সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে রহস্য উদঘাটনে বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব এখন পাননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশি¬ষ্ট সূত্র। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে গোয়েন্দারা প্রায় নিশ্চিত। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছে, খুনের পরিকল্পনাকারী হিসেবে একাধিক সন্দেহভাজনকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোন প্রমাণ এখনও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সন্দেহভাজনরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না পুলিশ। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম রাজাবাজার ও রাজধানীর অদূরে গাজীপুর এলাকা
থেকে সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করেছেন গোয়েন্দারা। তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পরও তাদের সংশি¬ষ্টতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। খুনের নেপথ্যে থাকা সন্দেহভাজনদের মোবাইল কললিস্ট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের দুজন ভাড়াটে কিলার বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশি¬ষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তদন্ত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ব¬ক রেইড দিয়ে রাজধানীর রাজাবাজার এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে। আটকৃত যুবক এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির বন্ধু তানভীরের ঘনিষ্টজন। ঘটনার রাতে তানভীরের সঙ্গে ওই যুবক মোবাইল ফোনে ১৩ বার কথা বলেছে। গভীর রাত পর্যন্ত তার সঙ্গে কি কথা হয়েছে তা জানার জন্যই তাকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে রাজধানীর অদূরে গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আরও দুজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। গাজীপুর থেকে আটককৃত দুজন পেশাদার খুনি। প্রথম থেকেই পুলিশ ও চিকিৎসকরা লোমহর্ষক ওই জোড়া খুনের সঙ্গে অপেশাদার ঘাতকদের জড়িত থাকার কথা বললেও এখন পেশাদার খুনীদের সম্পৃক্ততা খুজছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ১০ ফেব্র“য়ারি রাত দেড়টার দিকে সাগর অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর বহিরাগত কেউ মেইন গেট দিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে ঢোকেনি। ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে ওই পথে কারও ভেতরে ঢোকা কিংবা বাইরে বের হওয়াও সম্ভব না। এক্ষেত্রে ঘাতকদের আগে থেকেই ওই বাসায় অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত। কিন্তু কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রথমত, সাগর তার প্রকাশ্য শত্র“দের কাউকে বাসার ভেতর দেখে কেন তাৎক্ষণিকভাবে সর্তক হননি? তিনি কেন নিজেকে নিরাপদ ভেবে অফিসের পোশাক ছেড়ে ‘¯ি¬পিং ড্রেস’ পড়লেন? নাকি খুনিরা বাসার ভেতরে সাগরের চোখের আড়ালে কোথাও লুকিয়ে ছিলেন? তাদেরকে খুনি না ভেবে রুনি কি তাদের লুকিয়ে থাকতে সহায়তা করেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন গোয়েন্দারা। এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা যে সব তথ্য দিয়েছিলেন-এর অনেকটাই ছিল ভুল। তদন্তের শুরুতে রুনির ঘনিষ্ট বন্ধু তানভীর সম্পর্কে কোনও তথ্য তিনি পুলিশকে দেননি। অথচ তানভীরই প্রথম সাগর-রুনির খুন হওয়ার কথা তাকে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি একেবারে চেপে যান। নুরুন নাহার মির্জা মেয়ে ও মেয়ে জামাতার শোকে স্তব্ধ হয়ে পরায় এসব তথ্য পুলিশকে দেননি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি তা গোপন করেছিলেন তা এখন গোয়েন্দাদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। ঘটনার দিন সকালে সাগর-রুনির ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা কিছু টের পাওয়ার আগে তানভীর কীভাবে খুনের ঘটনা জানলেন? তানভীরের মোবাইলের ‘ফোন বুকে’ রুনির মায়ের নম্বর সেভ করা কেন? তানভীর কী মাঝে মধ্যেই তাকে ফোন করতেন? নাকি ওইদিনই প্রথম টেলিফোন করেছিলেন এসব প্রশ্নের জবাবও খোঁজা হচ্ছে। অন্যদিকে শিশু মেঘ ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিল, তার বাবা-মাকে খুন করার আগে খুনিরা বাইরে থেকে তার ঘরের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। যে কারণে সে তাদের আর্তচিৎকার শুনে ঘরের বাইরে বের হতে পারেনি। তবে রুনির সঙ্গে বাসায় আসা ‘আঙ্কেলরা’ ভোরে চলে যাওয়ার আগে দরজার ছিটকিনি খুলে দেয় বলে মেঘ পুলিশকে জানায়। তবে মেঘের এমন তথ্য গোয়েন্দারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। খুনের পর ঘাতকদের মধ্যে মানবিক কোনও বিষয় কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘের রুমের দরজা ঘাতকরা খুলে দিয়েছে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এছাড়া চিনে ফেলতে পারে এ আশঙ্কায় কিলাররা শিশু মেঘকেও খুন করতে পারত কিন্তু তা করল না কেন? শিশু মেঘ চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করতে পারত খুনিরা এ ভয় পেল না কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা গোয়েন্দাদের। গত ১০ ফেব্র“য়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার ৫৮/এ/২ নম্বর ভবনের এ-৪ ফ্ল্যাটে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি।
থেকে সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করেছেন গোয়েন্দারা। তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পরও তাদের সংশি¬ষ্টতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। খুনের নেপথ্যে থাকা সন্দেহভাজনদের মোবাইল কললিস্ট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই তিন জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের দুজন ভাড়াটে কিলার বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশি¬ষ্ট এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তদন্ত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে গোয়েন্দা পুলিশ ব¬ক রেইড দিয়ে রাজধানীর রাজাবাজার এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে। আটকৃত যুবক এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির বন্ধু তানভীরের ঘনিষ্টজন। ঘটনার রাতে তানভীরের সঙ্গে ওই যুবক মোবাইল ফোনে ১৩ বার কথা বলেছে। গভীর রাত পর্যন্ত তার সঙ্গে কি কথা হয়েছে তা জানার জন্যই তাকে আটক করেছে পুলিশ। একই রাতে রাজধানীর অদূরে গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আরও দুজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। গাজীপুর থেকে আটককৃত দুজন পেশাদার খুনি। প্রথম থেকেই পুলিশ ও চিকিৎসকরা লোমহর্ষক ওই জোড়া খুনের সঙ্গে অপেশাদার ঘাতকদের জড়িত থাকার কথা বললেও এখন পেশাদার খুনীদের সম্পৃক্ততা খুজছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ১০ ফেব্র“য়ারি রাত দেড়টার দিকে সাগর অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর বহিরাগত কেউ মেইন গেট দিয়ে তাদের ফ্ল্যাটে ঢোকেনি। ফ্ল্যাটের রান্নাঘরের বারান্দার গ্রিল কেটে ওই পথে কারও ভেতরে ঢোকা কিংবা বাইরে বের হওয়াও সম্ভব না। এক্ষেত্রে ঘাতকদের আগে থেকেই ওই বাসায় অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত। কিন্তু কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছে না তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রথমত, সাগর তার প্রকাশ্য শত্র“দের কাউকে বাসার ভেতর দেখে কেন তাৎক্ষণিকভাবে সর্তক হননি? তিনি কেন নিজেকে নিরাপদ ভেবে অফিসের পোশাক ছেড়ে ‘¯ি¬পিং ড্রেস’ পড়লেন? নাকি খুনিরা বাসার ভেতরে সাগরের চোখের আড়ালে কোথাও লুকিয়ে ছিলেন? তাদেরকে খুনি না ভেবে রুনি কি তাদের লুকিয়ে থাকতে সহায়তা করেছিলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন গোয়েন্দারা। এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা যে সব তথ্য দিয়েছিলেন-এর অনেকটাই ছিল ভুল। তদন্তের শুরুতে রুনির ঘনিষ্ট বন্ধু তানভীর সম্পর্কে কোনও তথ্য তিনি পুলিশকে দেননি। অথচ তানভীরই প্রথম সাগর-রুনির খুন হওয়ার কথা তাকে জানিয়েছিলেন। বিষয়টি তিনি একেবারে চেপে যান। নুরুন নাহার মির্জা মেয়ে ও মেয়ে জামাতার শোকে স্তব্ধ হয়ে পরায় এসব তথ্য পুলিশকে দেননি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি তা গোপন করেছিলেন তা এখন গোয়েন্দাদের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। ঘটনার দিন সকালে সাগর-রুনির ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা কিছু টের পাওয়ার আগে তানভীর কীভাবে খুনের ঘটনা জানলেন? তানভীরের মোবাইলের ‘ফোন বুকে’ রুনির মায়ের নম্বর সেভ করা কেন? তানভীর কী মাঝে মধ্যেই তাকে ফোন করতেন? নাকি ওইদিনই প্রথম টেলিফোন করেছিলেন এসব প্রশ্নের জবাবও খোঁজা হচ্ছে। অন্যদিকে শিশু মেঘ ঘটনার পর সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিল, তার বাবা-মাকে খুন করার আগে খুনিরা বাইরে থেকে তার ঘরের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। যে কারণে সে তাদের আর্তচিৎকার শুনে ঘরের বাইরে বের হতে পারেনি। তবে রুনির সঙ্গে বাসায় আসা ‘আঙ্কেলরা’ ভোরে চলে যাওয়ার আগে দরজার ছিটকিনি খুলে দেয় বলে মেঘ পুলিশকে জানায়। তবে মেঘের এমন তথ্য গোয়েন্দারা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। খুনের পর ঘাতকদের মধ্যে মানবিক কোনও বিষয় কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের পর সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘের রুমের দরজা ঘাতকরা খুলে দিয়েছে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এছাড়া চিনে ফেলতে পারে এ আশঙ্কায় কিলাররা শিশু মেঘকেও খুন করতে পারত কিন্তু তা করল না কেন? শিশু মেঘ চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জড়ো করতে পারত খুনিরা এ ভয় পেল না কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা গোয়েন্দাদের। গত ১০ ফেব্র“য়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার ৫৮/এ/২ নম্বর ভবনের এ-৪ ফ্ল্যাটে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি।


0 Comments