Advertisement

বিলুপ্তির পথে মহেশখালীর মৃৎশিল্প


আবদুর রাজ্জাক মহেশখালী: 
সকল মানুষের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতীক মৃৎশিল্প। সময়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সম্প্রতি হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প। তদাস্থলে আধুনিক সরঞ্জামসহ প-াস্টিক, স্টিল ও মেলামাইন সামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, শত শত বছর ধরে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে আমাদের কুমার সম্প্রদায় বংশ পরম্পরায় এ শিল্পকে আজও টিকিয়ে রেখেছেন। এক সময় সর্বসাধারণের ভাত খাওয়ার জন্য পে¬ট, রান্না করার হাঁড়ি ও গৃহন্থলির নানা কাজে ব্যবহার হত মৃতশিল্প। এমন কি রাজা মহারাজারাও ব্যবহার করত এ শিল্প। বিভিন্ন ধরণের সৌখিন সামগ্রী হিসেবে তাদের গৃহে শোভা পেত মাটির তৈরি মনোমুগ্ধকর শিল্পকর্ম। এমনি করে সকলের কাছে এ শিল্পের যথেষ্ট কদর ছিল।
বর্তমানে প¬াস্টিক সামগ্রী সহজলভ্যতা ও ব্যবহার এতটাই সুবিধাজনক যে, মৃতশিল্প ব্যবহার সবাই ছেড়ে দিচ্ছে। বর্তমানে প¬াস্টিক, সিরামিকের প্রতিযোগিতা পূর্ণ বাজারে মৃতশিল্প হার মানতে বসেছে। এ শিল্পের কাঁচামাল অর্থাৎ দূর থেকে মাটি বহন, কাঠের ও কয়লাসহ সকল প্রকার কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ সব কিছু বেশি হওয়ার কারণে কুমাররা তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে বিভিন্ন পেশায় ধাবিত হচ্ছে। বহু বছর পূর্বে মাটির তৈরি থালা-বাসন, হাঁড়িসহ নানাবিধ ব্যবহার করতঃ মানুষ প্রতিনিয়ত। কিন্তু সেখানে আজ হাতেগোনা কয়েকটি সৌখিন শিল্পকর্ম আমাদের গৃহে শোভা পাচ্ছে। এমনি করে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মৃতশিল্প হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার বড় মহেশখালী বড় ও ছোট কুলাল পাড়ার আদিকালের মৃৎশিল্প আজ র্ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বড় কুলাল পাড়া ও ছোট কুলাল পাড়া গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার মৃৎশিল্পের উপর নির্ভরশীল। দারিদ্রতা ও আর্থিক সহযোগিতার অভাবে শিল্পটি আজ বিলুপ্তর পথে। মৃৎশিল্পী কাজল বলেন, কয়েক বছর পূর্বে এখানে ১ শত থেকে দেড়শত পরিবার সব সময় মাটির তৈরি জিনিসের কাজে ব্যস্ত থাকত। কিন্তু আজ এ কাজে নিয়োজিত আছে ২০ থেকে ৩০ টি পরিবার। অত্র এলাকার সাধারন মানুষ শিল্পটি রক্ষার মানসে এবং সরকারের সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাসে বিগত ২০০৬ ইং সনে স্থানীয় মৃৎশিল্পের মালিক ও শ্রমিকরা মিলে গঠন করেছিল ‘বড় ও ছোট কৃলাল পাড়া মৃৎশিল্প সমবায় সমিতি লিঃ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটি আজো পর্যন্ত টিকে থাকলেও কোন প্রকার সরকারী কিংবা বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতা মিলেনি। সার্বিক বিবেচনা করে উপজেলার সকল মহলের ধারণা সরকারী-বে সরকারী ভাবে সামান্য উদ্দ্যোগ গ্রহণ করে পর্যাপ্ত মান নিয়ন্ত্রণ করে দেশে বিদেশে বাজার সৃষ্টি করা, সকল মানুষের সচেতনতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টিসহ প¬াস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার কমিয়ে মাটির তৈরি জিনিস ব্যবহার করা হয় তাহলে আমাদের মৃতশিল্প বেঁচে থাকবে অনন্তকাল। এব্যপারে অত্র সমবায় সমিতির সভাপতি আমীর হোসেন এর কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সামান্য সহযোগিতা পেলেই মৃত প্রায় এই মৃৎশিল্পটি বাচিয়ে রাখা সম্ভব

Post a Comment

0 Comments