মুন্সীগঞ্জ, ২৫ ফেব্রুয়ারি: সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ডিবি পুলিশ কর্তৃক মুন্সীগঞ্জে দুজনকে আটক নিয়ে ধ্রমুজালের সৃষ্টি হয়েছে।
আটককৃতরা হচ্ছেন মুরাদ (৩৫) ও আলামিন (২৫)। পড়ে আলামিনকে সদর থানায় হস্তান্তর করে ডিবি পুলিশ। সদর থানা পুলিশ শনিবার তাকে ছেড়ে দিলেও মুরাদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রী মুরাদকে গ্রেফতার না দেখিয়ে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ বিষয় পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।
এদিকে মুরাদের সন্ধান না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এখন উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হতদরিদ্র এই পরিবারের উপার্জনক্ষম ছেলেটির সন্ধান পেতে এদিক-সেদিক দৌড়ঝাঁপ করছেন বৃদ্ধ বাবা মহিউদ্দিন। মুরাদের তিন বছরের শিশুকন্যা বাবাকে খুঁজছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোর চারটায় ডিবি পুলিশের হাতে আটক হওয়া মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়াস্থ মুরাদের ভাগ্যে কী ঘটছে তা তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা এখন পর্যন্ত জানতে পারছে না। তাদের শঙ্কা ডিবি পুলিশের কথা বলে বর্তমানে যে মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে তেমন কিছু মুরাদের ভাগ্যে ঘটে যায় কিনা।
এদিকে তাদের আটকের বিষয়টি সদর থানা পুলিশ পুরোপুরি চেপে যান। তাদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ রহস্যজনক ভূমিকা নেয় থানা। কিন্তু পুরো শহরে সাগর-রুনি হত্যা মামলায় তাদের আটকের কথা ছড়িয়ে পড়লেও সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি রহস্যই থেকে যায়।
পুলিশ কোনো তথ্য না দেয়া ও সংবাদটি স্পর্শকাতর হওয়ায় সাংবাদিকরা সংবাদটি পরিবেশন থেকে বিরত থাকে।
মুরাদের মার দাবি, তার ছেলে দীর্ঘদিন যাবত ইলেকট্রিক মিস্ত্রীর কাজ করে আসছে। কখনোই সে সমাজবিরোধী কাজে জড়িত ছিল না। মুরাদের বাবা মহিউদ্দিন বেপারী বলেন, শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ১০/১২ জনের সাদা পোশাকধারীর একটি দল তার মালপাড়াস্থ ছোট্ট মুদি দোকানের সামনে আসে। এ সময় তিনি দোকানের ঝাঁপ খুলছিলেন। এসময় তারা তার দিকে এগিয়ে তার ঝাঁপ খোলার ব্যাপারে সাহায্য করে কুশলাদি জানতে চায়। এক পর্যায়ে তার ছেলে মুরাদের কথা শুনে তাকে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং মুরাদকে ডেকে ওঠায়। আইনের লোক বলে পরিচয় দিয়ে তারা তার সেলফোনটি আনতে বলে। পড়ে সেলফোনটি নিয়ে এলে তা পরীক্ষা করে তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যায়। পরে আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আবুল বাশার বার্তা২৪ ডটনেটকে বলেন, মুরাদকে ডিবি পুলিশ নিয়ে গেছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে, মুরাদের সঙ্গে আটক হওয়া আল আমিনকে সদর থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।


0 Comments