Advertisement

ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা গ্রেপ্তার ২৬


ডেস্ক রিপোর্ট
ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রেই সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। ধানসিঁড়ি, গোলাপ, জবা, পদ্মা ও কপোতাক্ষ নামের ৫ সেট প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এদিকে
প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা শুধু রংপুর বিভাগেই ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশের অন্যান্য স্থানেও পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অধিকাংশ স্থানেই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে। এরপরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ পরীক্ষা স্থগিত করেনি। এদিকে অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গতকাল অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা) সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। গতকাল সকাল ১০টায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশের সাড়ে ১০ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ
গাইবান্দা প্রতিনিধি জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করার সন্দেহে গত কালকের আগের রাত ১১টার দিকে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের একটি ফটোকপি দোকান থেকে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত হলোÑ জয়েনপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৫), রফিকুল ইসলাম (৪০) ও হবিল্লাপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম (৩৫)। সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল সরকার বলেন, গত কালকের আগের রাত ১১টার দিকে সাদুল্যাপুরে একটি কম্পিউটার কম্পোজ ও ফটোকপির দোকানে কিছু প্রশ্নপত্র ফটোকপি করার সময় এদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছে ৬ সেট প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিন সেট হচ্ছে জবা, গোলাপ ও ধানসিঁড়ি।
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফটোকপি করার অপরাধে পুলিশ শহরের আরবি কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান বন্ধ করে দেয়। এ অপরাধে দোকান কর্মচারী মনিরকে আটক করে। পুলিশ জানায়, গভীর রাতে (রাত ১২টার সময়) এনএসআই সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই দোকানে যায়। এসময় ৭/৮ জন ব্যক্তি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ফটোকপি করছিল। এনএসআই সদস্যদের দেখে তারা পালিয়ে যায়। তবে তারা গোলাপ, জবা, পদ্মা ও কপোতাক্ষ নামে চার সেট প্রশ্নপত্র আটক করে । পরে পঞ্চগড় থানা পুলিশ খবর পেয়ে ফটোকপি মেশিন জব্দ করে। খবর পেয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার শাহারিয়ার রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানান, পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুমন ও খোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনসুর এসব প্রশ্নপত্র ফটোকপি করতে দিয়েছিলেন। পঞ্চগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন রেজা জানান, ফটোকপি মেশিন ও চার সেট প্রশ্নপত্র জব্দ করা হয়েছে। দোকান কর্মচারী মনিরকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, সকালে পরীক্ষা শুরুর পর আসল প্রশ্নের সঙ্গে এর মিল পাইনি।

Post a Comment

0 Comments