Advertisement

কক্সবাজার শহরে ফের ঢুকছে দুরপাল্লার বাস ॥ চরম যানজটে জনজীবন নাকাল


এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার: 
দুরপাল্লার বাসগুলো ফের কক্সবাজার পর্যটন শহরের প্রবেশ করায় শহর ও হোটেল মোটেল জোন এলাকায় ফের যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে বেড়েছে জনদূর্ভোগ। জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ নানা উদ্যোগের কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন মোটেও হচ্ছে না। 
কক্সবাজার শহরে বাঁকখালী ,সিটি বাস ও সাগর সিটি সার্ভিসের নামে যত্রতত্র যাত্রী উঠা নামা করায় যানজট আরো বেড়েছে। গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করছে তারা। এসব পরিবহনে পর্যটকদের অগ্রাধিকারের কথা এছাড়া বলা হলেও তা এখানে হচ্ছে না । এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে পর্যটক সহ স্থানীয় লোকজনও।
কক্সবাজার শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে,ট্রাক,মাইক্রোবাস,জীপ, দুরপাল্লার বড় বাস সহ ভারী যানবাহন  গুলো রাত ৮টার আগে শহরের প্রবেশের উপর বিধি আরো করা হয়েছিল। এছাড়া শহরের যত্রতত্র গড়ে উঠা বাস কাউন্টার গুলোও সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়ে ছিল গত বছর। দিনের বেলায় ওই সব ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ না করায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ফিরে পায় প্রাণচঞ্চলতা। সে সুযোগকে কাজে লাগায় ব্যাটারী চালিক ই-বাইক (টমটম) ও রিক্সা মালিক সহ চালকেরা। দিনদিন বেড়ে যায় টমটম ও রিক্সার সংখ্যা। এসব পরিবহণের কারণে এবং পুনরায় ভারী যানবাহন গুলো শহরের প্রবেশ করায় শহরের বাজারঘাটা,কালুর দোকান,হোটেল মোটেল জোনের ডায়মন্ড প্যালেস,কলাতলি মোড় ও বার্মিজ মার্কেট এলাকায় যানজটের কবলে পড়ে যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলতি বছর শহরের ব্যস্ততম কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কিন্তু যানজটের কোন উন্নতি হচ্ছে না। দিনের বেলায় শহরের ট্রাক, মাইক্রোবাস, জীপ ও দুরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ছোট-বড় সড়কগুলোতে দিনের বেলায় মাইক্রোবাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করছে। 
অভিযোগ রয়েছে , বাস টার্মিনাল এলাকার ওয়াই জনশনে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় দিনের বেলায় ট্রাকগুলো শহরে প্রবেশ করছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশও ব্যস্ত থাকে অন্য ধান্ধায়। এসব অনিয়মের ব্যাপারে পুলিশের উর্ধবতন মহলও কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।  লোকবল সংকটের কথা বলে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল,বাজার ঘাটা,হোটেল মোটেল জোন,কলাতলি স্পটে আয়-উৎকোচ বেশি হয় সেখানে থাকে পুলিশ। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ স্পটে ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিলে না। দিনের বেলায় শহরে ভেতর মাইক্রোবাস  ট্রাক  চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চলাচল করছে। 
শহরের ব্যস্ততম এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও বিপণি বিতানগুলোতে বেশীর ভাগেরই গাড়ি পার্কিংয়ের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে সড়কের উপর গাড়ির পার্কিং করা হচ্ছে। প্রধান সড়কের হলিডে মোড় থেকে বিডিআর ক্যাম্প এলাকা পর্যন্ত এবং শহরের আভ্যন্তরিন সড়ক গুলোতে রাস্তার দুই পাশে সার্বক্ষণিক প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস,ট্রাকের পার্কিং করা হয়। বিভিন্ন প্রাইভেট কি−নিক ও হাসপাতালের সামনে প্রচুর গাড়ির পার্কিং থাকে।
ট্রাফিক পুলিশ জানায়, বেশ কিছু সিটি সার্ভিস বাস রয়েছে। শহরের যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে তারা দাবী করেন,ওয়ান ওয়ে সড়ক এবং রিক্সা ও টমটম বাইকের সংখ্যা বৃদ্ধিকে।  পৌরবাসী জানান,যানজট নিরসনে প্রশাসনের তড়িৎ উদ্যোগ জরুরী হয়ে পড়েছে । 

Post a Comment

0 Comments