Advertisement

১৮ দলীয় জোট :১৫ দলের চকরিয়ায় কোনো অস্থিত্ব নেই !


মিজবাউল হক, চকরিয়া :
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল নিয়ে গঠিত জাতীয়তাবাদী জোটে ১৫ দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম, কার্যালয়, সমর্থক এমনকি কোনো অস্থিত্ব পর্যন্ত নেই চকরিয়া উপজেলায়। প্যাড সর্বস্ব এসব দল গুলোকে নিয়ে জোট গঠন জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয় মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 
সূত্র জানা গেছে, তত্বাবধায়ক সরকারের পূর্ন:বহালসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ রাজনৈতিক দল নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী মহাঐক্যজোট গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেছে। আবার এসব দল নিয়ে রাজনীতির মাঠে নানা কথাও এসেছে। প্যাড সর্বস্ব দল নিয়ে আদৌ সরকারের পতন হবে কিনা তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতের নাম থাকায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা বাংলাদেশ এখনো জোটে অর্ন্তভূক্ত হয়নি। তবে তারা সরকার বিরোধী যুগোপযোগী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে। চকরিয়া ইসলামী ঐক্যজোটের প্রেসবিজ্ঞপ্তি ও বিবৃতি ছাড়া আর কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। বিএনপি, জামায়াত ইসলামী ও ইসলামী ঐক্যজোটের কার্যক্রম থাকলেও অন্য ১৫ দলের সাংগঠনিক কর্মসূচী একেবারেই নেই। দল গুলো হচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), বাংলাদেশ ন্যাপ, মুসলিম লীগ, ইসলামিক পার্টি, ন্যাপ ভাসানী ও ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল)। এসব দলের সংগঠনিক কার্যক্রম ছাড়াও কোন অস্থিত্ব পর্যন্ত নেই। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির জোরালো সাংগঠনিকভাবে কোনো কার্যক্রম নেই। শুধু জাতীয় কর্মসূচী গুলো পালন করে থাকে। সহযোগী সংগঠন গুলো দলকে চাঙ্গা করতে মিছিল মিটিং করলেও মুল দলের কোন খবর নেই। এত বড় একটি সংগঠনের উপজেলা পর্যায়ে কোনো অফিসও পর্যন্ত নেই। নীরব সমর্থকদের কারণে চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বার বার এমপি নির্বাচিত হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান খোকন মিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের অপকর্মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বিএনপিসহ আরো ১৭ দল নিয়ে জোট গঠন করা হয়েছে। চকরিয়াতে এসব দলের অস্থিত্ব না থাকলেও যা আছে তা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল হলেও আন্দোলনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া অন্য দল গুলোর কোনো অস্থিত্ব নেই। তারা নাম সর্বস্ব দল নিয়ে জোট করলেও জনগণের কোন কাজে আসবে না। তিনি আরো বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না করে ব্যক্তি বিশেষের জন্য আন্দোলন করছে। যা জনগণের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় বলে তিনি দাবী করেন। এদিকে এক সময় চকরিয়া জামায়াতের দূর্গ হিসেবে পরিচিত রয়েছে। বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধাপরাধীর দায়ে অভিযুক্ত দলটি নাজুক অবস্থায় রয়েছে। চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, সরকারের দমন নীতির কারণে জামায়াত সরাসরি কোন প্রোগ্রাম করতে পারছে না। তবে ওয়ার্ড় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত জামায়াতের কমিটি রয়েছে। তাছাড়া বিশাল কর্মবাহিনীও আছে। সময় হলে সব বলে দেবে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠন করা হয়েছিলো। 

Post a Comment

0 Comments