Advertisement

সাগর-রুনি হত্যা: ফতুল্লায় আটক ১, চলছে বিরামহীন অভিযান

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


ঢাকা: সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যায় জড়িত সন্দেহে রাজধানীর অদূরে ফতুল্লা থেকে আবদুল হালিম নামে একজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বুধবার রাতে ব্লক রেইড দিয়ে নিজ ভাড়াবাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর থেকেই তার ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আটককৃতর বাড়ি সোনারগাঁও-এর মারুফদী গ্রামে বলে সূত্র জানিয়েছে। তার বাবার নাম সোহরাব হোসেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতর কাছ থেকে অন্যান্য জড়িতদের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় সূত্র।
সূত্রটি আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তিটি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পূর্বাপর ব্যাখ্যা করেছে। এবং তার ভিত্তিতে গত তিন দিন আরও বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এসব অভিযানেও ঘটনার মূল হোতাদের ধরার বিষয়ে বেশ ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
আটককৃতকে নিরাপদে রেখে তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে তার ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশর চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল হালিম ফতুল্লা থানাধীন একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ওই ভাড়া বাসা থেকেই গ্রেপ্তার করে।
সুত্র বলছে, সকল আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার হলেই যে কোন সময় প্রকৃত রহস্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
এই মামলার আসামি গ্রেপ্তার অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদে অংশগ্রহণকারী গোয়েন্দা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই খবর জানায়।
সুত্র আরো জানায়, হত্যা মামলাটি তদন্তের ক্ষেত্রে সবশেষ যে কয়টি দিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে আটককৃত হালিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য  একটি উল্লেখযোগ্য দিকেরই ফসল। হালিম সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যে সকল কথা বলেছেন, তার মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পুর্বের পরিকল্পনা, হত্যাযজ্ঞের বর্ননা ও হত্যাকাণ্ডের পর খুনীদের আত্মগোপন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।
হালিমের দেয়া তথ্যে এই হত্যাকাণ্ডে কয়জন খুনী অংশ নেয়, তাদের নাম ও ঠিকানা রয়েছে। ঔ সব তথ্য যাচাই করছে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও উচ্চ পদস্থরা।
সুত্র জানায়, আটকের পর হালিমকে বিভিন্ন দপ্তরে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসব জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া তথ্য গুলো সঠিক কি না! তা বিভিন্নভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে আলাদা আলাদা ভাবে হালিমের জবানবন্দী নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে হালিমের দেয়া তথ্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
অপরাপর আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করার জন্য আটককৃত হালিমকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে রেখে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরামহীন অভিযান চলছে ফলে বার বার হালিমের অবস্থানও বার বার পরিবর্তন হচ্ছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সুত্র জানায়, মিডিয়ার কড়া নজরধারির কারণেই  শতভাগ নিশ্চিত হয়ে এবং সহযোগিদের গ্রেপ্তার করার পর এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ননা উপস্থাপন করা হবে।
সূত্র বলছে, আদালতে হালিমের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ডের পর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের আলোকে সাংবাদিকদের সামনে সকল আসামিকে হাজির করার লক্ষ্যেই এখনি কোন কিছু প্রকাশ করা  হচ্ছে না। বিশেষ করে চমক দেখিয়ে সরকারের সফলতা প্রমানের জন্য এই ক্ষেত্রে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সুত্রের দাবি, সাগর-রুনি হত্যার রহস্য খুব দ্রুত উন্মোচন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের নিউজ এডিটর সাগর সরোয়ার ও এটিএন বাংলা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি নিজ ফ্ল্যাটের বেডরুমে নৃশংস ভাবে খুন হন।
হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও এর রহস্য উদঘাটন হচ্ছে না। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

Post a Comment

0 Comments