Advertisement

টেকনাফে কর্মসংস্থান প্রকল্পে সরকারী অর্থ লুটপাট

টেকনাফ প্রতিনিধি
টেকনাফে কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজে অনিয়ম দুর্নীতির বিরোদ্ধে ফুসে উঠেছে জনতা। এ প্রকল্প নিয়ে অসাধু জনপ্রতিনিধিরা অনিয়ম বানিজ্যে মেঠে উঠে এবং শুরুতে অনিয়মের
মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করে কাজ শুরুর পর মাত্র কয়েকদিন লোক দেখানো কাজ চালালেও বিভিন্ন প্রকল্পের কোন কাজই হচ্ছেনা। অথচ কাগজে কলমে প্রতিদিন কাজ দেখিয়ে হরিলুট করছে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল টাকা। প্রকল্প তদারকীর কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও কতিপয় জনপ্রতিনিধিরা অনিয়মের মাধ্যমে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ভাগ ভাটোয়ারা করার অভিযোগে সর্ব মহলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে দেখা  যায়-খাল খনন,সড়ক সংস্কার, পুকুর খনন ও রাস্তা নির্মান কাজ তালিকায় উল্লেখ থাকলেও কাজে তা হচ্ছেনা। তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খালে খননের ছোয়াও লাগেনি। কাজ বাস্তবায়ন না করে প্রকল্পের অর্থ হরিলুট করছে সংশ্লিষ্টরা।    
এ নিয়ে খোদ টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক মিয়া অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৭ এপ্রিল কাজের অগ্রগতি বিষয়ক সভা বর্জন করেছেন। প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,সরকার দলীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চলছে তুমুল যুদ্ধ। চলছে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য। তবে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম দুনীতির বিরুদ্ধে টেকনাফের হত-দরিদ্র লোকজন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম নাজিম উদ্দিন বলেন,প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি সম্পর্কে ব্যাপক তদারকী করা হচ্ছে। কাজে অনিয়মের ব্যাপারে সু নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান শফিক মিয়া বলেন-কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। শ্রমিকদের প্রাপ্য শ্রমিকরা পাচ্ছেনা। রাজনৈতিক নেতা,দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকতা ও অসাধু জনপ্রতিনিধিরা প্রকল্পের টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করছে। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ বলেন-কাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রথম শুনেছি,বিষয়টি এখনি খতিয়ে দেখা হবে। টেকনাফ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী বলেন-এলাকায় প্রকল্পের কাজ ভাল চলছে। শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছে এবং সঠিক প্রাপ্য তারা পাচ্ছে। উপজেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ এল এল বি বলেন-টেকনাফে কমসৃজন প্রকল্পের কাজ বলতে কিছু নেই। প্রকল্পের নামে লুটপাটের মহৌৎসব চলছে। সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধূরী বলেন-কর্মসৃজন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প কমিটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের দ্বন্দের বিষয়টি রহস্যাবৃত রয়ে গেছে। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে থলের কালো বিড়াল বেরিয়ে আসবে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি নাজির হোছাইন চৌধুরী বলেন- কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের কারণে জনগন চরম নাখোশ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এরশাদুর রহমান বলেন- টেকনাফে হতদরিদ্ররা কর্মসৃজন প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেনা।  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজুল হক সিক্দার বলেন- বিগত বিভিন্নসময় ও চলতি কর্মসৃজন প্রকল্পের ২য় পর্যায়ের টাকা লুটপাটের ব্যাপক অভিযোগ উঠে। এভাবে গরীবে টাকা লুট করলে এলাকায় সরকারের উদ্দোশ্য ব্যাহত হবে।   হোযাইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড এলাকার প্রকল্পের শ্রমিক আজিজুল হক বলেন- শুরুতে মাত্র ৩/৪দিন মাটি কাটা কাজ করেছি। এর পর থেকে কাজও পাইনি,টাকাও পাইনি। ৬ নং ওর্য্ডা এলাকার অসংখ্য শ্রমিক জানান- এ এলাকায় প্রকল্পের কোন কাজ হয়নি। এভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ।
অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে চলছে সর্বত্রে ব্যাপক সমালোচনা। কর্ম সৃজন প্রকল্পকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ গরীবের হক বলে মনে করেন এবং এ প্রকল্পটি এলাকায় আলসিয়া ভাতার কাজ হিসেবে পরিচিত। আর জনপ্রতিনিধরা গরীব লোকজনের জন্য সরকারের এই বরাদ্দের অর্থ অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে পকেটস্থ করায় দরিদ্র লোকজন বলাবলি করছে যে,নির্বাচনের পুর্বে চা-পানি খাওয়ানোর টাকা আদায় করতে গরীবের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ মেরে খাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়- উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের প্রকল্পের আওতাভোক্ত রইক্ষ্যং খাল পনঃ খননের কথা উল্লেখ থাকলেও অধ্যবধি কারণ প্রকার খনন কাজ করা হয়নি। পাশে বিলের মাটি কুড়ে মাত্র একটি সরু বাঁধ নির্মান করে দায়িত্ব ছাড়ছে কাজে নিয়োজিত ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদ। তালিকায় খালটি পুনঃ খনন উল্লেখ করা হলেও ইতিপুর্বে খালটি কখনো খনন করা হয়নি। এভাবে কাগজে কলমে ভুঁয়া তালিকা-তথ্য দিয়ে হরিলুট করছে প্রকল্পের টাকা। এছাড়া আমতলি থেকে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, নয়াপাড়া ষ্টেশন থেকে মগপাড়া হয়ে বটতলী সড়ক পুনঃ সংস্কার, ঝিমংখালী বিজিবি ক্যাম্প সড়ক সংস্কার, করাচিপাড়া ,বড়খীল পুতিবনিয়া সড়ক সংস্কার, রোজার ঘোনা সড়ক সংস্কার. পানখালী লেচুয়াপ্রাং রাস্তা সংস্কার , জুমপাড়া রাস্তা সংস্কার ,নীলায় বিভিন্ন পুকুর খনন কাজসহ টেকনাফ সদর সাবরাং বাহারছড়া, ও সেন্টমাটিনের বিভিন্ন প্রকল্প কাজে অনিয়ম চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এদিকে ২য় পর্যায়ের প্রকল্পের কাজের শুরুতেও উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বাররা তালিকায় নিজেদের সমর্থক লোকজন,আত্বীয় সজন ও ভুঁয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করে। তালিকায় অন্তর্ভুক্ত লোকজন অনেকেই জানেনা যে-তারা চলমান প্রকল্প কাজের শ্রমিক।  এভাবে প্রকল্পের টাকা পকেটস্থ করতে গোপন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের মুখ বন্ধ, শ্রমিক ব্যথিত প্রকল্পের সভাপতি-সেক্রেটারী কর্তৃক টাকা উত্তোলন, সংবাদ পত্রে অনিয়ম দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কলা-কৌশল।
সুত্র মতে-২য় পর্যায়ের এই প্রকল্পে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে-৫৫০জন শ্রমিকের জন্য-৩৮লাখ ৫০হাজার,হ্নীলা ইউনিয়নে-৫০০জন শ্রমিকের জন্য-৩৫লাখ,টেকনাফ সদর ইউনিয়নে-৫৮০জন শ্রমিকের জন্য-৪০লাখ ৬০হাজার,সাবরাং ইউনিয়নে-৭০০জন শ্রমিকের জন্য-৪৯লাখ,বাহারছড়া ইউনিয়নে-৩৫০জন শ্রমিকের জন্য-২৪লাখ ৬০হাজার, এবং সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে-১৫৪জন শ্রমিকের জন্য-১০লাখ ৭৮হাজার টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments