মুকুল কান্তি দাশ, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পুরোহিতকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে শিব মন্দিরের বিপুল পরিমাণ জায়গা জবর-দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাত ও গত বৃহস্পতিবার সকালে শতাধিক সন্ত্রাসী পাহারা বসিয়ে সরকার দলীয় স্থানীয় কয়েকজন নেতা মন্দিরের জায়গাটি দখলে নেয়। এর আগে চকরিয়া থানা ও স্থানীয় হারবাং ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে কয়েকদফা অভিযান চালালেও দখলকারীদের দমাতে ব্যর্থ হয়। পরে সন্ত্রাসীরা ঠিকই মন্দিরের জায়গা দখল করে নিয়েছে।
হারবাং শিব মন্দিরের পুরোহিত ননী গোপাল চক্রবর্তী জানান, উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় সরকার শিব মন্দিরের নামে ৩২২২ দাগের সাড়ে ৫ একর জায়গা বন্দোবস্তি দেয়। মূলতঃ এসব জায়গা একসময় সংরক্ষিত বনভূমি ছিল। পরে তা শিব মন্দিরের নামে বন্দোবস্তি দেওয়া হয় এবং এসব জায়গা মন্দিরের পুরোহিত হিসেবে দেখভালের দায়িত্ব অর্পন করা হয় তাকে।
পুরোহিত অভিযোগ করে বলেন, ইতিপূর্বে শিব মন্দির পরিচালনার নামে তথাকথিত একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে রয়েছেন শ্যামল কান্তি আর্চায্য, বিমল নাথসহ একদল ভূমিদস্যু। সম্প্রতি তারা স্বঘোষিত উপজেলা পূজা কমিটির আহবায়ক দাবিদার তপন কান্তি দাশ ও সদস্য সচিব উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথকে নিয়ে মন্দিরের কর্তৃত্ব দখলে নেওয়ার জন্য শিব মন্দিরে যায়। এ সময় তারা আমাকে (পুরোহিত) মন্দির ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় এবং তাদের কথামতো মন্দির ছেড়ে চলে না গেলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করারও হুমকি দেয়। এমনকি তারা প্রতিনিয়ত আমার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রাণি করে চলেছে যাতে আমি মন্দির ছেড়ে চলে যাই।
পুরোহিত বলেন, এরই অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে ও গতকাল সকালে হারবাং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মোরশেদ, মোহাম্মদ ইসলামের পুত্র পারভেজ ও শাহাদাত মুন্সির পুত্র অহিদ প্রায় শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে তাকে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ কারণে আমি গতকাল মন্দিরের কোন পূজার্চনা করতে পারিনি। পরে তারা মন্দিরের নামে বন্দোবস্তিকৃত জায়গা জবর-দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণকাজ শুরু করে।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. তেজেন্দ্র লাল সুশীল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে শিব মন্দিরের নামে বন্দোবস্তিকৃত জায়গা দখলে নেওয়ার জন্য একটি কুচক্রিমহল পায়তারা চালিয়ে আসছিল বলে আমিও শুনেছি। তিনি মন্দিরের জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান প্রশাসনের প্রতি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, এ ঘটনার পর কয়েকবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আমি উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। যদি কেউ মন্দিরের জায়গা দখল করে থাকে, তাহলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 Comments