মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম,টেকনাফ:
হোয়াইক্যংয়ের বনভূমিতে সৃজিত অংশীদার ভিত্তিক সমাজিক বনায়নের মূল্যবান গাছ উজাড়ে নেমেছে প্রভাবশালী চক্র। বনের উজাড় করা কাঠ পাচারের পাশাপাশি সিন্ডিকেট সদস্যরা সরকারী বনভূমি অবৈধ দখলে নিয়ে পাহাড় কেটে বসত ভিটা ও ছনখোলা তৈরি করছে।এসব বন ভুমি বিভিন্ন রোহিঙ্গা ও স্থানীয় লোকজনকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এতে বনের পরিবেশ মারাত্বক হুমকির সম্মোখীন হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায় হোয়াইক্যং লাতুরি খোলা এলাকার ২০ হেক্টর সমাজিক বনায়ন উজাড় করে বনভূমি অবৈধ দখলে নিতে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠে প্রভাবশালীরা। নিধন করে বনের ২ শতাধিক গাছ। বর্তমানে বনের একাংশ জবর দখলে নিয়েছে ভুমি দস্যুরা।
জানা যায়, সম্প্রতি গত ১৮ ফেব্রয়ারী প্রকাশ্য দিন দুপুরে নির্বিচারে বনের গাছ উজাড় কালে উপকার ভোগী বনের সদস্যদের সাথে কাঠচোরদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বনকর্মী ও উপকার ভোগীরা কাঠচোরদের কর্তন করা প্রায় ৪০/৫০ ঘনফুট কাঠ উদ্ধার করেন। এর পরও বনের মুল্যবান গাছ উজাড় অব্যাহত রয়েছে। এদিকে লাতরী খোলা, উপরের চাকমা পাড়া, দৈংগা কাটাসহ বিভিন্ন এলাকার সৃজিত সামাজিক বনায়নেও নিধন চলছে সমান তালে। এসব বন উজাড়ে জড়িত রয়েছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ২০ জনের অংশীদারীত্ব উক্ত সামাজিক বনায়নের সভাপতি আবুল হাশেম ( সাবেক এম ইউ পি) সহ বিভিন্ন উপকার ভোগী সদস্যরা জানান, স্থানীয় লাতু চাকমা, আব্দুল গফ্ফার, মোহাম্মদ আলী, পেটান, বদী আলম, আমির হোসেন ও তীমং চাকমাদের একটি সিন্ডিকেট ধারালো অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে দল বেধে বনে প্রবেশ করে করাত দিয়ে একের পর এক গাছ উজাড় করতে থাকে। খবর পেয়ে উপকারভোগীরা বাধা দিলে তাদেরকে ধাওয়া করে। পরে স্থানীয় রইক্ষং বিটের বন প্রহরীদের নিয়ে কাঠচোরদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বন কার্মীরা বেশ পরিমাণ গাছ উদ্ধার করেন। এভাবে লতুরী খোলা এলাকার বিভিন্ন বনের সৃজীত মূল্যবান কাঠ উজাড় হচ্ছে। এই ব্যাপারে কাঠচোরদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানিয়েছেন এলাকা বাসী।

0 Comments