Advertisement

হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্তির জন্য উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের ভিড়


কায়সার হামিদ মানিক
আজ ১০ মার্চ থেকে সারা দেশ ব্যাপী হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রনয়ন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ সুযোগে ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তির জন্য উখিয়া টেকনাফ সীমান্তের
বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরীক স্বপরিবারে অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় নিচ্ছে  রোহিঙ্গা বস্তিতে। স্থানীয়  দালাল চক্রের সহযোগীতায় এসব রোহিঙ্গারা জন্ম নিবন্ধন সহ স্থায়ী নাগরীকত্ব সনদ পত্র সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। অনুপ্রবেশকারী এসব রোগিঙ্গারা যাতে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তি করতে না পারে সে ব্যাপারে জাতীয় ইমাম সমিতির উখিয়া শাখার পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৯১ সালে উখিয়া টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী অতিক্রম করে মিয়ানমারের প্রায় ২ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন রোহিঙ্গা নাগরীক স্বপরিবারে উখিয়া, টেকনাফ ও রামু উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৯৯ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরৎ পাঠাতে সরকার সক্ষম হলেও উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ও টেকনাফের নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পে প্রায় ১৪ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এসব রোহিঙ্গারা রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় এসে সরকারী সাহায্য সহযোগীতা ভোগ করছে এরই মধ্যে ২০১০ সালের জানুয়ারী মাসে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার কুতুপালং সরকারী বন ভূমির জায়গা দখল করে আশ্রয় নেয়।
একই ভাবে টেকনাফের লেদা এলাকায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা নাগরীক বস্তি গেড়ে বসবাস শুরু করে। এসব রোহিঙ্গাদের সরকারী ভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় না দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা বন্ধ রাখায়, জীবন জীবিকার তাগিদে এসব রোহিঙ্গারা সরকারী বনাঞ্চলের মূল্যবান বন সম্পদ নির্বিচারে কর্তন করে লাকড়ি বিক্রি ও জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি সরকারী বন ভূমির পাহাড় কেটে আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহার ও টাকার বিনিময়ে হাত বদল করে আসছে। চুরি, ডাকাতি, বেইশ্যা বৃত্তি সহ নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হয়ে এসব রোহিঙ্গারা সামাজিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছে। হাতা হাতি, মারামারি, খুন এদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি এলাকা হয়ে উঠেছে মাদক সেবীর ও মাদক পাচারের নিরাপদ আস্তানা হিসাবে। এখানে হাতবাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা সহ নানা রকমের মাদক দ্রব্য। কুতুপালং বস্তি হয়ে মিয়ানমারের তৈরী ইয়াবার চালান ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা রোহিঙ্গা বস্তিতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সহ পাচারকারীদের গ্রেফতার করলেও থেমে নেই ইয়াবা ব্যবসা। এর আগে কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজিষ্ট্রার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে জাল টাকা, টাকা তৈরীর সরঞ্জাম ও স্থানীয় নাগরীকত্ব সনদ পত্র সহ ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরীককে গ্রেফতার করে।
জাতীয় ইমাম সমিতির উখিয়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মাওলানা জাফর আলম অভিযোগ করে বলেন এ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে প্রায় ৫শতাধিক রোহিঙ্গা নাগরীক ভোটারতালিকায় অন্তভূক্ত হয়ে বিগত জাতীয় ও ইউপি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তাই আগামীতে যেন রোহিঙ্গারা হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হতে না পারে সে জন্য আগে ভাগে সতর্ক করে দিয়ে নির্বাচন কমিশন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ইতি পূর্বে উখিয়া উপজেলায় প্রনিত ভোটার তালিকায় অসংখ্য রোহিঙ্গা নাগরীক বিভিন্ন উপায়ে ভোটার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান এডঃ এ.কে.এম. শাহ জালাল চৌধুরী বলেন, জেলা ও উপজেলার মাসিক আইন শৃংখলা ও সমন্বয় কমিটির সভায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের ব্যাপারে সীমান্তের বিজিবি সদস্যদের আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তথাপিও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছেনা। তিনি অবৈধ ভাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের  ধরে পুশব্যাক করার পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন বস্তিতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা গ্রামগঞ্জে অবাধে বিচরণ করার সুযোগ পেয়ে স্থানীয় শ্রমের বাজার দখল করে নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে বা আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্তির আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। তাই এসব রোহিঙ্গাদের বস্তিতে সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, বস্তিতে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রন করছে হাতে গুনা কয়েকজন ক্যাম্প পুলিশ তাই এসব রোহিঙ্গারা কখন, কোথায় যাচ্ছে তা খবর রাখা পুলিশের জন্য কষ্টকর। তবে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে ক্যাম্প প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

Post a Comment

0 Comments