সৈয়দুল কাদের:
কক্সবাজার শহরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বাড়িতে কিশোরী ও নারীদের জিম্মি করে যৌন পেশায় বাধ্য করা হচ্ছে। কাজের প্রলোভনে এসব নারী ও কিশোরীদের ফ্ল্যাট বাড়িতে এনে জিম্মি করে চালানো হয় ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন। এ ধরনের কিছু ঘটনা জনসম্মুখে বের হয়ে আসলেও বেশির ভাগ চাঞ্চল্যকর বিষয় পুলিশ প্রশাসন বা সাধারন মানুষের কাছে অজানা থেকে যায়। শহর কেন্দ্রিক কিছু সংঘবদ্ধ চিহ্নিত দালাল এসব অপরাধে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২৭ ফেব্রয়ারি সোমবার বিকাল ৪ টায় শহরের আলীর জাহাল এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ৩ মক্ষিরানী, স্বামী পরিচয়দানকারী ১ দালাল, এক নির্যাতিত কিশোরী, ৩ যৌনকর্মী, ২ জন বৃদ্ধা নারী রয়েছে।
অভিযানে আটকরা জিম্মি করে যৌন পেশায় বাধ্য করানো ও শারীরিক নির্যাতনের বেশ কিছু তথ্য জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার বিকাল ৪ টায় শহরের আলীর জাহাল এলাকার সাইফুল কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে অবস্থিত ভারুয়াখালীর সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হক এর মালিকাধিন একটি ফ্ল্যাট বাড়ি অভিযান চালায় কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুফিজ এর নেতৃত্বে পুলিশ।
অভিযানে শহরের বহুল আলোচিত মক্ষিরানী হাসিনা আকতার ডলি (৩৩), তাহমিনা আকতার ময়না (২৮), রেহেনা বেগম (৩০), দালাল হিসেবে পরিচিত ময়নার স্বামী পরিচয়দানকারী সাগর সাজু (৩০), যৌনকর্মী ইয়াছমিন (২৪) সাথী (২২) ফুলমতি (২১) কলি (২৩) ও ১ জন নির্যাতিত কিশোরীকে আটক করা হয়। এছাড়াও যৌন কর্মীদের দুই মা শামসুনাহার (৪৫) ও ফাতেমা বেগম (৪৪) কে আটক করে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুফিজুর রহমান জানান, সাইফুল কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল হকের মালিকানাধিন একটি ফ্ল্যাট বাড়িতে এ অভিযান চলে। ওই ভবনের ৪র্থ তলায় ময়না, ৩য় তলায় ডলি ও ৫ম তলায় রেহেনা অবস্থান করছিল। স্থানীয় এলাকাবাসির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ৩ টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
অভিযানে আটক উখিয়া উপজেলার পালংখালী ফারিরবিল এলাকার ১৩ বছরের এক কিশোরী (পরিচয় গোপন করা হলো) সাংবাদিকদের জানায়, প্রায় ৩ মাস আগে বাড়ির কাজের মেয়ে হিসেবে ময়না তাকে কক্সবাজার শহরে নিয়ে আসে। আনার ২/৩ দিন পর থেকে বিভিন্ন অপরিচিত লোকজন এনে তাকে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করতো। এতে রাজী না হলে ময়না ও ডলি মিলে তাকে ব্যাপক নির্যাতন চালানো হতো।
উদ্ধার হওয়া কিশোরী আরো জানায়, রোববার সকালে সুযোগ পেয়ে ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ওই কিশোরী। বের হয়ে একটি দোকানে গিয়ে তার মাকে ফোন করে অমানষিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে। এরপর ময়না ও ডলির হাতে ধরা পড়ে সে। বাড়িতে ফিরিয়ে এনে এ কিশোরী চালানো হয় ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন। মাথার চুল কেটেও দেয়া হয়। এ কিশোরীর পুরো শরীর জুড়ে রয়েছে আঘাতে চিহ্ন।
উদ্ধার হওয়া কিশোর মা ছৈয়দা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, মেয়ের ফোন পাওয়ার পর তিনি শহরের আলীর জাহাল এলাকায় আসেন। বিষয়টি স্থানীয় এলাকাবাসিকে জানানো পর তাদের সহযোগীতায় সেখানে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানের খবর পেয়ে সন্ধায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাল সদর মডেল থানায় যান। তিনি আটকদের সাথে আলাপ করেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার জানান, এব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেমামলার প্রক্রিয়া চলছে।

0 Comments