Advertisement

উখিয়ায় ইটভাটা দুইটির ট্রেড লাইসেন্স বাতিল


বার্তা পরিবেশক:
বহুল আলোচতি উখিয়ায় ইটভাটা দুইটির   ট্রেড  লাইসেন্স ও অনাপত্তি পত্র বাতিল করা হয়েছে। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু
জানিয়েছেন, ভুল তথ্য প্রদান করে ২টি ইটভাটার ট্রেড লাইসেন্স ও অনাপত্তি পত্র সংগ্রহ করা হয়। গত ১৬ মে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে ওই ট্রেড  লাইসেন্স ও অনাপত্তি পত্র বাতিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত পত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিদের্শ অমান্য করে বর্তমানে ইটভাটা তৈরীর কাজ চলছে। তিনি জানান, ইটভাটা নিমার্ণের জন্য নিজস্ব রাস্তা তৈরী বাধ্যতামুলক। কিন্তু সরকারী রাস্তা ব্যবহার করে ধানী জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে।
উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটা নির্মাণের কাজ করছে ক্ষমতাসিন দলের প্রভাবশালী ২ ব্যক্তি। লাইসেন্স ও অনুমতি পত্র না পাওয়ার পরও প্রকাশ্যে চলছে এ কাজ। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন আন্দোলন শুরু করেছে। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইন্সেন ও অনুমতি পত্র না পাওয়ার আগ পর্যন্ত ইটভাটা তৈরীর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা মানছেন না প্রভাবশালী ওই ২ ব্যক্তি। শনিবারও নিদের্শ অমান্য করে ইটভাটা নির্মাণের কাজ চলতে দেখা গেছে।
উখিয়া উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকারি কোন ধরনের আইন তোয়াক্কা না করে হলদিয়াপালং ইউনিয়নে সাবেক রুমখা এলাকায় ২ টি ইটভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম চৌধুরী (প্রকাশ মিডিয়া শাহ আলম)ও মোস্তাক আহমদ নামের ২ ব্যক্তি এ ইটভাটা নির্মাণ করছে। ইটভাটা দু’টি স্থানীয় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘনবসিতপূর্ণ এলাকা ও বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের ২শ’ গজের মধ্যে অবস্থিত। উক্ত স্থানে ইটভাটা নির্মাণ করলে স্কুলের শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আশপাশের সাধারণ জনগণ ও বন বিভাগের জায়গায় চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। ইটভাটা দুটিতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি হলো রুমখা পালং-সাবেক রুমখা সড়ক। স্থানীয় জনগণের অনেক দিনের দাবি ফলে বর্তমানে ওই সড়কটি কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। ওই সড়কটি ইটভাটার ভারী যানবাহন যাতায়াত করলে সড়কটি অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। এর প্রেক্ষিতে স্থানীয় লোকজন ইটভাটা ২ টি বন্ধের জন্য আন্দোলন শুরু করেন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দফতরে স্মারক লিপি প্রদান করে ইটভাটা বন্ধের জন্য দাবি জানানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইটভাটা নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নিদের্শ দেন।
পরিবেশ আন্দোলন কর্মী আলহাজ্ব আব্দুস শুক্কুর জানিয়েছেন, শাহ আলম ১ একর জমিতে ইটভাটা করার আবেদন করে ৮ একর জমি জুড়ে কাজ করছেন। মোস্তাক আহমদ ১ একরের মধ্যে ৭ একরের বেশি জমিতে কাজ করছেন। আবেদন করে অনুমতি না পেলেও ইটভাটা নির্মাণ কাজ করা প্রশ্নবিদ্ধ। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টিও রহস্যজনক বলে উল্লেখ্য করেন তিনি। এর পরও ইটভাটা নিমার্ণ করলে উচ্চ আদালতে রীট করার হবে বলে জানান তিনি।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া ইটভাটা নির্মাণ বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইট ভাড়ার মালিক জেলা আওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক শাহ আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পরিবেশ বান্ধব ইটের ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। এই ইট ভাটা পরিবেশ বান্ধব না হলে গুটিয়ে নেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments