এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া
চকরিয়ায় এক শারিরীক প্রতিবন্ধি কিশোরীকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি অবস্থা থেকে ১জনকে আটক করেছে। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফাসিঁয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিন ছড়ারকুল গ্রামে ঘটেছে এ মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা। এঘটনার পর এলাকার লোকজনের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ওই গ্রামের আবদুল জলিলের বাড়িতে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তার প্রতিবন্ধি কিশোরী মেয়ে ময়না বেগমকে (১৫) জবাই করে হত্যা করেছে। ওই সময় কিশোরী ময়না তার ছোট দুই ভাইকে নিয়ে বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলো। ঘটনার পর পর নিহতের মামা আবদুর রহিম রক্তাত্ত অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে রাতে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। তবে সোমবার উপজেলা হাসপাতালে রেজিষ্টারে দেখা যায়, রবিবার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে ওই কিশোরীকে দুইজন লোক নিয়ে এসে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রেজিষ্টার খাতায় তাদের পরিচয় দেয়া হয়েছে ইলিশিয়ার জহির আহমদের ছেলে রুহুল আমিন ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গৌরঙ্গ ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিনের ছেলে শাহ কামাল।
এদিকে ঘটনাটি হাসপাতাল কতৃর্পক্ষের সন্দেহ হলে তারা রাতে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। ভোররাতে থানা পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরীর মামা একই ইউনিয়নের পশ্চিম সিকদার পাড়ার আজিজুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিমকে (২৮) ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক করেছে। হাসপাতাল রেজিষ্ট্রারে তাকে ভর্তি দেখানো হয়েছে (বিষপান) রোগী হিসেবে। ভর্তিও করা হয়েছে প্রায় একই সময়ে।
অপরদিকে চকরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার কামরুল আজম জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে বসতভিটার বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে নিহত হয় পশ্চিম সিকদার পাড়ার নুরুল আমিন। ওই মামলায় নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল জলিল, মাতা হামিদা বেগম বেলু ও আটককৃত মামা আবদুর রহিমসহ ১৩জনকে আসামী করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় তার বাবা পলাতক ও মাতা জেল হাজতে বন্দি রয়েছে।
চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বিষয়টি প্রসঙ্গে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অথবা অন্য কোন কারণে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছেনা। আটককৃতকে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


0 Comments