Advertisement

চকরিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে ১৮০ একর জমি জবরদখলের পায়তারা


কক্সবাজার নিউজ ডট কম
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বদরখালী মৌজার ১৮০ একর খাস জমি ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে জবরদখলের পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইতিপুর্বে ওই জমি জবর দখলকারীদের গুলিতে দরবেশ কাটা এলাকার রিদুয়ান নামের এক লবণ চাষী খুন হয় । দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ও পুরুস্কারপ্রাপ্ত সমবায় প্রতিষ্ঠান বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সভাপতি আবদুল হান্নান বিএ ও স¤পাদক মো: আলী চৌধুরৗ অভিযোগ করেছেন, চকরিয়া পৌর এলাকার ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দানকারী জনৈক মোজাফফর হোসেন পল্টু একটি লাঠিয়াল বাহিনী গঠন করে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওই জমি জবরদখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সমিতির নেতৃবৃন্দ দাবী করেছেন, বদরখালী মৌজায় আর এস দাগ নং ১২, ১৩, ১৪. ১৫. ১৬ ও ১৭ দাগাদির আন্দর ৭শ ২৮ একর জমির মালিকানা দাবী নিয়ে তারা বিগত ২০১০সালের ১২ডিসেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে ৯৬৯৯/২০০০ নং একটি রীট মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বিরোধীয় ওই জমি অন্য কাউকে ইজারা প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ঠ পক্ষগণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। বর্তমানে উক্ত আদেশ  বহাল ও কার্যকর রয়েছে। এ জমি থেকে ১৮০একর চিংড়ী ও লবণ মাঠ জবর দখলের জন্য ওই আওয়ামী লীগ নেতা একটি বাহিনী গঠন করে এলাকায় প্রায় সময় ভীতিকর পরিস্থিতি র্সৃষ্টি করে থাকে  বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরহাদ জানান, পল্টুকে এ জমি জবরদখলে অনৈতিক সহযোগিতা না দেয়ায় তার উপর বিভিন্ন পন্থায় চাপ সৃস্টি করা হচ্ছে। এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূক্তভোগী জনগন জানান, ওই আওয়ামীলীগ নেতা পল্টুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। মামলা গুলো হচ্ছে চকরিয়া থানার পুলিশ কতৃক রুজু করা জিডি নং- ৭১৮/১৩/২০১০, সিপি মামলা নং- ৫৯২/২০০৯,  জি আর ১৫/২০১০ জি আর ১৩/২০০৮,  সি আর মামলা নং ১৫৮/২০০৮ এন আই এ্যাক্ট, জি আর ১৬৪/২০০৮ এন আই এ্যাক্ট, জি আর ৩২১/ ২০০৭, জি আর ১৩৮/২০০৫, সি আর ১৩৭/১১। অপর দিকে ক্ষমতাসীন দলের চকরিয়া সিনিয়র নেতারা জানান, মোজাফফর হোসেন পল্টু মুলত আওয়ামীলীগের পদবীধারী কেউ নয়। সমিতিরি নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেছেন,  পল্টু বাহিনীর নেতৃত্বে শতাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে ২০১০ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারী সমিতির মামলাধীন উক্ত জায়গা জবরদখল করতে যায়। সে সময় গুলি বিদ্ধ হয়ে স্থানীয় রিদুয়ানুল হক নামের এক দিন মজুর নিহত হয়। এ ঘটনায় কৌশলে নিহত পরিবারকে জিম্মি  করে নিজেকে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা করে পল্টু। পরে রিদুয়ান হত্যা মামলায় নিরপরাধ ৩২জন ব্যক্তিকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করায় অশিক্ষিত তার সহজ সরল পিতাকে দিয়ে। এমামলায় পল্টুর বাড়ির সাথে লাগোয়া বসবাসকারী সাংবাদিক ওমর আলী ও যুবলীগ নেতা বেলাল উদ্দিন বিজুকেও আসামী করা হয়। অথচ বাদী তাদের চেনেনা বলেও জানান।
রিদুয়ান হত্যা মামলার দুই আসামী সাংবাদিক ওমর আলী ও যুবলীগ নেতা বেলাল উদ্দিন বিজু জানান, মোজাফফ্র হোসেন পল্টুর প্ররোচনায় দিন মজুর রিদুয়ান হত্যাকান্ড ঘটেছে, যা নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এর আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। সমিতির স¤পাদক মো: আলী চৌধুরৗ জানান, সমিতির পনের শত সভ্যের নামে সমিতি লাগোয়া সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত ওই ৭শত ২৮ একর জমি দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ে যথাযথ নিয়মে আবেদন করা হয়েছে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ওই জমি অন্য কাউকে ইজারা না দেওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞাও প্রদান করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়দানকারী মোজাফফর হোসেন পল্টু এ জমির মালিকানা দাবীর পক্ষ-বিপক্ষের কেউ নন। মৌলানা আনোয়ার হোছাইন গং থেকে আমমোক্তারনামা মূলে ওই জমির মালিকানা দাবী করলেও এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে সমিতির দায়েরকৃত মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ওই জমি কাউকে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দেয়া হয়নি। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, পল্টু কথিত আমমোক্তার নামার অজুহাত দিয়ে ওই জমি জবরদখলের জন্য কয়েক দফা হামলা চালায় তাদের উপর।

Post a Comment

0 Comments