Advertisement

উখিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের মিস কল এলার্ট!


ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী,উখিয়া:
এখনও  বাসায় পাখা ঘোরার সময় হয়নি। এসি চালানো তো দুরের কথা । শীত ও একবারে যায়নি। তাই ফ্যান চালানোর চিন্তাও নেই অনেকের মাঝে। এমন অবস্থায় মধ্যে গরমের শুরুতেই দিনে ১২/১৪ বার রেকর্ড পরিমান লোডশেডিং হচ্ছে উখিয়ায়। যাকে বেরসিক গ্রাহকরা উখিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের মিস কল এলার্ট বলে ঠাট্টা করছে!
গরমে কষ্ট না হলেও দৈনন্দিন কাজ আর এস,এস সি পরীক্ষার্থী সহ শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্ভোগ হয়ে দেখা দিয়েছে এই  ভয়াবহ লোডশেডিং। গত কয়েক দিন ধরে এর প্রকোপটা যেন সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। উখিয়ায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২  ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেনা স্থানীয় জনগন। সন্ধ্যার পর থেকে দীর্ঘ সময় একটানা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সমস্যা হচ্ছে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। হঠাৎ করে লোডশেডিং বাড়ার পেছনে উখিয়ায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহকে দায়ী করছেন উখিয়া পল¬ী বিদ্যুতের ডিজিএম সাদেকুল ইসলাম। অনেক গ্রামে দিনের সঙ্গে সমানতালে রাতেও লোডশেডিং হচ্ছে। এতে সেচ পাম্প চালাতে পারছেন না কৃষকরা। গরম না আসতেই লোডশেডিং বাড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের সামনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এখনই এ অবস্থা সামনে পরিস্থিতি তাহলে কি হবে ?
জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে উখিয়া  পল¬ী বিদ্যুতের অবস্থা ভালো ছিলনা তা কিন্তু নয়। হঠাৎ গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ এই আছে তো এই নেই। প্রথমদিকে স্থানীয় জনগন মনে করেছিল হয়তো কোথাও বিদ্যুতের লাইনের কাজ করা হচ্ছে তাই বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, আসলে লাইনের কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের। উখিয়া পল¬ী বিদ্যুতের ডিজিএম এর কথায় তার উত্তর মিলল.. তার ভাষায় উখিয়ায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা  আছে সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। আর আমরা কেন্দ্র থেকে উখিয়ার জন্য বিদ্যুৎ পাচ্ছি মাত্র আড়াই মেগাওয়াট। তাই এভাবে লোডশেড়িং না করে আমাদের উপায় নেই। 
এদিকে উখিয়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি একরামুল  হকের অভিযোগ , উখিয়া সদর ষ্টেশনে দিনে ১২ থেকে ১৫ দফা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সন্ধ্যার পর থেকে অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এখনই যদি এই অবস্থা তাহলে সামনে কি হবে? তিনি জানান, অব্যাহত লোডশেডিং এর কারনে ব্যাবসা বানিজ্যে স্থবিরতা দেখে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ না থাকার কারনে অনেক সময় সন্ধ্যার পরপরই দোকান বন্ধ করে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া চলতি এস,এসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ও এ অব্যাহত লোডশেডিং অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর মাত্র দুয়েকটা পরীক্ষা বাকী। কিন্তু উখিয়া পল¬ী বিদ্যুতের লোডশেডিং এর মাত্রা এতই বেড়েছে যে বই খোলা আর বন্ধ করার মত অবস্থা। এই আছে তো এই নেই। এ নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা চরম হতাশা প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজী বলেন, হঠাৎ করে উখিযায়  বিদ্যুতের অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে দেশে যেন বিদ্যুৎ নেই। এস,এস,সি পরীক্ষার শেষ সময়ে এসে বিদ্যুতের লুকোচুরিতে তিনি চরম ক্ষুদ্ধ। । উখিয়ায় বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি হলেও উপজেলার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্প ও বহিরাগত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বন্ধ হয়নি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। এসব রোহিঙ্গাদের প্রায় ২০হাজারের অধিক মোবাইল সেট রয়েছে। তা ছাড়া রেজিষ্টার্ট ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের অনেকেই চোরাই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে টিভি, ফ্রিজ, আইরন, হিটারসহ নানা রকম বিদ্যুৎ চালিত ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, একটি মোবাইল সেটে ৪.৪ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। এইভাবে প্রায় ৮৪হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ প্রতিদিন রোহিঙ্গা কর্তৃক অপচয় হচ্ছে। যার ফলে উখিয়াবাসিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের বোঝা বইতে হচ্ছে। এছাড়া ও অভিযোগ রয়েছে, উখিয়ার সর্বত্র অব্যাহত লোডশেডিং রেখে পল¬ী বিদ্যুতের এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সোনারপাড়া হ্যাচারী জোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে উখিয়ার জনগনকে অন্ধকারে রাখছে। আর এর মাধ্যমে উক্ত কর্মকর্তারা হাজার হাজার টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করছে। এগুলোর ব্যাপারে পল¬ী বিদ্যুতের ডিজিএম কোন সদুত্তর না দিয়ে শুধু বলেছে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ার কথা ।

Post a Comment

0 Comments