এরপর থেকে কোনো টাকা না দিয়ে দুজন উধাও হয়ে যান। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত না পাওয়ায় তিনি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৫০৬ (বি) ও ১০৯ ধারায় দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত দুটি মামলা আমলে নিয়ে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজিরের জন্য নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।


0 Comments