Advertisement

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক লবণের পানিতে পিচ্ছিল


কায়সার হামিদ মানিক
লবণের পানিতে পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কপথ। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মনীতি উপেক্ষা করে অপরিকল্পিত লবণ পরিবহনের ফলে যানবাহন থেকে
নির্গত লবণের পানিতে সড়কপথ পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। যে কারনে চালক গাড়ীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে। গত ১ মাসে এ সড়কে দুর্ঘটনায় অসংখ্য যাত্রী, পথচারী আহত হয়েছে।লবণের ঘাটি নামে পরিচিত টেকনাফ উপজেলায় উৎপাদিত লবণসমূহ ৮০ দশক পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে চালান হয়ে আসছিল। এক সময় সমুদ্রপথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে অনেক ব্যবসায়ী নিখোঁজসহ ব্যবসায়ীর মালামাল ও টাকা পয়সা লুঠপাট হয়ে যাওয়ায় লবণ ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথ নিরাপদ মনে না করে সড়কপথে উৎপাদিত লবণ বাজারজাত শুরু করে। যার কারণে লবণের পানিতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কপথ পিচ্ছিল হয়ে পড়ে প্রতিদিন অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিহত করার লক্ষ্যে তৎকালীন জেলা প্রশাসক লবণ পরিবহনের ক্ষেত্রে নীতিমালা জারি করেন। তৎমধ্যে গাড়িতে লবণ বোঝাইয়ের পূর্বে গাড়ির পাঠাতনে মোটা সাইজের পলিথিন পেতে রেখে লবণ বোঝাই করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেন। যে সমস্ত যানবাহন উক্ত নির্দেশ অমান্য করে লবণ বোঝাই করে তাদেরকে তাৎক্ষণিক জরিমানার বিধান রেখে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এদিকে পলিথিন ক্রয় বাবদ অতিরিক্ত ব্যয়ভার লবণ মালিক বহন করবে, না, গাড়িচালক বহন করবে,তা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য হওয়ার সুবাদে পলিথিন ছাড়াই লবণ পরিবহন চলতে থাকে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সচেতন মহলের পক্ষে অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন অপরিকল্পিত লবণ বোঝাইয়ের ফলে একদিকে যেমন সড়ক ও রাস্তার ধারণক্ষমতা বিলুপ্ত হচ্ছে অপরদিকে লবণ বোঝাই গাড়ি থেকে নির্গত হওয়া লবণের পানিতে সড়কপথ পিচ্ছিল হয়ে একাকার হচ্ছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কপথ কোনভাবে নিরাপদ নয় বলে তিনি মতামত ব্যর্থ করেন। সম্প্রীতি কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের টিভি রিলে কেন্দ্রস্থ এলাকায় আটকে পড়া অতিরিক্ত লবণ বোঝাই ট্রাকচালক ওমর শরীফ এর সাথে কথা বলে জানাযায়, পলিথিন ব্যবহার করলে লবণের পানি মজুদ হয়ে লবণ দ্রুত তরল হয়ে পড়ার ভয়ে ব্যবসায়ীরা পলিথিন ব্যবহার করে না। তা ছাড়া একটি পলিথিন ক্রয় করতে ৮-৯ শত টাকার দরকার। এ টাকা লবণ মালিক দিতে চায় না বিধায় পলিথিনবিহীন লবণ পরিবহন করা হচ্ছে। অপরদিকে হ্নীলা কাঞ্জর পাড়া গ্রামের লবণ ব্যবসায়ী আলি আকবর বলেন, আমি চুক্তিমত ভাড়া পরিশোধ করবো। লবণ কিভাবে পরিবহন করবে তা চালকের ব্যাপার। চালকেরা ইচ্ছা করে পলিথিন ব্যবহার করছেনা বলে তার অভিযোগ। টেকনাফ ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি হাশেম মেম্বার বলেন, লবন পরিবহনের আগে পলিথিন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু কিছু ভিন্ন এলাকার যানবাহন তাদের নির্দেশ অমান্য করে লবণ পরিবহন করায় সড়কের এ দ-র্গতি হচ্ছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি হাজার পর্যটক সেন্টমাটিন ও টেকনাফ ভ্রমণ করার জন্য তাদের বিলাশ বহুল গাড়ী নিয়ে যাতায়াত করছে। পথে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা ও সড়কের করুন অবস্থা প্রত্যক্ষ করার ফলশ্র“তিতে বিদেশের মাঠিতে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুর্ণ হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, লবনবাহী ট্টাকের নিচ থেকে নির্গত হওয়া লবণের পানি রাস্তা ও ব্রীজের উপরে পড়ার কারণে ও অতিরিক্ত লবণ বোঝাইয়ের ফলে সড়ক পথে গুনগতমান ক্রমশ হ্্রাস পেয়ে নির্ধারিত মেয়াদকালের আগেই খানাখন্দকে পরিপূর্ণ হচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক পথ। যার ফলে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত মালামাল বোঝাই যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অচিরেই পুলিশি অভিযান শুরু করা হবে।

Post a Comment

0 Comments