কায়সার হামিদ মানিক
‘রাত-দিন প্রায় প্রতি ঘন্টায় লোাডশেডিংতো আছে, তার সঙ্গে “গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হয়েছে ১০/১৫ মিনিট ও আধা ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ
যাওয়া আসার যন্ত্রনা। আবার কখনো সেই যে লোডশেডিং শুরু হয়, ৬ ঘন্টায়ও আর বিদ্যুতের দেখা মেলেনা। বিদ্যুৎ নিয়ে উখিয়ায় এটা আসলে কি হচ্ছে? এই জিজ্ঞাসা উখিয়ার হাজার হাজার ভূক্তভোগী গ্রাহকদের প্রশ্ন। সম্প্রতি উখিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বিরোধী সভায় আওয়ামীলীগ নেতা শাহ জাহান সিকদার উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার হুমকি উচ্চারণ করেন।
ইতিপূর্বে উখিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় ও বিদ্যুতের এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা ও উদাসীনতার কারণে উখিয়ার হাজার হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ভোগান্তির অন্ত নেই। স্থানীয়দের প্রশ্ন সরকার কথায় কথায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা বললেও এসব বিদ্যুৎ কোথায় যাচ্ছে? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, উখিয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম ছাদেকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি আছে। কাজেই লোডশেডিং হবে। সবাই মিলে সাশ্রয় করেও লোড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই ঘাটতি পোষাতে হবে। উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সভাপতি ছৈয়দ হোছাইন জানান, ইতি মধ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে সারা দেশে এক বিশৃংখল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লোডশেডিং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি চলছে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও, ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ, প্রতিবাদ সভা প্রভৃতি। উখিয়ায়ও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলেও ইতি মধ্যে বাড়ছে চাহিদা। আগের ক্রমপুঞ্জীভূত বিপুল ঘাটতি ও বর্তমানের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখনো বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছেনা। এ দিকে বিদ্যুৎ নিয়ে চলমান এইচ এস সি পরীক্ষার্থীদের পড়া লেখা নিয়ে নানা ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে। কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানান, পড়া লেখা করতে বসলে আধা ঘন্টার ব্যবধানে কম পক্ষে ৬ বার বিদ্যুতের মিচকল দেওয়া হয়। এ ধরণের ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা দাবী করেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে চরম অন্তরায় হয়ে দাড়াবে এ বিদ্যুৎ। এক দিকে গরম অন্যদিকে লোডশেডিং দু’ইর মাঝে রাতের বেলা শিশুদের গরমের অসহ্য যন্ত্রনায় হাউ মাউ করে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে কান্নার আওয়াজ শুনা যায়। এ ছাড়াও বাসাবাড়ীর মহিলারা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ীর উঠানে একটু ঠান্ডা বাতাশের আশায় রাতেও বসে সময় কাটায়।

0 Comments