নুরুল আমিন হেলালী
সারাদিনের মেঘলা আকাশ ও ক্ষণিকের বৃষ্টিতে আকস্মিক দূর্ভোগের শিকার জনজীবন। ক্ষণিকের বৃষ্টিতে ছুটির দিনে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষগুলো কিছুটা অস্বস্তিবোধ করেছিল।
এক পসলা বৃষ্টিতেই শহরের অলি-গলি ও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাকা-আধাপাকা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বিশেষ নিচু এলাকায় হাটু পানিতে নিমজ্জিত। শহরের বড়বাজার এলাকায় রাস্তার উপর ময়লা আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত জনজীবন। এছাড়া শহীদ সরণী সড়কের গেইট থেকে স্টেডিয়াম সড়কের সংযোগ সড়ক পর্যন্ত অসংখ্য খানাখন্দে বৃষ্টির পানি জমে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল বিস্মিত হয়েছে। অপরদিকে সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কর্মমুখী মানুষগুলোর। দরিদ্র পরিবারগুলোর বাড়িঘর গুলোও পড়েছিল বেহার দশায়। জানা গেছে, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা সমূহের জেলে পল্লীতেও অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের পরিবারগুলোও দিন কাটিয়েছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। ক্ষণিকের এই বৃষ্টিতে ভাসমান মানুষগুলো পড়েছিল চরম দূর্ভোগে। বর্ষা শুরুর আরও অনেক সময় বাকি থাকতে অসময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় শহরের জনপদে দূর্ভোগের সংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকার কাঁচঘর বাড়ি ও অসহায় পরিবারের ঘুম যেন এখন থেকে হারাম হওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঈলশে গুড়ি বৃষ্টিতে কর্মজীবি মানুষ ও পর্যটক ঘরে ও হোটেল রুমে নিরলস সময় পার করিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গ্রামের নিচু এলাকার বাড়িঘর গুলোতে থাকা দুস্কর হয়ে পড়েছে। এছাড়া বড়বাজারের ময়লা আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বৌদ্ধ মন্দির সড়কের উপর পানি জমে থাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাজারঘাটার দুঃখ মুছলেও বৃষ্টির কারণে বিস্মিত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দেখা গেছে প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজট। শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলরত অবৈধ রিক্সা, টমটম, সিএনজি দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় কমেনি যানজট বেড়েছে দূর্ভোগ। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বৌদ্ধমন্দির সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, থানার পিছন রোড, এন্ডারসন রোড, বাহারছড়া সড়ক, তারাবনিয়ার ছড়া সড়ক, পেশকার পাড়া রোড, কেন্দ্রিয় মসজিদ সড়ক, সুপার মার্কেট সড়ক, ঝাউতলা সড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়কে বেহাল দশা। এই সমস্ত সড়কের অসংখ্য গর্ত ক্ষণিকের বৃষ্টিতে পানি জমে পথচারিরা পড়েছে বিপাকে। অপরদিকে ট্যুরিস্ট জোন খ্যাত হোটেল-মোটেল এলাকার কাঁচা সড়ক গুলোর অবস্থা আরও নাজুক। দেখা গেছে, কলাতলির লাইট হাউস সড়ক, স্মরণ আবাসিক এলাকা সড়ক, জিয়া গেস্ট ইন সড়ক, সী-প্যালেসের সামনের সড়কসহ পর্যটন এলাকা খ্যাত কলাতলির বিভিন্ন সড়কেও দূর্ভোগে পড়েছে পর্যটক ও এলাকাবাসি। এছাড়া সুত্রে জানা গেছে, লবণ উৎপাদন মৌসুম হওয়ায় লবণ চাষীরাও পড়েছিল অন্তহীন সমস্যায়। উৎপাদিত লবণ নিরাপদে রাখার জন্য দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। চাষীদের শুষ্ক মৌসুমে শহরের কিছু সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতি এবং অপর্যাপ্ততার কারণে সুফলভোগ করতে পারছেন না আগত পর্যটক ও পৌরবাসী। সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন হওয়ায় সকল সমস্যা লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদি শহরবাসী।

0 Comments