অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয় ককসবাজার ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির খবর পেয়ে এর কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীর সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার
শর্তে যে সব তথ্য দেন তার সারাংশ দাড়ায় এইঃ-
দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ছাত্র ও ঢাকা ক্যাম্পাসের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর অলি উল্লাহর নেতৃত্বে তার ছাত্র সাইফুল ইসলাম ইসলামিক স্টাডিজের মাধ্যমে ককসবাজার ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করেন ২০০৯ সালে এবং তারই আন্দোলনের ফলে ১/১/২০১০ তারিখ আনুষ্ঠানিক ভাবে ককসবাজার ক্যাম্পাস উদ্ভোধন করেন উভয়জনের শিক্ষক প্রো-ভিসি প্রফেসর হেলাল আহমদ কবির। সাথে ছিলেন ধর্মবিজ্ঞান অনুষদের ডীন মাহমূদুল হাসান ইউসুফ। ১ম বছরেই এতে ছয় বিষয়ে মোট ১১টি প্রোগ্রাম চালু হয়। তম্মধ্যে শুধুমাত্র এলএলবি পাস কোর্স নিয়েই কেন্দ্রীয় ভাবে ঝামেলা হয় ইউজিসির আপত্তির কারনে। এ ব্যপারে ককসবাজার ক্যাম্পাস শুরুতে অজ্ঞাত থাকলেও শেষে এসে তার একটি বিহিত বা বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত। কিন্তু ২০১১ সালে এসে ফয়জুল্লাহ নামক জনৈক অনুকম্পাভূগী লোক সকল সমস্যা সমাধান করার ও সব দায়-দায়িত্ব বহন করার ঘোষণা দিয়ে ককসবাজার ক্যাম্পাস দখল করে প্রথমোক্ত দু’জনকেই আউট করেন। ফলে তাদের পক্ষে ভুক্তভোগী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সরাসরি কিছুই করা সম্ভব হয়নি। ফয়জুল্লাহ যাবতীয় বকেয়া ফি উসূল করে মূল সার্টিফিকেট-মার্কসিট দিলেও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কিছুই না করে সব দায়-দায়িত্ব পূর্ববর্তী দায়িত্বশীলদের বলে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অথচ ঐ সব সার্টিফিকেটের জন্য হেড অফিসের যাবতীয় পাওনা মিঠাতে হয় ডক্টর অলি উল্লাহকে জমি বন্ধক রেখেই। মূলত ফয়জুল্লাহর কারনেই ককসবাজারের এলএলবি ছাত্র-ছাত্রীদের মুল্যবান একটি বছর নষ্ট হয় এবং বর্তমান হাজারের অধিক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষা জীবনসহ গোটা ক্যাম্পাসটাই ধ্বংশের দারপ্রান্তে চলে গেছে। তারপরও সে ক্ষমতা আকড়ে থেকে ক্যাম্পাসের স্থায়ী কর্তা হওয়ার জন্য জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ভবিষ্যতে ফয়জুল্লাহর কারনে কেউ কোন সমস্যায় পড়লে বা সমস্যামুক্ত হতে না পারলে তার জন্য পূর্বের কোন দায়িত্বশীলকে কোন ভাবেই দায়ী করা যাবে না। চরম স্বৈরাচার ফয়জুল্লাহর রাহুগ্রাস থেকে ককসবাজার ক্যাম্পাস মুক্ত হলেই তবে এর ভবিষ্যৎ উজ্জল, নতুবা এর ধ্বংস সময়ের ব্যাপার মাত্র। তার সিদ্ধান্তের কোন স্থায়িত্ব ও ভরসা নেই। সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য করা তার কাছে ডালভাতের মতই সাধারণ ব্যাপার।
ফয়জুল্লাহ কেমন লোক তা জানতে হলে যাদের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে তাদের কয়েক জন হচ্ছেন, ক. তার আপন বড় ভাই মুফতী মাহমূদুল হক, যাকে প্রথমে প্রশাসক বানিয়ে নিজে তার প্রতিনিধি হয়ে আসে। কিন্তু তিনি তার আচরণে ক্ষুব্দ হয়ে প্রতিনিধিসহ পদত্যাগ করলে নিজেই ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক হয়ে আসে। খ. তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী জনাব আবুল কাশেম মুল্লা, যাকে সে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত করে। গ. বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। ঘ. তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান চকরিয়া পুরাতন বিমান বন্দরস্থ আর রায়েদ একাডেমীর প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষকবৃন্দ। ঙ. তার ফেল করা নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সচেতন জনতা, প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, ফয়জুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার বানিয়েছিলেন যিনি সেই প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকেই সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকুরিচ্যুত করে। তাকে ককসবাজার ক্যাম্পাসের ইনচার্জ বানান যিনি সেই ডক্টর অলি উল্লাকেই সে ককসবাজার ছাড়া করে। যে দারুল ইহ্সান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে সে দেশ-বিদেশে নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য চাঁদা তুলে হঠাৎ লাখপতি থেকে কোটিপতি বনে যায়, সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সম্মিলিত অনাস্থার কারনে তাকে সাময়িক ভাবে ওএসডি করায় সে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কেই বেনামে বিভিন্ন সরকারী অফিসে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করে। সে নিজেকে ক্যাম্পাসের ইনচার্জ, ডেপুটি ডিরেক্টর, প্রশাসক, এডমিনিস্ট্রেটর ইত্যাদি একেক সময় একেক পরিচয় দিয়ে বেড়ায়। সে শুদ্ধ করে বাংলাও বলতে পারে না, বক্তৃতা দিলে সবাই মুখ টিপে হাসতে থাকে। সে ছাত্র-ছাত্রী তো দূরের কথা, কোন শিক্ষককেও কম্পিউটার ব্যবহার করতে দেয় না, নিজেও ব্যবহার করতে জানে না। সে শুধু চেয়ার, টেবিল, অফিস, নেম প্লেট ও ভিজিটিং কার্ডের চাকচিক্য নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। সে “শক্তের ভক্ত নরমের যম”-এর এক জ্যান্ত উদাহরণ। সে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরাতন হুন্ডা দিয়ে নতুন হুন্ডার টাকা কেটে নেয়, আবার সে হুন্ডাই নিজের দাবী করে হজম করে নেয়। সে ক্যাম্পাসের ১ম ম্যাগাজিন ও ১ম সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠান থেকে ছয় বিভাগের মধ্যে তিন বিভাগকে গোঁয়াতুমিবসত বাদ দিয়ে উভয় আয়োজনকেই নষ্ট করে দেয়। সে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত নিজ বিভাগেরই কাউকেও সঠিক ভাবে সার্টিফিকেট-মার্কসিট দিতে পারেনি। সে দুর্নীতি ও টাকা হজম করা ছাড়া অন্য যে কোন বিষয়েই সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল। তার হাতে ক্যাম্পাস বা ক্যাম্পাসের কোন ছাত্র-ছাত্রীরই ভবিষ্যত নিরাপদ নয়।
তবে যে যাই বলুক তার কিছু গুণও আছে। যেমন বিদেশ গিয়ে অনুদান আনতে পারা। যাকে যখন যেভাবে কাবু করতে হয় তাকে তখন সেভাবে কাবু করতে পারা। যে উপকার করে তারই ক্ষতি করা। চরম অপমানিত হয়েও বুক ফুলিয়ে চলতে পারা। পায়ে ধরে কাজ আদায় করার পর চুলে ধরতে দেরি না করা। ইত্যাদি। ভুক্তভূগী ছাত্র-ছাত্রীরা যে কোন সময় তাকে জুতাপেঠা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিতে পারে।
কতিপয় সুবিধাভূগী ছাড়া ফয়জুল্লাকে কোন ছাত্র-শিক্ষক পছন্দ না করলেও সে টিকে আছে মূলত মসজিদ নির্মানের জন্য আরব দেশ থেকে আনা অনুদানের টাকা অবৈধ ব্যবহার করে। সে নিজেই প্রকাশ্যে একাধিকবার ঘোষণা দেয় “আমি ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছি। হেড অফিসের কেরানী থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে কিনে নিয়েছি। বর্তমান সরকারের সময় আমাকে কেউ কিছু করতে পারবে না”। টাকা দিয়ে সে হেড অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ আমলাকে হাত করে। যার প্রেক্ষিতে সর্বপ্রথম বন্ধের দিন বিবাদী পক্ষের কাউকে খবর না দিয়ে ফিনেন্স ডিরেক্টর একেএম জহির ককসবাজার এসে তদন্তের নামে অভিযোগকারী ফয়জুল্লাহর পক্ষে রিপোর্ট দেন, যার ফলে সে ১৩/১০/২০১১ তারিখ থেকে ককসবাজার ক্যাম্পাস দখল করে। জহির সার্টিফিকেট বাবৎ ডক্টর অলি উল্লাহর কাছ থেকে আট লক্ষ তেত্রিশ হাজার টাকা পাওনা দাবী করে বলেন “তা নিয়ে আস্লে ক্যাম্পাস দিয়ে দেব”। অথচ ঐ সব সার্টিফিকেট দিয়ে ফয়জুল্লাহ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা উসূল করলেও তার কোন খবর নেই। ফলে জমি বন্ধক রেখে ডক্টর অলি উল্লাহ নগদ পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে গেলে আউটার ক্যাম্পাসের ডিরেক্টর গোলাম সুলতান ও ডেপুটি ডিরেক্টর মাহমূদ আহমেদ বলেন “আল্লাহর কসম, আপনার ক্যাম্পাস আপনাকে দিয়ে দেব, মাত্র দু’এক সপ্তাহ সময় দিন”, এ কথা বলে গত ৭/১২/২০১১ তারিখ টাকা নেয়ার পর আজ পর্যন্ত নানা টালবাহানায় সময় ক্ষেপন করছে। এর মধ্যে ডক্টর অলি উল্লাহকে ককসবাজার ক্যাম্পাসের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ঢাকা ক্যাম্পাস থেকে ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়। কক্সবাজার ক্যাম্পাস যার নামে অনুমোদিত সেই প্রফেসর কামাল উদ্দিনকে ছয় মাস পূর্বে নোটিশ দেয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হবে এপ্রীলের মাঝামাঝিতে। আবার তার কাছ থেকে ডক্টর অলি উল্লাহর নামে ক্যাম্পাস দেয়ার জন্য লিখিত আবেদন আনতে বাধ্য করা হয়। ককসবাজার ক্যাম্পাস নিয়ে এতসব ছিনিমিনি খেলার পেছনে এক নাম্বারে যিনি আছেন তিনি হচ্ছেন মাহমূদ আহমেদ। যিনি পূর্বে ছিলেন হেড অফিসের কেরানী। পরে হয়েছেন আউটার ক্যাম্পাসের ডেপুটি ডিরেক্টর। তার উপরে আছেন লিগ্যাল এডভাইজার এডভোকেট ফয়জুল কবির, যিনি ঢাকা থেকে বিমানে উড়ে এসে জোর গলায় ঘোষণা দিয়ে উড়ে যান, “আমরা মুখে যা বলি তাই আইন, সাদা কাগজ্ দিয়েও স্ট্যামে করা ডিড বাতিল করতে পারি”। এসবে প্রমানিত হয় ককসবাজার ক্যাম্পাসের ভাল-মন্দ দায়-দায়িত্ব বহন করার জন্য এবং সকল সমস্যা সমাধান করার জন্য ডক্টর অলি উল্লাহ কক্সবাজার আসতে চান। কিন্তু ফয়জুল্লার পক্ষ থেকেই তাকে আসতে দেয়া হচ্ছে না। এমতাবস্থায় কিভাবে বলা যাবে যে, ডক্টর অলি উল্লাহ দায়িত্ব এড়াতে চান? অতএব ছাত্র-ছাত্রীদের কোন সমস্যা হলে তার জন্য বর্তমান দখলদার ও তার সহযোগীরাই দায়ী নয় কি? ডক্টর অলি উল্লাহ দায়ী হলে তাকে আগে আসতে দেয়া উচিত নয় কি? তবে অধিকাংশ ছাত্র-শিক্ষক ক্যাম্পাস প্রধান হিসেবে ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল ইসলামকেই দেখতে চান, যা তারা লিখিত ও মৌখিক ভাবে দাবী জানান॥

0 Comments