জাবেদ আবেদীন শাহীন:
প্রেমের রাজ্যে প্রেমিক প্রেমিকাদের মেলা মেশা থাকা স্বাভাবিক। প্রেমের স্বার্থকতাকে জয় করতে কত যে ত্যাগ স্বীকার করতে হয় ইতিহাস তার স্বাক্ষী। প্রেম মানে না কোন জাত, মানে না বয়স, মানে না কোন বাধা। বর্তমান বিশ্বে মোবাইল প্রচলন হওয়ার সুবাধে প্রেমের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতা হচ্ছে।বাড়ছে মোবাইল প্রেমের পরিধী মোবাইলে মিস কলের মাধ্যমে বন্ধু হিসাবে পরিচয় হয় খরুলিয়ার পারভীন আকতারের সাথে চকরিয়ার মোঃ হোসেনের। দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক কাছাকাছিতে নিয়ে আসে। উভয়ের সম্মতিতে প্রেমিক যুগল শহরের এক হোটেলে ইয়ে করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন। পরবর্তীতে মডেল থানা কম্পাউন্ডে উভয়ের অভিভাবকের সম্মতিতে আট লাখ টাকার কাবিন মূলে বিয়ে পিড়িঁতে বসানো হয়। গত ২লা মার্চ থানায় এই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
থানার প্রাপ্ত সংবাদে জানা যায়,মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হওয়ার পর থেকে ফোনালাপ চলছিল। ধীরে ধীরে ফোনালাপের ফলে নিজেদের অজান্তে তাদের মধ্যে সম্পর্ক এক সময় ভালবাসায় রুপ নেয়। চলতে থাকে তাদের মধ্যে মন দেয়া পর্ব। কখনও কখনও মান অভিমান কারনে ভালবাসার আবর্তে তাদেরকে কাঁদিয়েছে। মাঝে মধ্যে তারা গোপনে দেখা করত শহরের বিভিন্ন স্থানে। বয়সের কারনে নিজেরাই ভুল পথে পা বাড়ায়। হয়ে উঠে অবাধ্য। এক সময় উভয়ে ঠিক করে দিনভর সৈকতে আনন্দ ভ্রমন করে কাটাবে। উভয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর হোটেল মোটেল জোন এলাকায় হোটেল সী গার্ডেনে রাত্রী যাপনের উদ্দেশ্যে ১লা মার্চ বিকেলে রুম নেয়। এ এস আই মং জানান, রাত বারটার দিকে উক্ত হোটেলে এক আসামী লুকিয়ে আছে এ সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গিয়ে আটককৃতদের কথাবার্তা সন্দেহ জনক হলে জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে মেয়ে (পারভীন) অকপটে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। সে জানান, ছেলেটি(মোঃ হোসেন) তার প্রেমিক। ছেলেটির কথামত সৈকতে ঘুরতে এসে বিশ্রামের জন্য হোটেলে উঠেছি। পরে তাদের আটক করে থানায় আনা হয। এ ঘটনা জানাজানি হলে সংবাদ কর্মীরা তথ্য সংগ্রহে জন্য থানায় যায়। এদিকে থানা থেকে উভয়ের অভিভাবককে দ্রুত থানায় আসতে বলে। পরদিন ২মার্চ দায়িত্ব এএসআই উভয় পক্ষ নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক শেষে বিয়ে ফয়ছালা মাধ্যমে অভিভাবকদ্বয় সম্মতি জ্ঞাপন করেন। বিয়ের কাবিন ধরা হয় আট লাখ টাকা। পরে বিকেলের শেষ সময়ে থানার কম্পাউন্ডে সকলের উপস্থিতিতে (বর) চকরিয়া,কোণাখালীরমোক্তার আহমদের পুত্র মোঃ হোসেন(২৪)ও (কনে) খরুলিয়া সুতারচর আবদুল হাকিমের কন্যা পারভীন আকতার(২০)কে বিয়ের পিড়িতে বসানো হয়।বিয়ে শেষে উপস্থিত সকলেই মিষ্টি মুখ করা হয়।পরে মৌলভী তাদের ভবিষ্যতের দিনগুলো যেন সুখী হয় এই জন্য দোয়া কামনা করেন।ছেলের অভিভাবক পারভীনকে বউ হিসাবে গ্রহন করে বাড়ীতে নিয়ে যান।
এ সংবাদ যারা পড়বেন কেউ অন্য ভাবে নিবেন না। অল্প বয়সে এ ধরনের একটি ঘটনা অনাকাঙ্খিত। এরা আমাদেরই ভাই অথবা বোন। অভিভাবকদের কিছু ভুলের জন্য সমাজে এর চেয়ে খারাপ ঘটনা ঘটছে। অভিভাবক হিসাবে আমরা কি সন্তানদের উপর সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করছি। আমরা কেন অণ্য দশজনের মত প্রিয় সন্তানদের সঠিক পথে চালাতে পারি না। আজ কেন আমার ভাই,বোন,সন্তানরা পথভ্রষ্ঠ হয়ে বিপদ গামী হবে। কোন আজ মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ ঝুঁকবে।অভিভাবকদের আরো বেশী সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

0 Comments