Advertisement

পেকুয়ায় লবণ চাষীরা সন্ত্রাসীদের নিকট জিম্মি


স্টাফ রিপোর্টার
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিল্পাঞ্চল খ্যাত করিয়ারদিয়ার কয়েক হাজার লবণ চাষী চলতি লবণের ভরা মৌসুমে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের নিকট জিম্মি
হয়ে পড়েছে। এখানকার লবণ চাষীরা প্রতিনিয়িত নানা হুমকি-ধমকি সহ্য করে লবণ উৎপাদনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছ্।ে
     সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ করিয়ারদিয়া। এ দ্বীপে প্রতি শুষ্ক মৌসুমে কয়েক হাজার একর জমিতে সাগরের পানি দিয়ে লবণ চাষ করে অসংখ্য লবণ চাষী। আর বর্ষা মৌসুমে এসব লবণ চাষের জমিতে চিংড়ি চাষ করেন স্থানীয়রা। প্রতি অর্থ বৎসরে সরকার করিয়ারদিয়া থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। এছাড়াও ছোট্ট এ দ্বীপে প্রায় ৫হাজারের ও অধিক মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। প্রতি বছর লবণ মৌসুমে চাষীরা জমি লাগিয়ত নিয়ে লবণের চাষ করে থাকে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে,চলতি লবণ মৌসুমের শুরুতেই করিয়ারদিয়ার লবণ চাষীদের জিম্মি করে স্থানীয় একটি চিহ্নিত চাঁদাবাজ চক্র চরমভাবে লাগামহীন হয়রানী করেই যাচ্ছে। এর ফলে করিয়ারদিয়ার লবণ চাষীরা ওই সন্ত্রাসী চক্রের হাতে প্রতিনিয়ত নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
     স্থানীয় করিয়ারদিয়ার লবণ চাষীরা অভিযোগ করে জানান,করিয়ারদিয়ায় চলতি লবণ মৌসুমে স্থানীয় আনছারুল করিমের পুত্র মুজিবুর রহমান প্রকাশ মুজিব ডাকাতের নেতৃত্বে  শাহাজাহান,পেয়ারু,আজিজুল হক,আরো ১০/১২ জনের একদল লোক প্রতিনিয়ত স্থানীয় লবণ চাষীদের লাগামহীন হয়রানী করেই যাচ্ছে। সন্ত্রাসী চক্রের এহেন হয়রানীতে অতীষ্ট হয়ে উঠেছে করিয়ারদিয়ার লবণ ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক লবণ চাষীরা। জানা যায়, ওই মুজিবুল হক পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জিয়াবুল হক জিকুর ভাই। সেই সুবাধে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে মুজিবুল হক করিয়ারদিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কয়েম করেছে। বেপরোয়া হয়ে লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
      পেকুয়া থানা সূত্রে জানা গেছে,ওই মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে মহেশখালী,পেকুয়াসহ বিভিন্ন থানায় পুলিশ হত্যা,ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ডজন মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ওয়ারেন্ট ও রয়েছে এ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। করিয়ারদিয়া দূর্গম এলাকা হওয়ায় ওই সন্ত্রাসী বারবার পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে এলাকায় অবস্থান এসব অপরাধ কর্মকান্ড শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই পেকুয়া থানা পুলিশ এ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করতে বেশ কয়েকবার অভিযান ও চালিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
      এ ব্যাপারে করিয়ারদিয়ার বিশিষ্ট লবণ ব্যবসায়ী শফিউল আলম চৌধুরী,আজিজুল হক,হেলাল,রফিক,শাহাব উদ্দিন,এনামুল হক ও শেকাব উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীরা গতকাল বুধবার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান,ওই চিহ্নিত মুজিব ডাকাত ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের নানা হয়রানী,অত্যাচার ও নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তাই আমরা করিয়ারদিয়ার চিহ্নিত ডাকাতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নিকট জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
      এ ব্যাপারে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,করিয়ারদিয়ায় সাধারন লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীদের হয়রানী বন্ধে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পুলিশ শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করবে। কোন ভাবেই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন

Post a Comment

0 Comments