Advertisement

বিট কর্মকর্তার সহযোগিতায় উখিয়ার ওয়ালা বিটের ১১৬৬ হেক্টর বনভূমি সবকটি বেহাত হয়ে যাচ্ছে

শফিউল ইসলাম আজাদ, উখিয়া:
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার সর্ববৃহত্তম অভয়ারণ্য হিসাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বনাঞ্চলে সংঘবদ্ধ বনদস্যুদের ধারাবাহিক বন সম্পদ লুটপাট ও পাচার বাণিজ্যের ফলে উখিয়া ও ইনানী বনরেঞ্জের প্রায় ৪৩ হাজার হেক্টর বনভূমি উজাড় হতে চলেছে। বর্তমানে সরকারী বনভূমির দখল বিক্রি অব্যাহত থাকলেও দেখার কেউ নেই। এভাবে বন নিধনযজ্ঞ ও পাহাড় কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মান চলতে থাকলে  আগামীতে বন সৃজনের মতো আর কোন পরিবেশ থাকবেনা বলে মনে করছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল।
উখিয়া বনরেঞ্জের আওতাধীন সদর বিটের ৩ হাজার হেক্টর বনভূমি পরিদর্শন করে দেখা যায়, প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এসব স্থাপনার মালিকদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, ইতিপূর্বে বন বিভাগের লোকজন তাদের ঘরবাড়ী কয়েকবার ভেঙ্গে দিয়েছে। বর্তমানে তারা বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পুনরায় ঘরবাড়ী মজবুত করে বেধেছেন। এভাবে শিলের ছড়া, মুহুরীপাড়া, ফলিয়া পাড়া, মধুর ছড়া, কুতুপালং বাগানের পাহাড়, টিএন্ডটি, হাঙ্গরঘোনা, আমতলী, দরগাবিল, হাতিমোরা, লম্বাঘোনা, এলাকা জুড়ে ৩ হাজার ৩০ হেক্টর বনভুমির বিগত ২০০৪ ও ২০০৫ সালে ৩শতাধিক হেক্টর বনভুমির সামাজিক বনায়নের আওতায় এনে সুফলভোগীদের মধ্যে দলিল হস্তান্তর করা হলেও বাকী ২ হাজার ৭শত হেক্টর বনভুমি বেহাত হয়ে গেছে। তৎমধ্যে ২০০৯-১০অর্থ বছরে ১২০ হেক্টর বনভূমি সামাজিক বনায়নের আওতায় আনার জন্য সুফলভোগীর তালিকা প্রণয়ন সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ক্ষমতাসীন দলের গুটি কয়েক পাতি নেতার অবৈধ হস্তক্ষেপের কারনে দলিল হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ঐসব বনভুমিতে শতশত অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে সংশ্লি¬ষ্ট বিট কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে। 
বিশেষ করে উখিয়া ওয়ালা বিটের ১১৬৬হেক্টর বনভূমির জায়গা বর্তমানে সবকটি বেহাত হয়ে গেছে, এসব বনভূমির উপর বিভিন্ন স্থান থেকে বহিরাগত লোকজন এসে বসতবাড়ী নির্মান করলেও বন বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের রহস্যজনক কারনে  কোন কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেই। এজন্যে অনেকে আবার সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারকে দায়ী করে বলেন, বনভূমি দখলকারীদের সাথে বিট অফিসারের যোগসাজসে বন ভূমি দখল করে নিচ্ছে বলে তারা সাংবাদিকদের জানান। 
এছাড়া থাইংখালী বিটের ৫৪৭৫ হেক্টর বনভুমিতে বর্তমানে ৩টি অবৈধ সমিল স্থাপন করে দিনরাত চোরাই কাঠ সাইজ, পাহাড় কেটে মাটি উত্তোলন সহ শতশত অবৈধ  স্থাপনা গড়ে উঠার ফলে উক্ত বনভুমি বেদখলে চলে গেছে। বিট কর্মকর্তা এঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লোকবল সংকটের কারনে তারা বন সম্পদ, ও বন ভূমি রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। 
২০০৯-১০ অর্থ বছরে উক্ত বনভুমির আওতায় শতাধিক হেক্টর বনভুমি সামাজিক বনায়নের সুফলভোগীদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাতকারণ বসত তা স্থগিত হয়ে যায়। দুছড়ি বিটের ২৪৭৭ হেক্টর বনভূমির সম্পূর্ণ এখন বেদখলে চলে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উপকূলের জমি জমার দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা তাদের বসত ভিটা ছড়া দামে বিক্রি করে দুছড়ি বনাঞ্চলের জায়গায় অবৈধ বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে। স্থানীয় বন বিভাগের ভিলেজার হ্যাডম্যান নামধারী দালাল চক্র মোটা অংকের টাকা নিয়ে বনভুমি দখল হস্তান্তরের অভিযোগ  উঠেছে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত দুছড়ি বন বিটের প্রায় ৫শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এভাবে উয়ালা বিটের ১১৬৬ হেক্টর, উখিয়ার ঘাট বিটের ২৩০১ হেক্টর, ভালূকিয়া বিটের ১৫৮০হেক্টর, হলদিয়া বিটের ৯০১২ হেক্টর, মোছারখোলা বিটের ২৩০৫ হেক্টর সহ ২১৪০৫ হেক্টর বনভূমি বিরানভূমিতে পরিনত হতে চলছে। এদিকে ইনানী বন রেঞ্জের আওতাধীন ২০ সহস্রাধিক হেক্টর বনভুমির মধ্যে ১০ হাজার বনভুমির মধ্যে অরন্যক ফাউন্ডেশন, শেড ও বন বিভাগ যৌথ উদ্যোগে জাতীয় উদ্যান বাস্তবায়নে পরিকল্পনা হাতে নিলেও তা শুধু কাগজ কলম ও সভা সমাবেশ সেমিনারে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়ার সহকারী বন সংরক্ষক মুহাম্মদ বশিরুল আল মামুন বলেন, জনবল সংকটের কারনে এত বড় বিশাল বনভূমি দেখা অতি কষ্টকর। এর চেষ্টা করতেছি সবকারী বন ভূমি রক্ষা করতে।  অতি দ্রুত এসব স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। 

Post a Comment

0 Comments