শিরিন জান্নাত
ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে উখিয়া থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মোবারককে উখিয়া পুলিশ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরা বাদ থেকে অপহরনের ৪ দিন পর গত বুধবার
রাত ১০ টায় উদ্ধার করেছে। অপহরনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে গতকাল কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ ও অপহৃত সূত্রে জানা যায়, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল গফুরের ছেলে ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন (৩৩) গত ২৭ ফেব্র“য়ারী ব্যবসায়ীক কাজে সেরে ও ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে মরিচ্যা বাজার ষ্টেশনে অবস্থান করছিল। ওই দিন বেলা ১২টায় মরিচ্যা বাজার ষ্টেশন থেকে একটি কালো দামী গাড়ী থেকে এক ব্যক্তি নেমে এসে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডেকে নেয়। এ সময় গাড়ীতে বসা ৬/৭ জন ব্যক্তি উক্ত গাড়ীতে তুলে তাকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকার গহীন জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রাখে শারিরীক নির্যাতন চালায়। পরদিন ২৮ ফেব্র“য়ারী আমিরাবাদ এলাকার ছৈয়দ পাড়া গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ ইয়াজ উদ্দিন প্রকাশ ওয়াজ উদ্দিনের বাসায় নিয়ে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা মোবারকের কাছে মুক্তি পন হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবী করে। তার মুটো ফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে মুক্তিপনের টাকা নিয়ে যাওয়ার খবর পাঠায়। এ সময় এক পর্যায়ে মোবারকের কাছে থাকা চেক বই থেকে ৭ লাখ টাকার একটি চেকে স্বাক্ষর নেয়। উক্ত টাকা উঠানোর জন্য পূবালী ব্যাংক উখিয়া শাখায় অপহরনকারী চক্রের সদস্য আমিরা বাদ বাশঁখালীয়া পাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে আহমদ নবীকে উখিয়ায় পাঠায়। ঘটনাটি মোবারকের খালাতো ভাই নুর মোহাম্মদ উখিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ব্যাংকের নিচ থেকে চেক সহ আহমদ নবীকে আটক করে। পুলিশ জানায় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক গৌবিন্দ শুক্ল দাশ ও মোঃ মুকবুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও লোহাগাড়া থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ইয়াজ উদ্দিনের বাড়ী সংলগ্ন এলাকা থেকে মোবারককে উদ্ধার করে। এই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরনকারীরা মোবারককে রেখে পালিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া মোবারক জানান, অপহরণকারীরা তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মরিচ্যা বাজার ষ্টেশন থেকে পরিকল্পিত ভাবে একটি দামী গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে যায় আমিরাবাদে। সেখানে মুক্তিপনের টাকা আদায়ের জন্য তাকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন চালায় এবং এ সময় তার কাছে থাকা মরিচ্যা বাজার ষ্টেশনের একটি ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত ৯০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অপহরণকারীদের আমি চিনি না এবং তাদের সাথে কোন ধরনের ব্যবসায়ীক লেনদেন নেই। অপহরণকারীরা ঘটনার পর থেকে উপোষ রাখে। এ ঘটনায় মোবারকের খালাতো ভাই উখিয়া সদরের ফলিয়া পাড়া গ্রামের হাজী মুহাম্মদ শফির ছেলে নুর মোহাম্মদ ড্রাইভার গতকাল বৃহস্পতিবার (১মার্চ) অপহরণ মামলা দায়ের করেন। যার নং- (২) তারিখ-০১/০৩/২০১২ ইং। মামলায় অপহরণকারী দলের সদস্য আমিরা বাদ এলাকার মোঃ ইয়াজ উদ্দিন, আনিসুল হক, তাহের ও মোঃ আক্তারকে আসামী করা হয়। থানা হাজতে আটক আহমদ নবী জানান, মোবারকের সাথে ইয়াজ উদ্দিনের ব্যবসায়ীক লেনদেন ছিল। পাওনা টাকা না দেওয়ায় টাকা আদায়ের লক্ষ্যে তাকে মরিচ্যা থেকে তুলে নেওয়া হয়। পাওনা ১০ লাখ টাকার মধ্যে ৭ লাখ টাকার চেক নিয়ে টাকা উত্তোলনের জন্য তাকে উখিয়াস্থ পুবালী ব্যাংকে পাঠানো হয়। এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে অপহরণ, জোর পূর্বক ষ্ট্যাম্প আদায়, আটকে রাখা ও শারিরীক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তিনি আরও জানান, অপহরণকারীরা চট্টগ্রামের সক্রিয় বড় চক্র। আটককৃত মোহাম্মদ নবীকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়। রিমান্ডে আসলে উক্ত অপহরণকারী চক্রদের ব্যাপারে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

0 Comments