ঢাকা থেকে
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ১১ জুন তিনি
রাজধানীতে আবারো সমাবেশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।
১১ শর্তের বেড়াজাল ভেঙে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দেন। তিনি নতুন কর্মসূচিসহ চারদলীয় জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা করে বলেন, আগামী ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।
বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৬টা পর্যন্ত টানা বক্তব্যের শেষপর্যায়ে সন্ধ্যায় খালেদা জিয়া নতুন জোটের পক্ষ থেকে তিন মাসের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে আছেÑ মহাসমাবেশে বাধা দেয়া, গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনের (পৃষ্ঠা >২, কলাম >১)
১০ জুনের মধ্যে
(১ম পৃষ্ঠার পর)
প্রতিবাদে ২৯ মার্চ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, পুরো এপ্রিল মাস সরকারের ‘ব্যর্থতা’র প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ, পুরো মে মাস সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে জেলা উপজেলায় ঘেরাও কর্মসূচি। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি মেনে নিতে মহাজোট সরকারকে তিন মাস অর্থাৎ আগামী ১০ জুন সময় বেঁধে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ১১ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, নিদর্লীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হল। এই সময়ের মধ্যে সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব। ওই কর্মসূচিতে হয় দাবি পূরণ করবে, নইলে সরকারকে বিদায় নিতে হবে। ঘোষিত কর্মসূচি সফলভাবে পালনের জন্য নেতা-কর্মী ও দল-মত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহবানও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
চারদলীয় জোটে আরো ১০টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেও নতুন জোটের নাম জানাননি খালেদা জিয়া। মহাসমাবেশ মঞ্চে সমমনা দলগুলোর নেতাদের পাশে রেখেই নতুন জোটের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানায়। খালেদা জিয়া নতুন জোটের নাম না বললেও চারদলীয় জোট নেতারা বলছেন, নতুন জোটের নাম হবে ‘সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোট’।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বেলা আড়াইটায় রিকশাচালক এমএ মালেকের বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় মহাসমাবেশ। ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এবং ঢাকায় নানামুখী প্রতিকূল অবস্থায় মহাসমাবেশে হাজার হাজার লোক পায়ে হেঁটে সকাল থেকেই উপস্থিত হতে শুরু করেন। দুপর ১২টা না হতেই নির্ধারিত সমাবেশস্থল ভরে আশপাশের এলাকায় ঢল নামে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও সম্ভাব্য নাশকতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ হয়। মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, এর ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়েছে?
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দিয়ে বলেন, ‘জনগণের ভোটেই আমরা বারবার ক্ষমতায় আসব। তাহলে কি স্বীকার করছেন, ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়েছে?’ সম্প্র্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসাবে না। এর জবাবেই খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করলেন।
মহাসমাবেশ নিয়ে সরকার ভীত
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে সরকার ভীত হয়ে পড়েছিল। তাই তিন দিন আগ থেকেই সারাদেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তারা জনসমাগম ঠেকাতে পারেনি। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার কর্মসূচি দেব, আপনারা বারবার ঠেকাতে থাকেন।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সরকারের এত ভয় কেন? সরকার যদি এতই জনপ্রিয় হয়, এতই ভালো কাজ করে, তাহলে এত ভয় কীসের?’
সাগর-রুনির হত্যার বিচারের আশা নেই
বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়ার আশা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘হত্যার বিচার আর কিছু হবে বলে আশা করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী এ হত্যামামলা তদারকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আর এখন বলছেন, সব আলামত মুছে গেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সাংবাদিকের চলমান আন্দোলনে বিএনপি সমর্থন দেবে।
গণমাধ্যমকে সরকারের ভয়
খালেদা জিয়া বলেন, গণমাধ্যমকে সরকার সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। কারণ তারা অনেক সত্য খবর দেয়। এ সরকারের আমলে ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদ ও টক-শো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাভিশন, ইটিভি ও এনটিভির লাইসেন্স বাতিল করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।
রাস্তায় খুন হলে দায়িত্ব কে নেবে?
খালেদা জিয়া বলেন, বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তাহলে রাস্তায় যে সৌদি কূটনীতিক খুন হলেন, তার দায়িত্ব কে নেবে? তিনি হত্যা বন্ধ করতে হলে নিজেদের দলের অস্ত্রবাজদের আগে গ্রেপ্তার করতে সরকারকে পরামর্শ দেন।
এ কেমন সরকার?
বিরোধী দল কর্মসূচি দিলে সরকার মিথ্যাচার করে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, বিরোধী দল কোনো কর্মসূচি দিলে সরকার মিথ্যাচার শুরু করে বানচাল করতে চায়। তারা যে মিথ্যাচার করে, আজকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্যরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে মিছিল করে। আর তাদের সামনে-পেছনে থাকে পুলিশ। এ কেমন সরকার?’
পরিবেশ নোংরা করতে চাই না
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সরকারদলীয় সাংসদেরা যেসব বক্তব্য দেন, সেগুলোকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘তাদের মন অপরাধী ও নোংরা। এসব কথার জবাব দিয়ে পরিবেশ নোংরা করতে চাই না। দেশের মানুষ জানে, কারা দেশপ্রেমিক আর কারা অন্য দেশের এজেন্ট।’
১ কোটি মানুষ পাবে রেশন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেব
খালেদা জিয়া বলেন, জনপ্রতিনিধিদের হাতে আরো ক্ষমতা দেব। দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি গরিব মানুষকে রেশন ব্যবস্থায় আনা হবে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের মানুষে পরিণত করব। ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলব। গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। নতুন কলকারখানা চালু এবং বন্ধগুলো চালু করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে খালেদা বলেন, ‘কীভাবে দেব, সেই টেকনিক আমাদের আছে, এখন বলব না। সময় হলেই বলব।’
নতজানু পররাষ্ট্রনীতি : কোথায় তিস্তা চুক্তির পানি?
খালেদা জিয়া বলেন, ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির জন্য সরকার দেশের স্বার্থ আদায় করতে পারছে না। এই সরকারের আমলে সীমান্তে নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই। বিএসএফ ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশিদের হত্যা করেছে। এই সরকার প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির কথা বলা হয়েছিল, কোথায় চুক্তি, কোথায় চুক্তির পানি?’ আমরা বলতে চাই, আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কিন্তু একতরফা দিয়ে যাব, বিনিময়ে কিছুই পাব না, সেটা হবে গোলামি। এই সরকার গোলামির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই দুর্বল-নতজানু সরকারকে বিদায় করতে হবে।
ড. ইউনূস প্রতিহিংসার শিকার
খালেদা জিয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানো সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস থাকতে পাশের দেশ থেকে নোবেল বিজয়ী এনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।
কুইক রেন্টাল বিদ্যুতে দুর্নীতি
খালেদা জিয়া বলেন, লোডশেডিংয়ে আজ জীবন অতিষ্ঠ। অথচ কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে দলীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে নয়, লুটপাটের জন্যই এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ বিনা দরপত্রে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বাড়ানোর সমালোচনাও করেন তিনি।
শেয়ারবাজারে লুটপাট
পুঁজিবাজারের অর্থ লুটপাট হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, শেয়ার মার্কেটে এতবড় লুট হয়ে গেল, তাদের কারো বিচার হয়নি, বরং তাদের আরো অধিক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বললেন, যারা লুট করেছে, তারা এত ক্ষমতাবান, তাদের নাম প্রকাশ করার ক্ষমতা তার নেই। তাহলে বুঝতে বাকি থাকে না, এই ক্ষমতাবান ব্যক্তি কারা। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন যারা জড়িত, তাদের জনগণ চিনে ফেলেছে। অর্থনীতিতে সংকট চলছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিতে পারেনি, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি, শুধু তাই নয়, প্রতিটি কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়েছে। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে।
দেশে একজনের শাসন চলছে
খালেদা বলেন, বিচার বিভাগ আজ সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। অনেক বিচারক চাইলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এ জন্য ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দেশে আজ মুখ চেয়ে রায় দেয়া হয়। খালেদা জিয়া বলেন, এখন আওয়ামী লীগের জন্য এক বিচার, অন্যদের জন্য আরেক বিচার। দেশে একদলীয় শাসন চলছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন বাকশাল চলছে। গণতন্ত্র এখন বন্দি, একজনের শাসন চলছে। এই গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
মুখ খুলুন নইলে গণরোষ
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা মুখ খুলুন, নইলে পরে জনরোষে পড়বেন। জনগণের হাতে লাঞ্ছিত হবেন।’
বিদেশি টাকার প্রয়োজন নেই
আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের বিদেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আমাদের জনগণ রয়েছে।’ উল্টো আওয়ামী লীগই বিদেশি অর্থে নির্বাচন করেছিল বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমন কিছু বলবেন না, যাতে দেশের মানুষ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রীর পদের একটি মহিমা আছে, তা নষ্ট করবেন না।’
সরকার অন্ধ-বধির
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার অন্ধ, বধির, চোখে দেখে না, কানে শোনে না। আমরা বলতে চাই সমাবেশ-সভা-মিছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে বাধা দেয়া বাংলার জনগণ মেনে নেবে না।’ মহাসমাবেশের আগে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তরীণ সবার মুক্তি দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয়, ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের সরকার।
দুইটি পদ্মা সেতু হবে
পদ্মা সেতু নির্মাণ বিষয়ে খালেদা জিয়া মহাসমাবেশে বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। এ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় গেলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। একটি সেতু হবে ঢাকা-মাওয়া পয়েন্টে, অপরটি হবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে।
নতুন ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ দেয়া হবে
মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে গৃহায়ণ খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডেভেলপাররা হাজার হাজার ফ্ল্যাট বানিয়েছে। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করতে পারছে না। এমনকি ফ্ল্যাট তারা ভাড়াও দিতে পারছে না। কারণ সরকার সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে গৃহায়ণ খাতে প্রাণ ফিরিয়ে আনব। তিনি বলেন, ডেভেলপাররা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। প্রতিমাসে তাদের সুদ বাড়ছে। কিন্তু তারা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারছে না।’
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত আল্টিমেটাম বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় ১১ জুন তিনি
রাজধানীতে আবারো সমাবেশ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন।
১১ শর্তের বেড়াজাল ভেঙে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ ঘোষণা দেন। তিনি নতুন কর্মসূচিসহ চারদলীয় জোট সম্প্রসারণের ঘোষণা করে বলেন, আগামী ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।
বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিট থেকে ৬টা পর্যন্ত টানা বক্তব্যের শেষপর্যায়ে সন্ধ্যায় খালেদা জিয়া নতুন জোটের পক্ষ থেকে তিন মাসের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে আছেÑ মহাসমাবেশে বাধা দেয়া, গণগ্রেপ্তার ও নির্যাতনের (পৃষ্ঠা >২, কলাম >১)
১০ জুনের মধ্যে
(১ম পৃষ্ঠার পর)
প্রতিবাদে ২৯ মার্চ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, পুরো এপ্রিল মাস সরকারের ‘ব্যর্থতা’র প্রতিবাদে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ, পুরো মে মাস সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে জেলা উপজেলায় ঘেরাও কর্মসূচি। ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি মেনে নিতে মহাজোট সরকারকে তিন মাস অর্থাৎ আগামী ১০ জুন সময় বেঁধে দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ১১ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, নিদর্লীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় দেয়া হল। এই সময়ের মধ্যে সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব। ওই কর্মসূচিতে হয় দাবি পূরণ করবে, নইলে সরকারকে বিদায় নিতে হবে। ঘোষিত কর্মসূচি সফলভাবে পালনের জন্য নেতা-কর্মী ও দল-মত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতি আহবানও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
চারদলীয় জোটে আরো ১০টি দলকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেও নতুন জোটের নাম জানাননি খালেদা জিয়া। মহাসমাবেশ মঞ্চে সমমনা দলগুলোর নেতাদের পাশে রেখেই নতুন জোটের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে এ ঘোষণাকে স্বাগত জানায়। খালেদা জিয়া নতুন জোটের নাম না বললেও চারদলীয় জোট নেতারা বলছেন, নতুন জোটের নাম হবে ‘সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোট’।
ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে বেলা আড়াইটায় রিকশাচালক এমএ মালেকের বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় মহাসমাবেশ। ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এবং ঢাকায় নানামুখী প্রতিকূল অবস্থায় মহাসমাবেশে হাজার হাজার লোক পায়ে হেঁটে সকাল থেকেই উপস্থিত হতে শুরু করেন। দুপর ১২টা না হতেই নির্ধারিত সমাবেশস্থল ভরে আশপাশের এলাকায় ঢল নামে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিলেও সম্ভাব্য নাশকতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশ হয়। মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, এর ফিরিস্তি তুলে ধরেন।
ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়েছে?
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাব দিয়ে বলেন, ‘জনগণের ভোটেই আমরা বারবার ক্ষমতায় আসব। তাহলে কি স্বীকার করছেন, ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসিয়েছে?’ সম্প্র্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আপনাকে কোলে করে ক্ষমতায় বসাবে না। এর জবাবেই খালেদা জিয়া এ মন্তব্য করলেন।
মহাসমাবেশ নিয়ে সরকার ভীত
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির মহাসমাবেশ নিয়ে সরকার ভীত হয়ে পড়েছিল। তাই তিন দিন আগ থেকেই সারাদেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কিন্তু এত কিছুর পরও তারা জনসমাগম ঠেকাতে পারেনি। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার কর্মসূচি দেব, আপনারা বারবার ঠেকাতে থাকেন।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘সরকারের এত ভয় কেন? সরকার যদি এতই জনপ্রিয় হয়, এতই ভালো কাজ করে, তাহলে এত ভয় কীসের?’
সাগর-রুনির হত্যার বিচারের আশা নেই
বর্তমান সরকারের আমলে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়ার আশা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘হত্যার বিচার আর কিছু হবে বলে আশা করতে পারি না। প্রধানমন্ত্রী এ হত্যামামলা তদারকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আর এখন বলছেন, সব আলামত মুছে গেছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সাংবাদিকের চলমান আন্দোলনে বিএনপি সমর্থন দেবে।
গণমাধ্যমকে সরকারের ভয়
খালেদা জিয়া বলেন, গণমাধ্যমকে সরকার সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। কারণ তারা অনেক সত্য খবর দেয়। এ সরকারের আমলে ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদ ও টক-শো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সমাবেশ সরাসরি সম্প্রচার করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাভিশন, ইটিভি ও এনটিভির লাইসেন্স বাতিল করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে।
রাস্তায় খুন হলে দায়িত্ব কে নেবে?
খালেদা জিয়া বলেন, বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। তাহলে রাস্তায় যে সৌদি কূটনীতিক খুন হলেন, তার দায়িত্ব কে নেবে? তিনি হত্যা বন্ধ করতে হলে নিজেদের দলের অস্ত্রবাজদের আগে গ্রেপ্তার করতে সরকারকে পরামর্শ দেন।
এ কেমন সরকার?
বিরোধী দল কর্মসূচি দিলে সরকার মিথ্যাচার করে খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, বিরোধী দল কোনো কর্মসূচি দিলে সরকার মিথ্যাচার শুরু করে বানচাল করতে চায়। তারা যে মিথ্যাচার করে, আজকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে সেটি প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্যরা লাঠি-সোঁটা নিয়ে মিছিল করে। আর তাদের সামনে-পেছনে থাকে পুলিশ। এ কেমন সরকার?’
পরিবেশ নোংরা করতে চাই না
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সরকারদলীয় সাংসদেরা যেসব বক্তব্য দেন, সেগুলোকে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘তাদের মন অপরাধী ও নোংরা। এসব কথার জবাব দিয়ে পরিবেশ নোংরা করতে চাই না। দেশের মানুষ জানে, কারা দেশপ্রেমিক আর কারা অন্য দেশের এজেন্ট।’
১ কোটি মানুষ পাবে রেশন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেব
খালেদা জিয়া বলেন, জনপ্রতিনিধিদের হাতে আরো ক্ষমতা দেব। দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতায় আনা হবে। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি গরিব মানুষকে রেশন ব্যবস্থায় আনা হবে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের মানুষে পরিণত করব। ইসলামী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলব। গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করা হবে। নতুন কলকারখানা চালু এবং বন্ধগুলো চালু করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে খালেদা বলেন, ‘কীভাবে দেব, সেই টেকনিক আমাদের আছে, এখন বলব না। সময় হলেই বলব।’
নতজানু পররাষ্ট্রনীতি : কোথায় তিস্তা চুক্তির পানি?
খালেদা জিয়া বলেন, ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির জন্য সরকার দেশের স্বার্থ আদায় করতে পারছে না। এই সরকারের আমলে সীমান্তে নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই। বিএসএফ ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশিদের হত্যা করেছে। এই সরকার প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি। ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির কথা বলা হয়েছিল, কোথায় চুক্তি, কোথায় চুক্তির পানি?’ আমরা বলতে চাই, আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। কিন্তু একতরফা দিয়ে যাব, বিনিময়ে কিছুই পাব না, সেটা হবে গোলামি। এই সরকার গোলামির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই দুর্বল-নতজানু সরকারকে বিদায় করতে হবে।
ড. ইউনূস প্রতিহিংসার শিকার
খালেদা জিয়া গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানো সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস থাকতে পাশের দেশ থেকে নোবেল বিজয়ী এনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে।
কুইক রেন্টাল বিদ্যুতে দুর্নীতি
খালেদা জিয়া বলেন, লোডশেডিংয়ে আজ জীবন অতিষ্ঠ। অথচ কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে দলীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে নয়, লুটপাটের জন্যই এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ বিনা দরপত্রে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের বাড়ানোর সমালোচনাও করেন তিনি।
শেয়ারবাজারে লুটপাট
পুঁজিবাজারের অর্থ লুটপাট হয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, শেয়ার মার্কেটে এতবড় লুট হয়ে গেল, তাদের কারো বিচার হয়নি, বরং তাদের আরো অধিক ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বললেন, যারা লুট করেছে, তারা এত ক্ষমতাবান, তাদের নাম প্রকাশ করার ক্ষমতা তার নেই। তাহলে বুঝতে বাকি থাকে না, এই ক্ষমতাবান ব্যক্তি কারা। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন যারা জড়িত, তাদের জনগণ চিনে ফেলেছে। অর্থনীতিতে সংকট চলছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিতে পারেনি, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি, শুধু তাই নয়, প্রতিটি কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়েছে। সারের দাম তিন গুণ বাড়িয়েছে।
দেশে একজনের শাসন চলছে
খালেদা বলেন, বিচার বিভাগ আজ সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। অনেক বিচারক চাইলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এ জন্য ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, দেশে আজ মুখ চেয়ে রায় দেয়া হয়। খালেদা জিয়া বলেন, এখন আওয়ামী লীগের জন্য এক বিচার, অন্যদের জন্য আরেক বিচার। দেশে একদলীয় শাসন চলছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন বাকশাল চলছে। গণতন্ত্র এখন বন্দি, একজনের শাসন চলছে। এই গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
মুখ খুলুন নইলে গণরোষ
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা মুখ খুলুন, নইলে পরে জনরোষে পড়বেন। জনগণের হাতে লাঞ্ছিত হবেন।’
বিদেশি টাকার প্রয়োজন নেই
আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের বিদেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আমাদের জনগণ রয়েছে।’ উল্টো আওয়ামী লীগই বিদেশি অর্থে নির্বাচন করেছিল বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এমন কিছু বলবেন না, যাতে দেশের মানুষ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রীর পদের একটি মহিমা আছে, তা নষ্ট করবেন না।’
সরকার অন্ধ-বধির
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার অন্ধ, বধির, চোখে দেখে না, কানে শোনে না। আমরা বলতে চাই সমাবেশ-সভা-মিছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে বাধা দেয়া বাংলার জনগণ মেনে নেবে না।’ মহাসমাবেশের আগে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে অন্তরীণ সবার মুক্তি দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার নয়, ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের সরকার।
দুইটি পদ্মা সেতু হবে
পদ্মা সেতু নির্মাণ বিষয়ে খালেদা জিয়া মহাসমাবেশে বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে। এ সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় গেলে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। একটি সেতু হবে ঢাকা-মাওয়া পয়েন্টে, অপরটি হবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে।
নতুন ফ্ল্যাটে বিদ্যুৎ দেয়া হবে
মহাসমাবেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের অভাবে গৃহায়ণ খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। ডেভেলপাররা হাজার হাজার ফ্ল্যাট বানিয়েছে। কিন্তু সেগুলো বিক্রি করতে পারছে না। এমনকি ফ্ল্যাট তারা ভাড়াও দিতে পারছে না। কারণ সরকার সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে গৃহায়ণ খাতে প্রাণ ফিরিয়ে আনব। তিনি বলেন, ডেভেলপাররা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। প্রতিমাসে তাদের সুদ বাড়ছে। কিন্তু তারা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে পারছে না।’


0 Comments